×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৯ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

‘নাদুস-নুদুস, ফানুস-ফানুস, ফাটুস-ফুটুস চেহারা’, অমিত-তনুকে রসিক কটাক্ষ মমতার

নিজস্ব সংবাদদাতা
পৈলান ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৮:২৫
অমিত শাহ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

অমিত শাহ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডাকে এর আগে ‘নাড্ডা, ফাড্ডা, চাড্ডা, গাড্ডা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এ বার অমিত শাহকে ‘নাদুস-নুদুস, ফানুস-ফানুস, ফাটুস-ফুটুস চেহারা’ বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পৈলানের দলীয় সভা থেকে অমিতকে একাধিক বার আক্রমণ করেন তিনি। পাশাপাশি মমতা অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়ার চ্যালেঞ্জও ছুড়েছেন অমিতের উদ্দেশে।

পৈলানের বক্তৃতায় মমতা বিজেপি-র বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘বলছে, বাংলা দখল করবে। আগে দিল্লি সামলাও। কৃষকদের সামলানোর ক্ষমতা নেই, মমতা দিদিকে সামলাবে! মমতা দিদি ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করে। তার মতো রাজনীতিক হতে গেলে তোমাকে হাজার বার জন্ম নিতে হবে। এই চেহারায় হবে না।’’ অমিত শাহের নাম না করে এর পরেই তাঁর চেহারা নিয়ে কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘‘অত ফোলা ফোলা চেহারা, বেশ নাদুস-নুদুস, সুন্দর-সুন্দর দেখতে, ফানুস-ফানুস চেহারা, ফাটুস-ফুটুস চেহারা, আমাদের মতো এসে লড়াই করো! যাও গিয়ে বাড়িতে বাসন মাজো। যাও গিয়ে ঘর মোছো। যাও গিয়ে ডান্ডার সঙ্গে লড়াই করো। যাও গিয়ে বন্দুকের সঙ্গে লড়াই করো। গুলি বন্দুকের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছি মনে রাখবেন।’’

অমিতকে ব়ৃহস্পতিবার অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়াই করার চ্যালেঞ্জও ছুড়েছেন মমতা। এর আগে তিনি নন্দীগ্রাম আসনে তাঁর বিরুদ্ধে লড়ার জন্য ‘আহ্বান’ জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

Advertisement
 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


পৈলানে তিনি বলেন, ‘‘খালি দিদি আর ভাতিজা! আরে দিদিকে পরে লড়বি আগে ভাতিজাকে লড়। এতই যদি দিদি আর ভাতিজা বলতে হয় তোদের, তা হলে চ্যালেঞ্জ করছি অমিত শাহকে, আগে অভিষেকের সঙ্গে লড়ে দেখান।’’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগলে রাখতেও দেখা গিয়েছে ‘পিসি’ মমতাকে। তাঁর কারণে যে ‘ভাইপো’ অভিষেককে ‘কথা শুনতে হয়’, পৈলানের ভরা জনসভায় মমতার মুখে সেই ‘আক্ষেপ’ শোনা গিয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে যে তিনি ‘বেশি প্রাধান্য’ দেন না, সে কথাও বলেন তৃণমূলনেত্রী। অভিষেককে দুর্ঘটনায় মারার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন ‘পিসি’। মমতার কথায়, ‘‘অভিষেক বিশেষ প্রাধান্য পায় না আমার কাছে। হাজরায় যখন আমাকে মারা হয়েছিল, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল, মাথায় ব্যান্ডেজ দেখে ও একাই কংগ্রেসের পতাকা নিয়ে মিছিল করত। স্লোগান দিত, দিদিকে কেন মারলে জবাব দাও। তখন ওর ২ বছর বয়স। তার জন্যই ওকে রাজনীতিতে এনেছি।’’ তাঁকে যে তিনি উপমুখ্যমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী করেননি, রাজ্যসভার যাওয়ার বদলে অভিষেক যে নির্বাচনে লড়ে লোকসভায় গিয়েছেন, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

তবে, এখানেই থামেননি মমতা। আক্রমণ আরও শানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তোমাদের ছেলেমেয়েরা তো বিদেশে চলে যায়। আমাদের ছেলেমেয়েরা এই মাটিতে থেকে লড়াই করে। আমাদের ছেলেমেয়েরাও বিদেশ যেতে পারত! অভিষেককে দুর্ঘটনা করে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়নি? আজ ও একটা চোখে দেখতে পায় না।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘ক্ষমতা থাকলে নাম নিয়ে কথা বলুন। আর কী কী করেছো তোমাকে বলতে হবে। নইলে মনে রাখবে তোমার ছেলেও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই পাবে না। তোমার ছেলেকে তুমি লুকিয়ে রাখবে আর অন্যদের গালাগালি দেবে, এটা চলতে পারে না। আমি ভদ্রতা করি অমিত শাহ। আমার ভদ্রতা দুর্বলতা নয়।’’

Advertisement