Advertisement
E-Paper

‘এসআইআরে পশ্চিমবঙ্গ আর বিহারের জন্য আলাদা নিয়ম’! একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে মমতা ফের চিঠি লিখলেন জ্ঞানেশকে

সাড়ে তিন পাতার চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, এগুলির সমাধান না-হলে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হয়ে যাবে। বহু বৈধ ভোটার ভোটাধিকার হারাবেন বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৫
(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্ঞানেশ কুমার (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্ঞানেশ কুমার (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাড়ে তিন পাতার চিঠিতে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে জানিয়েছেন, এগুলির সমাধান না-হলে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হয়ে যাবে। বহু বৈধ ভোটার ভোটাধিকার হারাবেন বলেও আশঙ্কাপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর আগে ২০ নভেম্বর এবং ২ ডিসেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা। শনিবার এই নিয়ে তৃতীয় বার জ্ঞানেশকে চিঠি দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন মানদণ্ড স্থির করেছে নির্বাচন কমিশন। এই প্রসঙ্গে বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ দেন তিনি। অভিযোগ করেন যে, বিহারে এসআইআরের ক্ষেত্রে বংশতালিকা (ফ্যামিলি রেজিস্টার)-কে বৈধ পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রহণ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না। বংশতালিকাকে পরিচয়পত্র হিসাবে গ্রহণ না-করার নির্দেশ হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

প্রথাগত বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ নির্দেশিকা ছাড়াই কমিশন হোয়াট্‌সঅ্যাপের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতি দিন নিত্যনতুন নির্দেশ দিচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর বক্তব্য, বহু সময়েই দেখা যাচ্ছে কমিশনের দু'টি নির্দেশের একটি অপরটির বিরোধী।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক বা ইআরও-দের অনুমতি ছাড়াই কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা (আইটি সিস্টেম)-র অপব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুসারে, ইআরও-র অজ্ঞাতে এই কাজ করা যায় না। গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও অবৈধ কাজ হয়ে থাকলে তার দায় কমিশনের উপরেই বর্তাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এসআইআরের শুনানি প্রক্রিয়ায় হেনস্থার অভিযোগ তুলেও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “ভোটারদের নির্দিষ্ট কারণ না-জানিয়েই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এর ফলে কোনও কারণ ছাড়়াই ভোটারদের মনে ভয় তৈরি হচ্ছে এবং তাঁরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।” কারও নামের বানান ভুল থাকলে কিংবা বয়সের ফারাক থাকলে ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, শুনানির সময় কোন কোন নথি লাগবে, তা ভোটারদের জানানো হচ্ছে না। আবার নথি জমা পড়ার কোনও প্রমাণপত্রও শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের দিচ্ছে না কমিশন।

শুনানিকেন্দ্রে বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ)-দের ঢুকতে না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, “এনুমারেশন পর্বে (বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়া এবং নেওয়া) বিএলএ-রা সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। অবাক করা বিষয়, শুনানি প্রক্রিয়ায় তাঁদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হল না।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংযো়জন, “বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টরা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে থাকেন। তাঁরা স্বচ্ছতা রক্ষা করতেই কাজ করেন। তাই বিএলএ-রা শুনানি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না-পারায় এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”

ফের মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কোনও রকম প্রস্তুতি ছাড়াই এসআইআর প্রক্রিয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব থাকলেও তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কমিশন এবং মাইক্রো-অবজার্ভারদেরও এই সংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতা নেই বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সূত্রেই তাঁর অভিযোগ, মাইক্রো-অবজার্ভাররা রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে কোনও আলোচনা না-করেই কাজ করছেন।

চিঠিতে একগুচ্ছ অনিয়মের অভিযোগ তুলে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Mamata Banerjee Election Commission Gyanesh Kumar ECI
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy