উলেন রায়ের দেহের ফের ময়না-তদন্ত নিয়ে আদালতের রায় বহাল থাকবে কিনা, তা জানা যাবে আজ, শুক্রবার। এই নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর জলপাইগুড়ি আদালতে টানাপড়েন চলল প্রশাসন এবং বিজেপির।
৮ ডিসেম্বর জলপাইগুড়ি জেলা আদালতের সিজেএম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, তিন জন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে দিনের আলোয় ভিডিয়ো তুলে ফের উলেন রায়ের ময়না-তদন্ত করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে জলপাইগুড়ি জেলা জজের এজলাসে আমবাড়ি থানার ওসি সিজেএম আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন। এর কিছু পরে এনজেপি থানার ওসি সিজেএম কোর্টে আবেদন করে জানান, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে, বিজেপি কর্মী উলেন রায়ের মৃত্যুর দিন রাতেই তিন জন চিকিৎসকে দিয়ে ভিডিয়ো তুলে ময়না-তদন্ত করা হয়েছে। এর থেকে বেশি ময়না-তদন্তের পরিকাঠামো এই মুহূর্তে মেডিক্যাল কলেজে নেই বলেও জানানো হয়। এই আবেদনের ভিত্তিতে বিজেপি আরও নথিপত্র জমা দিতে সময় চায়। যদিও সরকারি আইনজীবীরা আবেদনের বিরোধিতা করেন। বিকেলের পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিজেএম সুস্মিতা খাঁ জানিয়ে দেন, আগামিকাল সাড়ে দশটার পরে ফের শুনানি। তার পরে তিনি রায় দেবেন।
জেলা বিজেপি সভাপতি বাপি গোস্বামী দিনভর আদালত চত্বরেই ছিলেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের আর্জি মতো এ দিন আদালত রায় খারিজ করেনি।” জেলা আদালতের এক সরকারি আইনজীবী বলেন, “প্রথম দিনই সঠিক ময়না-তদন্ত হয়েছে। যথাযথ শুনানি হলেই আদালতে আগের রায় খারিজ হবে।” বৃহস্পতিবার দিনভর মেডিক্যালে কাটিয়েও উলেনের দেহ হাতে পেলেন না তাঁর আত্মীয়েরা। তাঁদের সঙ্গে এ দিনও ছিলেন জলপাইগুড়ির বিজেপি সাংসদ জয়ন্ত রায়। সন্ধ্যায় মৃতের শ্যালক মৃগেন রায় বলেন, ‘‘রোজই আসছি। কিন্তু ঘুরে চলে যেতে হচ্ছে।’’