Advertisement
১৮ জুন ২০২৪

প্রার্থী কোন্দলে জেরবার তৃণমূল, বিক্ষোভ নেমে এল রাস্তায়

২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। ২৪ রকমের তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। শুধু একটি এলাকায় বা বিশেষ কোনও একটি জেলায় নয়। তৃণমূলের অন্দরে তুমুল অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে জেলায় জেলায়। উত্তর থেকে দক্ষিণে। হাওড়া থেকে মুর্শিদাবাদে। দক্ষিণ থেকে উত্তর ২৪ পরগনায়। বাদ পড়েনি কলকাতাও। বিক্ষোভের ঢেউ পৌঁছে গিয়েছে তৃণমূল ভবনেও। ‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রী অরুপ রায়ের কেন্দ্র মধ্য হাওড়া থেকে আন্দুল, মৌরিগ্রাম, বীরভূমের ময়ূরেশ্বর, সাঁইথিয়া হয়ে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর, মেদিনীপুরের খড়্গপুর। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া- তৃণমূলের অন্দরে বিক্ষোভ-অশান্তির হাওয়া রীতিমতো ঝড় হয়ে গিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়।

তৃণমূলের প্রার্থী বদলের দাবিতে উত্তাল দেগঙ্গা। অবরোধ। শনিবার।- নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূলের প্রার্থী বদলের দাবিতে উত্তাল দেগঙ্গা। অবরোধ। শনিবার।- নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০১৬ ১৮:০৮
Share: Save:

২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। ২৪ রকমের তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।

শুধু একটি এলাকায় বা বিশেষ কোনও একটি জেলায় নয়। তৃণমূলের অন্দরে তুমুল অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে জেলায় জেলায়। উত্তর থেকে দক্ষিণে। হাওড়া থেকে মুর্শিদাবাদে। দক্ষিণ থেকে উত্তর ২৪ পরগনায়। বাদ পড়েনি কলকাতাও। বিক্ষোভের ঢেউ পৌঁছে গিয়েছে তৃণমূল ভবনেও। ‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রী অরুপ রায়ের কেন্দ্র মধ্য হাওড়া থেকে আন্দুল, মৌরিগ্রাম, বীরভূমের ময়ূরেশ্বর, সাঁইথিয়া হয়ে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর, মেদিনীপুরের খড়্গপুর। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া- তৃণমূলের অন্দরে বিক্ষোভ-অশান্তির হাওয়া রীতিমতো ঝড় হয়ে গিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়।

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর পরই তুমুল অশান্তি, বিক্ষোভ, ধর্না, অবস্থান, মিছিল, পথ অবরোধে কার্যত জেরবার হয়ে গিয়েছে গোটা রাজ্য। রাস্তাঘাট দীর্ঘ ক্ষণ বন্ধ হয়ে থাকায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। তৃণমূলের কেউ টিকিট না পেয়ে তাঁর অনুগামীদের উস্‌কে দিয়েছেন দলবল নিয়ে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করতে। আবার কোনও কোনও তৃণমূল প্রার্থীর কেন্দ্র বদলে গিয়েছে বলে তাঁর অনুগামীদের গোঁসা হয়েছে। তাঁরাও রাস্তা আগলে বিক্ষোভ দেখিয়ে শনিবার দিনভর চরম ঝঞ্ঝাটে ফেলেছেন আমজনতাকে। এক বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতা বলেই ফেলছেন, ‘‘আর কোনও ঢাক-ঢোল পেটানোর প্রয়োজন হল না। গোটা রাজ্যের মানুষই হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে গিয়েছেন আমাদের (তৃণমূল কংগ্রেস) প্রার্থী তালিকা বেরিয়ে গিয়েছে।’’

আরও পড়ুন- নজির ভেঙে ভোট ৭ দিন, বাহিনী গেলে আমরাই তো দেখব, মন্তব্য মমতার

শনিবার সকাল দশটা থেকে প্রায় চার ঘণ্টার অবরোধে কার্যত, স্তব্ধই হয়ে পড়ে হাওড়া-আন্দুল রোড। নাজির গঞ্জে বন্ধ হয়ে যায় লঞ্চ সার্ভিস। একে সাঁত্রাগাছি সেতু মেরামত করা হচ্ছে। তার ওপর সড়ক অবরোধ। এ দিন সকালে দুর্ভোগ চরমে পড়েছিল সাধারণ মানুষের। কাজ বন্ধ হয়ে যায় ইন্ডিয়ান অয়েলের মৌরিগ্রাম শাখায়। কারণ, সেখানকার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতাকে বিধানসভার টিকিট দেওয়া হয়নি। তা নিয়ে হই হই রই রই কাণ্ড। পুলিশের পক্ষে তা সামলানো সম্ভব হয়নি। তাই পরিস্থিতি সামলাতে নামে ‘র‌্যাফ’। নামে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। পরে তৃণমূলের হাওড়া জেলা সভাপতি, মন্ত্রী অরুপ রায় বলেন, ‘‘এ সব উচ্ছৃঙ্খলতা। আমি না পেলে, আমার ছেলে, বউ বা ভাইপোকে টিকিট দিতে হবে, এ সব মেনে নেওয়া যায় না। এদের কখনওই বরদাস্ত করা হবে না। দল এদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে।’’

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে তুমুল বিক্ষোভে জেরবার হয়ে যায় বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ও সাঁইথিয়া। ময়ূরেশ্বরে তৃণমূলের গত বারের প্রার্থী জটিল মণ্ডলকে এ বার টিকিট না দেওয়ায় ষাটপলসা পঞ্চায়েত এলাকায় দলের কার্যালয়ে ঢুকে তুমুল বিক্ষোভ দেখান তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। কয়েকশো মানুষ মিছিল করেন হাটতলা পর্যন্ত। তাঁরা বেশ কিছু ক্ষণ অবরোধ করে রাখেন রামনগর-কোটাসুর সড়ক। তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল অবশ্য পরে বলেছেন, ‘‘কোনও ঘটনাই ঘটেনি। বিক্ষোভ-টিক্ষোভ কিছুই হয়নি। সকলেই দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।’’

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়া কেন্দ্রে কী ভাবে এ বারও টিকিট পেলেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সোনালি গুহ, তা নিয়ে বিক্ষোভে জেরবার হয়ে যায় এ দিন দলের জেলা কার্যালয় ও তার লাগোয়া বেশ কিছু এলাকা। ও দিকে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গাতেও প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘ ক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে থাকে বারাসত-টাকি রোড।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE