Advertisement
E-Paper

দিল্লির লড়াইয়ে জিত বঙ্গ সিপিএমের, স্বাগত জানাল প্রদেশ কংগ্রেস

প্রবল লড়াইয়ের পরে শেষ পর্যন্ত ‘অ্যাওয়ে ম্যাচে’ও জয় ছিনিয়ে আনল সিপিএমের বঙ্গ ব্রিগেড! গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একজোট করার পক্ষেই মত দিল সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটি তাদের বক্তব্যে সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কথা বলছে না ঠিকই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ১৭:০০
কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংয়ের পর হাসিমুখে।

কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংয়ের পর হাসিমুখে।

প্রবল লড়াইয়ের পরে শেষ পর্যন্ত ‘অ্যাওয়ে ম্যাচে’ও জয় ছিনিয়ে আনল সিপিএমের বঙ্গ ব্রিগেড! গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একজোট করার পক্ষেই মত দিল সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণ কমিটি তাদের বক্তব্যে সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কথা বলছে না ঠিকই। কিন্তু কৌশলী বার্তা নিয়ে তারা পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের আসন সমঝোতা করে কৌশলগত বোঝাপড়ার রাস্তা খুলে দিল। স্বভাবতই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই অবস্থানে খুশি আলিমুদ্দিন।

বিশাখাপত্তনম পার্টি কংগ্রেসে গৃহীত রাজনৈতিক লাইন মেনে কোনও ভাবেই কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করা যাবে না বলে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সওয়াল করেছিল প্রকাশ কারাট শিবির। সেই সঙ্গে কেরল ব্রিগেডের যুক্তি ছিল, তাদের রাজ্যে কংগ্রেসকে হারিয়ে এ বার বামেদের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রবল। এমতাবস্থায় বঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতা হলে তার বিরূপ প্রভাব দক্ষিণী রাজ্যে পড়বে। এই তীব্র আপত্তির মুখে কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলার পরিস্থিতি বোঝাতে আপ্রাণ লড়াই করে গিয়েছেন সূর্যকান্ত মিশ্র, গৌতম দেবেরা। তাঁদের যুক্তি ছিল, বিরোধীরা আলাদা লড়লে ভোট ভাগ হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুবিধা হয়ে যাবে। অথচ বাংলায় গণতান্ত্রিক পরিবেশকেই ধ্বংস করছে তৃণমূল। বাংলার পরিস্থিতি যে সম্পূর্ণ অন্য রকম এবং তা অন্য কোনও রাজ্যের সঙ্গে তুলনীয় নয়, কারাটদের অবশেষে বোঝাতে পেরেছেন সূর্যবাবুরা। রাজ্যের নির্বাচনী কৌশলের চূড়ান্ত খুঁটিনাটি ঠিক করার ভার বাংলার রাজ্য কমিটির উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরিরা। স্বয়ং ইয়েচুরিও ছিলেন বৃহত্তর ঐক্যের পক্ষে।


সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির তরফে জারি হওয়া সেই বিবৃতি।

Advertisement

সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্যের কথায়, ‘‘আদর্শগত বিরোধের কারণে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করা বামপন্থীদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে একজোট করা এখন সময়ের চাহিদা। পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ পরিস্থিতি মাথায় রেখে তৃণমূলকে হঠাতে এবং বিজেপি-কে বিচ্ছিন্ন করতে লড়াই চালাতে হবে। বাকি বিষয়টা ঠিক করবে রাজ্য কমিটি।’’ কংগ্রেসের প্রস্তাব এলে তাদের সঙ্গে আলোচনাতেও আপত্তির কিছু দেখছে না কেন্দ্রীয় কমিটি। আলিমুদ্দিন যে হেতু প্রবল ভাবে বৃহত্তর ঐক্যের পক্ষে, তাই এর পরে রাজ্য কমিটির কাছে বাকি কাজটা মসৃণ বলেই মনে করছে দলের বড় অংশ।

দিল্লির ঘটনাপ্রবাহ জেনেই তাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটি যা বলেছে, ঘুরপথে যার মানে হচ্ছে জোটই! আমাদের দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোভাব তো আগেই জানিয়ে দিয়েছি আমাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে। তবে বিষয়টা এখন আর পলিটব্যুরো বা এআইসিসি স্তরে নেই। জেলায় জেলায় নেতা-কর্মীরা বসেই তৃণমূলকে রুখতে তাঁদের যা করণীয়, করে নেবেন।’’ অর্থাৎ নিজের দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি!

আরও পড়ুন:
সূর্য-গৌতমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে স্বস্তি বাংলায়

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy