Advertisement
E-Paper

আইসোলেশন ওয়ার্ডে মৃত্যু রোগীর, ক্ষোভ

রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার অধীন একটি নার্সিংহোমে তৈরি ওই করোনা হাসপাতালে মাড়গ্রাম থানা এলাকার ৩৫ বছরের এক বধূর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজনা ছড়ায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২০ ০১:৪৩

নার্সিংহোমে তৈরি করোনা হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল রামপুরহাটে। শনিবার সকালে ঘটনার পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামলায়।

রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার অধীন একটি নার্সিংহোমে তৈরি ওই করোনা হাসপাতালে মাড়গ্রাম থানা এলাকার ৩৫ বছরের এক বধূর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তেজনা ছড়ায়। লকডাউনের মাঝেই মৃতার শ্বশুরবাড়ি ও বাপের বাড়ির আত্মীয় স্বজন ওই হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন। মৃতার পরিবারের লোকজন মৃতদেহ তাঁদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য দাবি জানাতে থাকেন। সেই সঙ্গে বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগও করেন তাঁরা। রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার আধিকারিকরা মৃতের পরিবারের লোকজনদের জানিয়ে দেন, মৃতার করোনা সন্দেহে লালারস সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই কারণে রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃতদেহ রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় রামপুরহাট থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার এক আধিকারিক জানান, ওই রোগিণীর হৃদরোগের সমস্যা ছিল। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা যায়। তারপরই শুক্রবার রাতে তাঁকে সেখান থেকে করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোগিণীর লালারসও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। শনিবার সকালে ওই রোগিণীর মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য আধিকারিকের দাবি, হৃদরোগের কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দু’দিন সময় লাগবে।

Advertisement

মৃতার আত্মীয় পরিজনদের দাবি, চিকিৎসায় অবহেলার জেরেই ওই রোগিণীর মৃত্যু হয়েছে। মাড়গ্রামের বাসিন্দা মৃতার এক দাদা জানান, সাত আট বছর আগে রোগিণীর হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়। পেস মেকার বসানো ছিল। ৯ এপ্রিল থেকে তাঁর হৃদযন্ত্রে ফের সমস্যা দেখা যায়। তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখান থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর দাবি, ‘‘বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীকে অ্যাম্বুল্যান্সে থাকাকালীন বাইরে চিকিৎসা করে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই অবস্থায় বাড়ি আসার পরে পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে রামপুরহাটের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। সেখানেও অসুস্থতা না কমলে দেওয়ায় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সোমবার সন্ধ্যায় বোনকে ভর্তি করা হয়।’’

মৃতার দাদার দাবি, তাঁর বোনের চিকিৎসার জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করার দরকার ছিল। কিন্তু সেখানে শয্যা খালি না থাকার জন্য সাধারণ শয্যায় চিকিৎসা চলছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় বিধায়ক মিল্টন রশিদের প্রচেষ্টায় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে বুধবার ওই রোগিণীকে ভর্তি করা হয়।

রোগীর আত্মীয় পরিজনদের দাবি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে বোনকে ভাল করে চিকিৎসা করা হয়নি। পরে করোনা সন্দেহে যে আইসোলেশন হাসপাতালে শুক্রবার স্থানান্তর করা হয় সেখানেও এখনও ঠিকমতো পরিকাঠামো গড়ে ওঠে নি। তাই কার্যত চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগিণীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি রোগীর আত্মীয় পরিজনের। এমন পরিস্থিতিতে যেন কেউ বিনা চিকিৎসায় না মারা যান সেই ব্যবস্থা স্বাস্থ্য দফতর করুক বলে দাবি তোলেন বিক্ষোভকারীরা।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন বিভাগ দু’দিন আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্য রোগীর চাপ থাকার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য দফতর। পরিবর্তে রামপুরহাট হাসপাতালের বাইরে দুশো মিটার দূরে জাতীয় সড়কের ধারে একটি নার্সিং হোমে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার অধীন কোভিড আইসোলেশন হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানেই এই রোগিণীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

Coronavirus COVID-19
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy