হাওড়া জেলা হাসপাতালের ঘটনার কার্যত পুনরাবৃত্তি ঘটল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আক্রান্তের সংস্পর্শ যোগে একই দিনে চার জন চিকিৎসক, হাসপাতালের পূর্ত বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং দু’জন রোগী করোনা পজ়িটিভের তালিকায় চলে এলেন। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজে সম্প্রতি এক নার্সের দেহে করোনা ধরা পড়েছিল। তাঁর বাবা এ দিন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। আক্রান্তের এই পরিসংখ্যানের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে করোনা পজ়িটিভ স্বাস্থ্যকর্তার শারীরিক অবস্থা। সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোরের পদস্থ কর্তা এখন সল্টলেকের বেসরকারি কোভিড হাসপাতালে ভেন্টিলেটরে রয়েছেন।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে এ দিন যে বুলেটিন প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯৮ জন। চার জন হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মৃতের সংখ্যা ১২-ই।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে সম্প্রতি স্ত্রীরোগ বিভাগে চিকিৎসাধীন নারকেলডাঙার বাসিন্দা এক প্রসূতি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ দিনের আক্রান্তদের তালিকায় সেই বিভাগের তিন জন জুনিয়র চিকিৎসক রয়েছেন। অপর জন হলেন করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে কাজ করা মেডিসিনের এক জুনিয়র চিকিৎসক। ওই প্রসূতির আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার পরপরই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত এক রোগীর করোনা পজ়িটিভ ধরা পড়েছিল। প্রথমে মৃতা প্রৌঢ়াকে এমসিএইচ বিল্ডিংয়ে ভর্তি করা হয়। সেই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন দু’জন রোগীর করোনা পজ়িটিভ ধরা পড়েছে বলে খবর। এর আগে সিএমসি’র পূর্ত বিভাগের এক ইঞ্জিনিয়ার আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর সংস্পর্শে আসায় অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার আক্রান্ত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন আক্রান্ত চার চিকিৎসক এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’জন রোগীকে বারাসতের কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করানো হয়েছে। এনআরএসের করোনা আক্রান্ত নার্সের বাবা আইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আরও পড়ুন: নিভৃতবাসে ৪৯ জন ডাক্তার-নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী
হটস্পট চিত্র
• ‘হটস্পট’ হিসেবে গোটা জেলার মধ্যে আছে ‘কন্টেনমেন্ট’ এলাকা। প্রয়োজনের ভিত্তিতে কন্টেনমেন্ট এলাকা সিল করার সিদ্ধান্ত।
• কোনও রাস্তা বা আবাসন ধরে কন্টেনমেন্ট এলাকা। অতি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছাড়া সংশ্লিষ্ট রাস্তায় ঢোকা-বেরোনোয় নিষেধাজ্ঞা (জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়)।
• সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে হোম ডেলিভারি (ওষুধ, খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী)।
• সংশ্লিষ্ট এলাকায় দোকান-বাজার কোনও কিছু খোলা থাকবে না।
• সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটাতে জেলাভিত্তিক দু’জন নোডাল অফিসার, পুর এলাকায় ওয়ার্ড-পিছু এক জন, প্রয়োজনে দু’জন নোডাল অফিসার। পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ দেখাশোনা করবে।
• সমস্যায় হেল্পলাইন: রাজ্যের কন্ট্রোল রুমের নম্বর
০৩৩-২২১৪-৩৫২৬। টোল-ফ্রি নম্বর ১০৭০।
• অনলাইনে রাজ্য এবং জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে ছড়িয়ে যাবে তথ্য। তা দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং নিশ্চিত করার বার্তা।
এর আগে হাওড়া জেলা হাসপাতালের সুপারের পরে দু’জন স্বাস্থ্যকর্মী, এক জন মেডিক্যাল অফিসার এবং এক জন নার্স আক্রান্ত হয়েছিলেন। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে সেই ধারা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তবে এ দিনের ঘটনার জেরে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়রান্টিনে পাঠানোর সংখ্যা খুব বেশি হবে না বলে জানিয়েছেন উপাধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল বিশ্বাস। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকেরা সব ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করে ওই রোগীদের দেখেছিলেন, তাই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে আক্রান্ত জুনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের একাংশের গলায় অনুযোগের সুর শোনা গিয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, আক্রান্তের সংস্পর্শ যোগে নজরদারিতে চলে আসা চিকিৎসকদের জন্য হোটেল ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই হোটেলে না থেকে নজরদারিতে থাকা চিকিৎসকেরা হস্টেলে ছিলেন। সে ভাবে কোনও উপসর্গ না থাকলেও নির্দেশিকা মেনে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের করোনা পরীক্ষা করানো
হলে রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। উপাধ্যক্ষ বলেন, ‘‘হোটেল নির্দিষ্ট করার পরেও কেউ হস্টেলে থাকলে, কী করার আছে!’’
আরও পড়ুন: শর্ত মেনে কাজ পরিযায়ীদের, নির্দেশিকা কেন্দ্রের
এই আবহে এ দিন জেলার সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকার বক্তব্য, কলকাতার বাসিন্দা কয়েক জন চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী বছরের অন্যান্য সময়ের মতো বাড়ি থেকে শহর-সংলগ্ন কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন। এর ফলে সংক্রমণের কোপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মত স্বাস্থ্য দফতরের। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সাত দিন টানা কাজ করার পরে যে-হেতু সাত দিন ছুটি দেওয়া হচ্ছে, এ ভাবে কর্মস্থলে যাতায়াত নিষ্প্রয়োজন।
(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)