স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং ‘মিডলম্যান’ প্রসন্নকুমার রায়ের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সেমেন্ট ডিরেক্টরেট। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মূল্য আনুমানিক ৫৭ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা।
ইডি সূত্রের খবর, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে নগদ টাকা, হোটেল, রিসর্ট ও বিভিন্ন সম্পত্তি, যা অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইডি-র একটি সূত্র জানাচ্ছে, শুধু সম্পত্তি কেনা নয়, আত্মীয়-পরিজনদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যবসাতেও চাকরি দুর্নীতি থেকে প্রাপ্ত টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন জীবনকৃষ্ণ।
মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণকে নিয়োগ মামলায় ২০২৩ সালের এপ্রিলে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। সে সময় পুকুরে মোবাইল ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পরে জামিনে ছাড়া পান তিনি। এর পরে গত বছর অগস্টে সেই নিয়োগ মামলাতেই ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ। এ বার উঠেছিল পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করার অভিযোগ। ইডির বক্তব্য, বেশ কিছু সন্দেহজনক লেনদেনের হদিস পাওয়া গিয়েছে। বিধায়কের স্ত্রী এবং বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও লেনদেনের জন্য ব্যবহার হয়েছে। এ বিষয়ে নথি চেয়েও পাওয়া যায়নি বলে সে সময় আদালতে দাবি করেছিলেন ইডির আইনজীবীর।
অন্য দিকে, এসএসসি দুর্নীতির মামলায় প্রসন্নকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পরে এই মামলার আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে ইডি। বর্তমানে প্রসন্ন জেল হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তে নেমে প্রসন্নের বিভিন্ন সংস্থায় ২৬ কোটি এক লক্ষ ৮৯ হাজার ৬৭২ টাকার খোঁজ পায় ইডি। তবে প্রসন্ন দাবি করেন, এই সম্পূর্ণ টাকা কৃষিকাজের সূত্রে তিনি আয় করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিটেও সে কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। প্রসন্ন ইডিকে জানান, স্থানীয় চাষিদের মজুরির ভিত্তিতে জমিতে বিনিয়োগ করেছিলেন তিনি। রোজগার করা অর্থ নিজের বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টে জমা করেছেন।