Advertisement
E-Paper

হাওয়ালায় বহু কোটির লেনদেন, কয়লা পাচারে‘কাটমানি’! ধৃত ওসি মনোরঞ্জনের মামলায় ইডি দাবি করল আদালতে

কয়লা পাচার মামলায় অনেক দিন ধরেই ইডির আতশকাচের নীচে ছিলেন সাব ইন্সপেক্টর মনোরঞ্জন। আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে কর্মরত ছিলেন তিনি। কয়লা পাচার মামলায় বৃহস্পতিবার সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ক্ষণ জেরা করা হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১৮:০৬
মনোরঞ্জন মণ্ডল।

মনোরঞ্জন মণ্ডল। —ফাইল চিত্র।

কয়লা পাচার কাণ্ডে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের হদিস মিলেছে! ধৃত মনোরঞ্জন মণ্ডলকে আদালতে হাজির করিয়ে এমনই দাবি করল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কয়লা পাচারে ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ নেওয়া হত। আর এই ট্যাক্সের ভাগ পেতেন মনোরঞ্জন। বিভিন্ন মাধ্যমে সাত কোটি লেনদেনের হদিস পেয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে ইডি।

কয়লা পাচার মামলায় অনেক দিন ধরেই ইডির আতশকাচের নীচে ছিলেন সাব ইন্সপেক্টর মনোরঞ্জন। আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে কর্মরত ছিলেন তিনি। কয়লা পাচার মামলায় বৃহস্পতিবার সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ক্ষণ জেরা করা হয়। তার পরে রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি। শুক্রবার মনোরঞ্জনকে আদালতে হাজির করানো হয়। সেই শুনানিতে আদালতে ইডি জানায়, কয়লা পাচার মামলায় সিন্ডিকেট কাজ করত। অনেকে ছিলেন এই সিন্ডিকেটে। এখনও পর্যন্ত তিনটি সিন্ডিকেটের খোঁজ মিলেছে বলে আদালতে দাবি ইডির।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা আদালতে জানান, তিনটি সিন্ডিকেটের মধ্যে দু’টি চলত পশ্চিমবঙ্গ থেকে। ঝাড়খণ্ড থেকে পরিচালিত হত অপর সিন্ডিকেটটি। আদালতে ইডির আইনজীবীর বক্তব্য, কয়লা পাচারে চলত গুন্ডা ট্যাক্স। টাকার বিনিময়ে কয়লা পাচারে সাহায্য করা হত। কী ভাবে এই কয়লা পাচারে জড়িয়েছিলেন মনোরঞ্জন, আদালতে তা-ও জানিয়েছে ই়ডি। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের হোয়াট্‌সঅ্যাপে ‘মনোরঞ্জন ওসি’ নামটি পাওয়া যায়। সেই চ্যাটে নগদ লেনদেনের নানা কথা ছিল। কখনও ৫০ লক্ষ, আবার কখনও ২৫ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে ব্যাঙ্কে। আর এই সব টাকাই সরাসরি কয়লা পাচারের সঙ্গে যুক্ত।

অভিযুক্তের মোবাইলে কারেন্সি নোটের ছবি পাওয়া গিয়েছে। সূত্রের খবর, হাওয়ালার মাধ‍্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে এই ভাবে নোটের ছবি পাঠানো হয়। টাকা লেনদেনের বিষয়টি যে হাওয়ালার মাধ্যমে হয়েছে, তা উঠে এসেছে তদন্তে। টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া জন্য ১৫ শতাংশ ‘কাটমানি’ চাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই লেনদেনে দিল্লি-যোগের কথাও উল্লেখ করেছে ইডি। দাবি, কয়লা পাচারের জন্য ১ কোটি ৩৫ লক্ষ জোগাড় করে হাওয়ালার মাধ্যমে দিল্লিতে পাঠানোরও ইঙ্গিত মিলেছে। দিল্লিতে সেই টাকা জোগাড়ের দায়িত্ব ছিল একজনের কাঁধে।

চেক, হোয়াট্‌সঅ‍্যাপ থেকে পাওয়া ছবি, ব‍্যাঙ্কের লেনদেনের স্ক্রিনশট-সহ বেশ কয়েকটি নথি আদালতে শুক্রবার জমা করেছে ইডি। তারা আরও জানায়, শুধু মনোরঞ্জন নন, তাঁর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও টাকা লেনদেন হয়েছে। অন্য দিকে, শুক্রবার মনোরঞ্জনের জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। তাঁর দাবি, ইডি এই মামলায় আগে যে চার্জশিট জমা করেছিল, তাতে পরবর্তী তদন্তের কথা উল্লেখ ছিল ঠিকই। কিন্তু আদালতের কাছে কোনও অনুমতি চাওয়া হয়নি। মনোরঞ্জনের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল কখনওই সরকারি পদের অপব্যবহার করেননি। তিনি আদালতে আরও আবেদন করেন, যদি তাঁর মক্কেলকে জামিন না-হলে জেলে যেন প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা দেওয়া হোক।

প্রসঙ্গত, মনোরঞ্জন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে কর্মরত থাকাকালীন ইডি বেশ কয়েকবার চিঠি দিয়েছিল আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনারকে। অভিযোগ, বেশ কয়েক মাস ধরেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বাড়িতেও চলানো হয়েছিল তল্লাশি। ইডি সূত্রে খবর, কয়লা কাণ্ডে মনোরঞ্জনের নাম উঠে আসার পাশাপাশি বালি পাচার কাণ্ডেও নাম জড়িয়েছে তাঁর।

Bengal Coal Scam
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy