E-Paper

স্থায়ী সেন্সাস-অধিকর্তা, নিয়োগ ঘিরে শুরু চর্চা

প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, জেলা স্তরে সিএএ কমিটি আছে। সেই কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধি থাকলেও সরকারি ভাবে রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি দেওয়া হয়নি।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৭
রশ্মি কমল।

রশ্মি কমল। — ফাইল চিত্র।

দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে জনগণনা অধিকর্তা (সেন্সাস ডিরেক্টর) পদে স্থায়ী নিয়োগ করল কেন্দ্রীয় সরকার। ২০০৬ ব‍্যাচের আইএএস অফিসার রশ্মি কমলকে পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর অব সেন্সাস অপারেশনস এবং ডিরেক্টর অব সিটিজ়েন রেজিস্ট্রেশনস পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের কর্মিবর্গ এবং প্রশিক্ষণ মন্ত্রক (ডিওপিটি) রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে বলেছে, সোম অথবা মঙ্গলবারের মধ্যে নতুন পদে যোগ দিতে হবে রশ্মিকে। আধিকারিকদের মতে, এই নিয়োগের উদ্দেশ্য প্রধানত জমে থাকা সিএএ শংসাপত্রের দ্রুত নিষ্পত্তি। দ্বিতীয় কারণ, আগামী বছর জনগণনা (সেন্সাস) শুরু হবে। তার আগের প্রস্তুতি। এই নিয়োগ ঘিরে প্রশাসনের অন্দরেও চর্চা শুরু হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের (সিএএ) আওতায় জমে থাকা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে চাওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা করছেন অনেকে।

প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, জেলা স্তরে সিএএ কমিটি আছে। সেই কমিটিতে কেন্দ্রের প্রতিনিধি থাকলেও সরকারি ভাবে রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি দেওয়া হয়নি। কমিটির সদস্যেরা জেলা থেকে পাওয়া সিএএ শংসাপত্রের আবেদন যাচাই করে রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেন্সাস ডিরেক্টরের কাছে পাঠান। সেখান থেকে কেন্দ্রের কাছে যায়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্রের অভিযোগ, সব জেলা থেকে আসা বিপুল সংখ্যক সিএএ আবেদন রাজ্য স্তরে জমে ছিল।

ঘটনাচক্রে, গত দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের জনগণনা অধিকর্তার পদ থেকে কৌশিক সাহাকে সরিয়ে দেওয়া দিয়েছিল কেন্দ্র। কৌশিক পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস। মেয়াদ ফুরনোর আগেই তাঁকে রাজ্য ক্যাডারে ফেরত পাঠিয়ে ছিল কেন্দ্র। তার পরে ওড়িশার জনগণনা অধিকর্তা নিখিলপবন কল্যাণকে পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছিল কেন্দ্র। এ বার রশ্মি স্থায়ী ভাবে সেই দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিশন সূত্রের বক্তব্য, সিএএ শংসাপত্র পেলে কোনও ব্যক্তি ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন এবং তাঁর নাম তালিকাভুক্ত হবে। কারণ, চলতি এসআইআর-এ কমিশনের তালিকাভুক্ত নথিগুলির মধ্যে সিএএ শংসাপত্র অন‍্যতম। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও সংশ্লিষ্টরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। আগামী ভোটের মনোনয়ন পর্ব পর্যন্ত তা করা যাবে। সে ক্ষেত্রে এই স্থায়ী নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, ২০২৭-এ জনগণনা শুরু হওয়ার কথা গত ১৬ জুন কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিল। আইন অনুযায়ী, কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তি জারি প্রকাশের পরে রাজ্য সরকারকেও বিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলাশাসক, পুর-কমিশনার থেকে বিডিও পর্যন্ত আধিকারিকদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনগণনা আধিকারিক হিসেবে নিযুক্ত করার কথা।

রাজ্য স্তরেও তৈরি হয় একটি নোডাল বিভাগ যা জেলা স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে। তবে বাকি সব রাজ্য এই পদক্ষেপ করলেও, এ রাজ্যে তেমন বিজ্ঞপ্তি এখনও জারি হয়নি। কৌশিকের অপসারণের নেপথ‍্যে সেটিও অন্যতম কারণ বলে মনে করেন আধিকারিকেরা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rashmi Kamal Census Directorate Central Government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy