Advertisement
E-Paper

দিল্লিতে মৃত্যু উস্তির শ্রমিকের

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস দেড়েক আগে দিনমজুরের কাজে দিল্লিতে গিয়েছিলেন মনিরুল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২০ ০২:২৩
মনিরুল পাইক

মনিরুল পাইক

লকডাউনের জেরে আটকে পড়েছিলেন দিল্লিতে। কাজও গিয়েছিল। অভাবের সংসার কী ভাবে চালাবেন, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলেন মনিরুল পাইক (২৪)। ভাল মতো খাওয়াও জুটছিল না বলে অভিযোগ পরিবারের। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল দিল্লির সফদরজঙ্গ হাসপাতালে। শুক্রবার রাতে সেখানেই মারা যান ওই যুবক।

মনিরুলের বাড়ি উস্তির হটুগঞ্জ পূর্বপাড়ায়। দিল্লি থেকে অ্যাম্বুল্যান্স করে তাঁর দেহ বাড়িতে ফেরানো হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস দেড়েক আগে দিনমজুরের কাজে দিল্লিতে গিয়েছিলেন মনিরুল। এর আগেও কয়েকবার দিল্লিতে গিয়ে মাস কয়েক কাজ করেছেন। কয়েক মাসের মধ্যেই বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু লকডাউনের জেরে আটকে পড়েন।

স্ত্রী আসমা বিবি, মেয়ে আনিসা খাতুন ও বাবা নজরুল পাইককে নিয়ে সংসার। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন মনিরুল। কিন্তু কাজ হারানোয় বাড়িতে টাকা পাঠাতে পারছিলেন না। নিজেও কার্যত অর্ধাহারে-অনাহারে কাটাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবার সূত্রের খবর, দিল্লি যাওয়ার সময়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার করে টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই টাকাও ফেরত দেওয়ার চিন্তাও ছিল। প্রতিদিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে উদ্বেগের কথা জানাতেন।

স্ত্রী জাননান, ৩১ মার্চ ভাড়াবাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন মনিরুল। পরিচিত শ্রমিকেরা ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করান। শুক্রবার রাতেই মারা যান যুবক। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ব্রেনস্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, পরিচিত কেউ শনাক্ত না করলে দেহ পাঠানো যায় না। এই পরিস্থিতিতে মৃতের পরিবারের লোকজন এক পরিচিতের ফোন নম্বর পান। তাঁদের মারফত জানতে পারেন, উস্তির গ্রামেরই এক যুবক সপরিবার দিল্লিতে আটকে আছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে দেহ আনার ব্যবস্থা করে মনিরুলের পরিবার। শুক্রবার ভোরে অ্যাম্বুল্যান্সে করে দেহ নিয়ে রওনা দিয়েছেন তাঁরা।

মনিরুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকের ছায়া নেমেছে পরিবারে। গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে শনিবার রান্নাবান্না বন্ধ ছিল। বাবা নজরুল পাইক আক্ষেপ, ‘‘লকডাউনের জেরে ছেলের প্রাণটাই চলে গেল। এখন সংসার কী ভাবে চলবে জানি না।’’

ঘটনার খবর পেয়ে মৃতের বাড়িতে যান মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়ক তথা সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। তিনি বলেন, “পরিবারটিকে সব রকম সাহায্য করা হবে।’’

করোনা-আতঙ্কের আবহে লোকজন এখানে এলে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

Coronavirus Health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy