E-Paper

কর্মী তালিকা নিয়ে দ্বন্দ্বে রাজ্য-বিরোধী, প্রশ্নে ফর্ম ৭-ও

ভোটারের নামে আপত্তি তোলার ফর্ম ৭ জমা দেওয়া নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে অভিযোগ জানিয়েছে সিপিএম। পাশাপাশি তাদেরও অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য যে আধিকারিকদের তালিকা পাঠিয়েছে, তা ভুলে ভরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪০
সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মাইক্রো অবজ়ার্ভার হিসেবে নিয়োগের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজ্য সরকারের দেওয়া ৮৫০৫ জনের তালিকা নিয়ে অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ওই তালিকায় মৃত ও অবসরপ্রাপ্তদের কর্মীদের নামও রয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। ভোটারের নামে আপত্তি তোলার ফর্ম ৭ জমা দেওয়া নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে অভিযোগ জানিয়েছে সিপিএম। পাশাপাশি তাদেরও অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে রাজ্য যে আধিকারিকদের তালিকা পাঠিয়েছে, তা ভুলে ভরা।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, অর্থ দফতরের তৈরি করা ২০২০ সালের নির্দেশিকায় নির্ধারিত বেতন কাঠামোর স্তরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই গ্রুপ বি আধিকারিকদের তালিকা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় গ্রুপ এ, বি, সি এবং ডি শ্রেণির কর্মীদের বিন্যাস স্পষ্ট করে দেওয়া ছিল এবং তা মেনেই রাজ্য সরকারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকার নামের তথ্যভান্ডার বিকৃত করে ‘কারচুপি’র বিভ্রান্তিকর অভিয‌োগ কোনও কোনও মহল থেকে ছড়ানো হচ্ছে বলে রাজ্যের দাবি।

তমলুকে বিজেপি জেলা কার্যালয়ে শুভেন্দু বলেছেন, ‘‘নদিয়া জেলায় গ্রুপ বি তালিকায় গ্রুপ সি কর্মীরা আছেন। এমনকি, পঞ্চায়েত কর্মীদের নাম দেওয়া হয়েছে। ভেজাল তালিকা দিয়েছে! নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা ভেঙে রাজ্য সরকারের কাজ করেছে।’’ বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ‘‘তালিকায় শুধু মৃত নয়, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টকেও মিথ্যা জানিয়েছে তৃণমূল সরকার। তাই সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা যেতে পারে।’’

যদিও তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের কার্যত গুরুত্বই থাকছে না। কারচুপির রাস্তা বন্ধ হতে পারে ভেবেই যন্ত্রণায় আছে বিজেপি।’’ বিরোধী দলনেতার মামলার ইঙ্গিত প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘আরশোলার পাখি হওয়ার চেষ্টা! সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হন না।’’

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ দিনই বিশেষ তালিকা পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের সঙ্গে দেখা করেছে। তাদের অভিযোগ, এক বুথের বেশ কিছু ভোটারের নামে আপত্তি জানিয়ে ফর্ম ৭ জমা পড়েছে অন্য বুথ এলাকার বাসিন্দাদের তরফে। যাচাইয়ে দেখা যাচ্ছে, ওই অভিযোগকারীরা আদৌ ফর্ম ৭ জমা করেননি। তাঁদের নামে ফর্ম ৭ জমা দেওয়া হয়েছে! এই ভাবে বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে এবং তাতে এলাকা বিশেষে বিজেপি ও তৃণমূল, দু’দলই শামিল বলে সিপিএমের অভিযোগ। খড়দহ, হাওড়া মধ্য বিধানসভা এলাকার কিছু বুথের ফর্ম ৭ সংক্রান্ত কাগজপত্র কমিশনে জমা দিয়েছে তারা। সুজনের বক্তব্য, ‘‘ভুলে ভরা এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। সংখ্যালঘু-সহ গরিব, প্রান্তিক মানুষ বিপন্ন। আদালতে একের পর এক থাপ্পড় খাচ্ছে কমিশন তবু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না!’’ পাশাপাশিই তাঁর দাবি, ‘‘রাজ্য সরকার আগেই কমিশনকে আধিকারিক দিলে মানুষের হয়রানি কমত। আদালতের নির্দেশের পরে তালিকা দিয়েছে, তা-ও নানা ভুলে ভরা! মানুষের সমস্যা নিয়ে কেন্দ্র, রাজ্য বা কমিশন কারওরই মাথাব্যথা নেই।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Form 7 Supreme Court of India West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy