শ্বাসনালীতে সংক্রমণ, জ্বরের উপসর্গ নিয়ে সস্ত্রীক ঘরে ফিরেছিলেন করোনা আক্রান্ত খণ্ডঘোষের যুবক। সিভিক ভলান্টিয়ার, আশাকর্মীরা গৃহবন্দি থাকার পরামর্শ দিলেও মানেননি তিনি। জেলা প্রশাসন জানতে পেরেছে, খণ্ডঘোষের তিন পঞ্চায়েত এলাকায় আত্মীয়দের বাড়ি, ওষুধ, মুদি দোকান এমনকি, গ্রামের এক অনুষ্ঠান বাড়িতেও গিয়েছিলেন তিনি। আপাতত কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন সবাইকেই চিহ্নিত করে পৃথক করা শুরু করেছে প্রশাসন। প্রথমে ‘কোয়রান্টিন’ কেন্দ্র, সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরে গাংপুরের কাছে কোভিড-১৯ হাসপাতালে ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের আইসোলেশনে পাঠানো হচ্ছে তাঁদের।
রবিবার দুপুরে জেলাশাসক (পূর্ব বর্ধমান) বিজয় ভারতী বলেন, “সরাসরি সংস্পর্শে এসেছেন, এমন ৩১ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও যাঁরা মিশেছেন তাঁদের খোঁজ চলছে।’’ জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত পর্যন্ত ওই ৩১ জনকে শনাক্ত করে তিনটে অ্যাম্বুল্যান্সে ‘কোয়রান্টিন’ কেন্দ্রে আনা হয়েছে। তারপরে হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একশোর বেশি মানুষকে শনাক্ত করেছে স্বাস্থ্য দফতর। জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রণব রায় বলেন, “ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে যাঁরা যাঁরা এসেছিলেন, সেই শৃঙ্খলের শেষ পর্যন্ত পৌঁছনোর চেষ্টা করছি। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’’
রবিবার রাত থেকেই ওই পাড়া, গ্রাম ‘সিল’ করে দিয়েছে পুলিশ। প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় গিয়ে কেউ যাতে বাইরে বার হতে বা ঢুকতে না পারেন তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। পুরো পদ্ধতিটাকে বলা হচ্ছে ‘এগরা-মডেল’।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্চের শেষ দিকে নয়াবাদের করোনাভাইরাস আক্রান্ত এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। সংক্রমণের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্বাস্থ্য দফতর জানতে পারে, পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার একটি অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে ছড়িয়েছে সংক্রমণ। ওই অনুষ্ঠানে বিদেশিরাও হাজির ছিলেন। ঘটনাটি সামনে আসার পরেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দফতর মৃত ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শে আসা সবাইকে হাসপাতালে আটকে রাখে। পরে পরিবারের পাঁচ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। কিন্তু সবাই হাসপাতালের ভিতর থাকায় সংক্রমণ ছড়ায়নি। পূর্ব বর্ধমানও এই পথই নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ব্যক্তি গত ২০ বছর ধরে মেটিয়াবুরুজে দর্জির কাজ করেন। ৯ এপ্রিল গ্রামে ঢোকার পরে নিষেধ না মেনেই অবাধে মেলামেশা শুরু করেন তিনি। জানা গিয়েছে, দুই বোন, শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি। যাওয়ার পথে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলেন। গ্রামে দু’দিন ছিলেন। তার মধ্যেও মুদির দোকান-সহ বেশ কিছু জায়গায় আড্ডা মারতে দেখা যায় তাঁকে। পরিজনেরা জানান, কোথাও গিয়েই বেশি দিন থাকতে পারেননি ওই ব্যক্তি। বুধবার রাতে গ্রামে ফেরার পর পরই আশাকর্মীরা জেলা স্বাস্থ্য দফতরে খবর পাঠান। বৃহস্পতিবার পুলিশ তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ডেপুটি সিএমওএইচ (২) সুনেত্রা মজুমদার বলেন, “যাতায়াতের পথে কয়েক মিনিটের জন্য গল্প করেছে, এমন লোকজনকেও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’’