Advertisement
E-Paper

ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে সোম-মঙ্গল মহা গুরুত্বের! টানা দু’দিনে ঠাসা কর্মসূচিতে রাজ্যে ভোট কমিশন, এসআইআর মামলা শীর্ষ কোর্টে

রবিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছিল নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকাল থেকে কমিশন বৈঠক করছে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে। সোম এবং মঙ্গলবার বৈঠক হবে পুলিশ-প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে এসআইআর মামলার শুনানিও রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১২:১৮
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ এখন কলকাতায়।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ এখন কলকাতায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চে, পশ্চিমবঙ্গে সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘অসম্মান’ নিয়ে সরগরম রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতি। তার মধ্যেই সপ্তাহের প্রথম দু’টি দিন পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে মহা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কারণ, এই দু’দিনই রাজ্য সফরে থাকছে নির্বাচম কমিশনের ফুল বেঞ্চ। যা আসলে ভোট ঘোষণার আগের ধাপ। ইতিমধ্যেই কমিশন অন্য রাজ্যগুলিতে সফর শেষ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সফরের পর ফিরে গিয়ে তারা নির্বাচনমুখী অন্য রাজ্যগুলির সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গেও ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করবে।

রবিবার রাতেই কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোম এবং মঙ্গলবার তাদের ঠাসা কর্মসূচি। একই সঙ্গে মঙ্গলবার দ্বিতীয়ার্ধে সুপ্রিম কোর্টে তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চে উঠবে এসআইআর সংক্রান্ত মামলা। বিষয় এবং সময়ের নিরিখে ভোটের আগে সপ্তাহের প্রথম ওই দু’টি দিনের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

সোমবার সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যান জ্ঞানেশ। তার পরে নিউ টাউনের হোটেলে সকাল ১০টা থেকে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে পৃথক ভাবে বৈঠক করছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। দুপুর সওয়া ১টা থেকে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে থাকবেন রাজ্যের সমস্ত আইজি এবং ডিআইজি পদমর্যাদার পুলিশকর্তা, সব জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ২৪টি সংস্থার নোডাল অফিসারেরা। দুপুর সওয়া ৩টা থেকে ফের বৈঠক শুরু রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে।

মঙ্গলবারও প্রথমে কমিশনের বৈঠক রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পান্ডে, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং প্রথম সারির আমলাদের সঙ্গে। তার পরে বেলা সাড়ে ১২টায় কমিশনের সাংবাদিক বৈঠক হওয়ার কথা। ঘটনাচক্রে, কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাংবাদিক বৈঠকের পরেই সুপ্রিম কোর্টে ওঠার কথা এসআইআর মামলা। যে মামলায় ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিয়ে যুক্তি নিক্ষেপ করতে সলতে পাকাচ্ছে তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বিশেষ বেঞ্চ সেই মামলা শুনবে।

সপ্তাহের প্রথম দু’টি কাজের দিন কেন ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? প্রথমত, ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিয়ে বিজেপি ছাড়া সব পক্ষই কমিশনকে নিশানা করে রাস্তায় নেমেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ধর্মতলায় ধর্না অবস্থান গত শুক্রবার থেকে। বামেরা সিইও দফতরের সামনে রাতভর অবস্থান করেছিল। বামেদের পাশেই জমায়েত করে ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিয়ে সরব হয়েছিল নওশাদ সিদ্দিকির আইএসএফ-ও। কমিশনকে চিঠি লিখেছে কংগ্রেস। প্রতিবাদ জানিয়েছেন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র সভাপতি হুমায়ুন কবীরও। তৃণমূল চায়, ‘বিবেচনাধীন’ ৬০ লক্ষ মানুষের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় লাগলে তাঁদের ভোটাধিকার দিয়ে নির্বাচন ঘোষণা করা হোক। বামেরা আবার দাবি করেছে, ভোটার তালিকায় ‘অস্পষ্টতা’ রেখে ভোট ঘোষণা করা যাবে না। অতএব, রাজনৈতিক দলগুলি কমিশনের সামনে কী ভাবে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপিত করে, তা গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও অনেকের বক্তব্য, কমিশনের ফুল বেঞ্চের যা কর্মসূচি, তা অনেকটাই প্রথামাফিক, গতানুগতিক এবং ঔপচারিক। তাঁদের অভিমত, ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিয়ে যে ‘সঙ্কট’ বা ‘জটিলতা’ তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই ওই ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ নাম নিয়ে বিচারক এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা ‘স্ক্রুটিনি’ করছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকার আংশিক প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল বলতে শুরু করেছিল, একাধিক বিষয়ে তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। নতুন নাম যুক্ত হওয়া এবং ৭ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে পুরনো নাম বাতিলের তথ্যে বিস্তর গরমিল রয়েছে বলেই দাবি শাসকদলের।

ঘটনাচক্রে, এর আগে দু’বার তৃণমূলের একাধিক যুক্তি এবং ব্যাখ্যায় সিলমোহর দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এসআইআরের শুনানি পর্বে বিএলএ-দের উপস্থিতির অনুমতি হোক বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট গ্রহণ করা, মাইক্রো অবজার্ভারদের ক্ষমতা খর্ব করা থেকে ইআরও-দের হাতে ক্ষমতা দেওয়া— সব ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দাবি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। এমনকি, তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশও ছিল তৃণমূলের অন্যতম দাবি। তৃণমূলের এক আইনজীবী নেতার বক্তব্য, ‘‘কমিশন এখানে এসে যা করবে, তাতে বিশেষ কিছু বদলের সম্ভাবনা নেই। যা হওয়ার হবে সুপ্রিম কোর্টে।’’ প্রশাসনের অনেকের বক্তব্য, আমলা এবং পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের পরে ভোটকেন্দ্রিক কী কী পদক্ষেপ করবে কমিশন, তার অনেক কিছু নির্ভর করছে সোম এবং মঙ্গলবারের ঘটনাপ্রবাহের উপর।

আপাতত ৬০ লক্ষ নাম নিয়েই ভোটের যাবতীয় আলোচনা আবর্তিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, কেন এখনও একটিও তালিকা প্রকাশ হল না। মমতা বিচারবিভাগের উদ্দেশে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ‘‘আপনারাই ভরসা। গণতন্ত্রকে বিপন্ন হতে দেবেন না।’’ কোন পথে ভোট, কাদের নিয়ে ভোট, কাদের বাদ রেখে ভোট, তার অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে সোম এবং মঙ্গলবার। নজর থাকবে নিউ টাউন থেকে নয়াদিল্লি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy