Advertisement
E-Paper

রেশন আনতে বাস ভাড়াই ২০ টাকা

ডিজিটাল রেশন কার্ড নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিলই। সোমবার তা সামনে এল শিল্পাঞ্চলেও। সালানপুরে বিডিও-কে ঘেরাও থেকে দুর্গাপুরে রেশন অফিসে সিপিএমের বিক্ষোভে উঠল নানা অনিয়মের অভিযোগ। দুর্গাপুর পুর এলাকায় এখন জনসংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ। তার মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ৩ হাজার ৬২ জন আগেই জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। ওই তালিকায় যাঁদের নাম নেই তাঁদের সবুজ ফর্ম ও দু’টি তালিকাতেই যাঁদের নাম নেই তাঁদের সাদা ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৫৫
দুর্গাপুরের রেশন অফিসে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র।

দুর্গাপুরের রেশন অফিসে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র।

ডিজিটাল রেশন কার্ড নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছিলই। সোমবার তা সামনে এল শিল্পাঞ্চলেও। সালানপুরে বিডিও-কে ঘেরাও থেকে দুর্গাপুরে রেশন অফিসে সিপিএমের বিক্ষোভে উঠল নানা অনিয়মের অভিযোগ।

দুর্গাপুর পুর এলাকায় এখন জনসংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ। তার মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ ৩ হাজার ৬২ জন আগেই জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের উপভোক্তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন। ওই তালিকায় যাঁদের নাম নেই তাঁদের সবুজ ফর্ম ও দু’টি তালিকাতেই যাঁদের নাম নেই তাঁদের সাদা ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছিল। এই দু’রকম ফর্ম পূরণ করেছিলেন আরও প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত মোটে এক লক্ষ ৭৫ হাজারের কিছু বেশি মানুষের হাতে ডিজিটাল রেশন কার্ড পৌঁছেছে। ও দিকে খাদ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছিল, ডিজিটাল রেশন কার্ড না থাকলে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আর রেশনে সামগ্রী মিলবে না। ফলে, আশঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলেন শহরের একটি বড় অংশের মানুষ। এমন নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তাঁরা। সোমবার বিকেলে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য ঘোষণা করেছেন, আপাতত পুরনো রেশন কার্ডেই জিনিস মিলবে।

রাজ্যের অন্য নানা এলাকার মতো ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুরেও। একই পরিবারের কেউ কার্ড পেয়েছেন তো কেউ পাননি। সগড়ভাঙার শেখ বাদশার পরিবারের ৫ সদস্যের মধ্যে কার্ড পেয়েছেন মাত্র এক জন। আবার কাউকে রেশন সামগ্রী পেতে যেতে হবে শহরের অন্য প্রান্তে কোনও ডিলারের কাছে। যেমন, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে বীরভানপুর লাগোয়া এলাকায় থাকেন প্রশান্ত বাগদি। সেখান থেকে তাঁকে রেশন নিতে যেতে হবে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিধাননগর হাউসিংয়ে। মিনিবাসে ভাড়া অন্তত ২০ টাকা। এর বাইরে যাতায়াতের ঝক্কি ও সময় নষ্ট তো আছেই।

Advertisement

আসানসোল মহকুমা জুড়েও ডিজিটাল রেশন কার্ড নিয়ে সপ্তাহখানেক ধরে গোলমাল পাকছে। এ দিন সকালে সালানপুরে আছড়া পঞ্চায়েত অফিসে ডিজিটাল রেশন কার্ড বিলির ব্যবস্থা করা হয়। কার্ড বিলি শুরু হতেই গোলমাল বেধে যায়। কারণ উপভোক্তারা খাদ্য দফতরের পাঠানো তালিকা থেকে জানতে পারেন, তাঁদের বেশির ভাগেরই কার্ড আসেনি। এর পরেই কয়েক হাজার মানুষ অফিসে ঢুকে কার্ড বিলি বন্ধ করে দেন। তাঁরা দাবি করেন, প্রত্যেককে কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। গোলমালের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সালানপুরের বিডিও দেবকুমার চক্রবর্তী। তাঁকে ঘণ্টা দুয়েক ঘেরাও করে রাখা হয়। দেবকুমারবাবু বিক্ষোভকারীদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তাদের জানানোর প্রতিশ্রুতি দিলে সমস্যা মেটে।

আসানসোল মহকুমা রেশন ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সত্যরঞ্জন ঘোষ জানান, উপভোক্তারা ঝামেলা করতে পারেন, এই আশঙ্কায় দু’সপ্তাহ ধরে তাঁরা দোকান খুলতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি দোকানে আগে যে পরিমাণ কার্ড ছিল, তার চেয়ে অনেক কম কার্ড এসেছে। তাই সবাইকে রেশন দেওয়া সম্ভব হবে না। ভয়ে আমরা দোকান খুলতে পারছি না।’’ অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মহেশ শর্মার অভিযোগ, ‘‘আমরা নিরাপত্তার অভাবে ভুগছি।’’ নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে সিপিএম। তাদের অভিযোগ, শাসক দলের অফিস থেকে ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। শাসক দলের প্রতি আনুগত্য না দেখানোয় অনেকে ফর্ম পাননি। আবার পূরণ করা অনেক ফর্ম নির্দিষ্ট জায়গায় জমা পড়েনি। নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে চেয়েও মিলছে না বলে অভিযোগ। সোমবার দুর্গাপুর (পূর্ব) রেশনিং অফিসারের দফতরে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। দলের নেতা পঙ্কজ রায় সরকার জানান, ডিজিটাল কার্ড না থাকলেও রেশনের জিনিস বিলি, স্থানীয় রেশন দোকানেই জিনিস পাওয়া নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে চেয়ে রেশনিং অফিস থেকে ফর্ম মিলছে না। খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন মানুষজন।’’ দুর্গাপুর (পূর্ব) রেশনিং অফিসারের দফতর সূত্রে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy