মূলত জ্বালানিই অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছে মূল্যায়ন সংস্থা মুডি’জ়। যা আগামী দিনে ভারতের অর্থনীতিকে বিপাকে ফেলতে পারে। সদ্য পা রাখা নতুন অর্থবর্ষে (২০২৬-২৭) তাই এ দেশের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬ শতাংশে নামাল তারা। আগের পূর্বাভাস ছিল ৬.৮%। তেল-গ্যাসের জোগান সঙ্কট এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধির কারণে মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়িয়েছে মুডি’জ়। এ দিকে,যুদ্ধ-পরিস্থিতি যুঝতে কেন্দ্রের জন্য ২০ দফা দাওয়াই বাতলেছে বণিকসভা সিআইআই। যার অন্যতম সরকার ও শীর্ষ ব্যাঙ্কের হাতমিলিয়ে কাজ করা, সমস্যায় পড়া ক্ষেত্রকে ঋণের নিশ্চিত জোগান, বাণিজ্যের খরচকমানো, টাকার দামে স্থিতিশীলতা আনা, বিদ্যুৎ মাসুলে ছাড়, আমদানি শুল্কে ছাড় ইত্যাদি।
জ্বালানি সঙ্কট যুঝতে ইতিমধ্যেই দেশে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস বণ্টনে রাশ টেনেছে কেন্দ্র। সব ধরনের এলপিজি-র দামও বাড়ানো হয়েছে। মুডি’জ়-এর দাবি, ভারত মূলত পশ্চিম এশিয়া থেকে চাহিদার ৯০ শতাংশেরও বেশি গ্যাস কেনে। ফলে তাতে দোলাচল রয়ে গেলে বাড়তে পারে জিনিসপত্রের দাম। সার, তেল ও গ্যাসের সঙ্কটে বাড়তে পারে ভর্তুকির চাহিদা। গত বছর আয়কর এবং জিএসটি কমার পরে এই ঘটনায় টান পড়বে কেন্দ্রের কোষাগারে। তার উপর টাকার দাম কমায় আমদানি খরচ বাড়ছে। দেশে পণ্যের দাম বাড়লে কমতে পারে চাহিদা। সব মিলিয়ে মূল্যবৃদ্ধি এ বছর গড়ে পৌঁছতে পারে ৪.৮ শতাংশে। গত অর্থবর্ষে ছিল ২.৪%। চাহিদা কমলে মার খেতে পারে উৎপাদনও। যা টেনে নামাবে আর্থিক বৃদ্ধির হারকে।
এর আগে একই যুক্তিতে চলতি অর্থবর্ষে আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস ২০২৫-২৬ সালের ৭.৬% থেকে কমিয়ে ৬.১% করেছে ওইসিডি। মূল্যায়ন সংস্থা ইক্রার তা নামিয়েছে ৬.৫ শতাংশে। উপদেষ্টা ইওয়াই জানিয়েছে, প্রকৃত জিডিপি কমতে পারে ১ শতাংশ বিন্দু এবং মূল্যবৃদ্ধি মাথা তুলতে পারে ১৫ শতাংশ বিন্দু।
সিআইআই-র ডিজি চন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, সঙ্কট সামলাতে শিল্প এবং শেয়ারে লগ্নিকারীদের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ করা দরকার। যার মধ্যে রয়েছে সংস্থাগুলির জন্য আর্থিক সুরাহার ব্যবস্থা, বিশেষত ছোট শিল্প, রফতানিকারী এবং গ্যাস নির্ভর ক্ষেত্রে বাড়তি নজর। তাঁর বার্তা, আরবিআই এবং কেন্দ্র কিছু ব্যবস্থা করেছে। এ বার আরও এগিয়ে ভাবা জরুরি।
কেন্দ্রকে পরামর্শ
অগ্রাধিকার ও জরুরি ক্ষেত্রে ঋণ বিধি শিথিল।
রফতানি, ছোট-মাঝারি সংস্থা ও গ্যাস নির্ভর শিল্পকে বিশেষ ঋণ।
রফতানি ক্ষেত্রের ছোট সংস্থাগুলির ঋণে তিন মাস স্থগিতাদেশ, ঋণ পুনর্গঠন।
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি বরাত মেটাতে বাড়তি সময় এবং সেই সঙ্গে সুরাহা।
বিদ্যুৎ মাসুলে ছাড়।
কার্যকরী মূলধন হিসেবে দেওয়া ও নগদ ঋণের সীমা বৃদ্ধি। শর্তে ছাড়।
ঋণের খরচ কমানো।
জিএসটিতে দ্রুত করের টাকা ফেরত।
জ্বালানির আমদানি সঙ্কট মেটাতে শুল্কে ছাড়।
বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির জন্য ভারতে প্রথম ছাড়া শেয়ার বেচে হওয়া মুনাফায় দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভকরে সাময়িক সুরাহা। তা হিসাবের সময় দুই থেকে বেড়ে তিন বছর।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)