Advertisement
E-Paper

Health: বিতর্ক গ্রামীণ চিকিৎসকদের সরকারি কার্ডে 

স্বাস্থ্যভবনের দাবি, তাদের অন্ধকারে রেখে কিছু জেলার স্বাস্থ্যকর্তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এই কাজ করেছেন।

পারিজাত বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২২ ০৬:৪০
যাঁদের ‘হাতুড়ে চিকিৎসক’ বলা হত, তৃণমূল সরকারের আমলে নাম বদলে তাঁরাই ‘গ্রামীণ চিকিৎসক’।

যাঁদের ‘হাতুড়ে চিকিৎসক’ বলা হত, তৃণমূল সরকারের আমলে নাম বদলে তাঁরাই ‘গ্রামীণ চিকিৎসক’। নিজস্ব চিত্র।

রাজ্যের গ্রামীণ চিকিৎসকদের একাংশকে রাজ্য সরকারের লোগো, অশোক স্তম্ভের সিলমোহর ও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তার সইযুক্ত ‘সরকারি’ কার্ড বা পরিচয়পত্র বিলি করার অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। স্বাস্থ্যভবনের দাবি, তাদের অন্ধকারে রেখে কিছু জেলার স্বাস্থ্যকর্তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে এই কাজ করেছেন। স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সোমবারই বিষয়টি জানা গিয়েছে। এটা কোনও ভাবেই মানা যায় না। মূলত পুরুলিয়ায় এটা হয়েছে বলে খবর এসেছে। সেখানকার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে শো কজ় করা হচ্ছে।’’ যদিও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তৃণমূলপন্থী গ্রামীণ চিকিৎসকদের সংগঠন ‘প্রোগ্রেসিভ রুরাল মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘এ বার গ্রামীণ চিকিৎসকেরা নিশ্চিন্তে প্র্যাকটিস করতে পারবেন। কেউ তাঁদের অযথা ভয় দেখাতে বা হেনস্থা করতে পারবে না।’’

এক সময় যাঁদের ‘হাতুড়ে চিকিৎসক’ বলা হত, তৃণমূল সরকারের আমলে নাম বদলে তাঁরাই ‘গ্রামীণ চিকিৎসক’ হিসাবে পরিচিত। এঁদের চিকিৎসার বৈধ স্বীকৃতি নেই। ওষুধ-স্যালাইন-ইঞ্জেকশন দেওয়া, অস্ত্রোপচার করা বা কাটা জায়গায় সেলাইয়ের মতো কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁদের উপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই, সরকারি কার্ড বা বৈধতার শংসাপত্র তাঁদের কোনও ভাবেই দেওয়া যায় না। কোনও সরকারি নির্দেশও এ ব্যাপারে জারি হয়নি। অথচ, গত শনিবার অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল পুরুলিয়া শহরের রবীন্দ্রভবনে প্রকাশ্য সভায় জেলা স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষকর্তা ও শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এই কার্ড বিলি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কার্ডে তাঁদের ‘ইনফর্মাল হেলথ প্রোভাইডার’ নাম দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় একশো গ্রামীণ চিকিৎসকের হাতে সেই ‘সরকারি কার্ড’ পৌঁছে গিয়েছে বলেও অভিযোগ।

সোমবারেই স্বাস্থ্যভবনে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের সঙ্গে দেখা করেন একাধিক জেলার গ্রামীণ চিকিৎসকেরা। তাঁদের প্রশ্ন, পুরুলিয়ার গ্রামীণ চিকিৎসকেরা সরকারি কার্ড পেলে তাঁরা কেন পাবেন না? তোলপাড় শুরু হয় স্বাস্থ্যভবনে। রাজ্য পল্লি চিকিৎসক সংগঠনের সম্পাদক দিলীপ কুমার পানের কথায়, ‘‘স্বাস্থ্যকর্তারা এখন দাবি করছেন, তাঁরা নাকি এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। এটা বিশ্বাসযোগ্য! আমরাও ছাড়ব না। আমাদের এক লক্ষ সদস্য রয়েছে। সবাইকে ওই কার্ড দিতেই হবে।’’

বেশ কিছু দিন ধরেই সরকারের তরফে প্রাথমিক চিকিৎসার ছয় মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে গ্রামীণ চিকিৎসকদের। কিন্তু যদি তাঁরা কোনও ভাবে সরকারি স্বীকৃতি পেয়ে যান, সেই আশঙ্কায় এখনও কাউকে শংসাপত্র দেওয়া হয়নি। গত বছর এসএসকেএম-এ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে গ্রামীণ চিকিৎসকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আইনত তা রূপায়ণের কোনও পথ না পেয়ে স্বাস্থ্য দফতর এ ব্যাপারে এখনও চুপ করে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ সরকারি ছাপ দেওয়া কার্ড গ্রামীণ চিকিৎসকদের দেওয়া হল কী করে? যিনি কার্ড দিয়েছিলেন পুরুলিয়ার সেই মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকর্তা কুণালকান্তি দে সোমবারই অরুণাচল প্রদেশ বেড়াতে গিয়েছেন। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। উপ-মুখ্য স্বাস্থ্যকর্তা স্বপন সরকার এ দিন কলকাতায় একটি বিভাগীয় বৈঠকে যোগ দিতে আসেন। তিনি বলেন, ‘‘কার্ডের বিষয় সিএমওএইচ-ই দেখছিলেন। উনি বলতে পারবেন।’’

শনিবার কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে সিএমওএইচের সঙ্গে ছিলেন জেলার ডেপুটি প্রোগ্রাম অফিসার দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘গ্রামীণ চিকিৎসকেরা স্যারের (সিএমওএইচের) কাছে এসেছিলেন। স্যার ওঁদের কয়েক জনকে কার্ড দিয়েছেন।’’ বামপন্থী চিকিৎসক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্স’-এর তরফে মানস গুমটা এবং বিজেপির চিকিৎসক-নেতা ইন্দ্রনীল খাঁ-র অভিযোগ, ‘পঞ্চায়েত ভোটের আগে তৃণমূল জেলায়-জেলায় স্বাস্থ্যকর্তাদের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে গ্রামীণ চিকিৎসকদের সরকারি কার্ড বিলি করাচ্ছে। কারণ, তারা নিজেদের বশংবদ একটি ক্যাডার গোষ্ঠী তৈরি করতে চাইছে।’’

পুরুলিয়ায় কার্ড দেওয়ার বিষয়টিতে রাজনৈতিক নেতারা যে ছিলেন তা স্বীকার করে জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা জন স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সৌমেন বেলথরিয়া মন্তব্য করেছেন, ‘‘গ্রামীণ চিকিৎসকদের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি কার্ড দিলে ওঁদেরও যেমন কাজে সুবিধা হয় তেমনই গ্রামের মানুষেরও সুবিধা। তাই আমরা সিএমওএইচকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম।’’ আর পুরুলিয়ায় গ্রামীণ চিকিৎসকদের অন্যতম নেতা ভীষ্মদেব সরকারের কথায়, ‘‘সিএমওএইচকে আমরাও প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কারণ, এর আগে বাঁকুড়াতেও এই সরকারি কার্ড দেওয়া হয়েছে। আমাদের সিএমওএইচ-ও তাতে রাজি হন। ওঁর উদ্যোগে কার্ড তৈরি হয়। উনি তাতে সই করেন।’’

Health West Bengal West Bengal health department
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy