Advertisement
E-Paper

মেঝেয় দাদার পচাগলা দেহ, খাটে শুয়ে ভাই

দুর্গন্ধ ছড়িয়েছিল গোটা পাড়ায়। শনিবার মাঝদুপুরে সাহাগঞ্জের টায়ারবাগানে সেই দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে বেরিয়েছিলেন পাড়ার কয়েক জন। সেখানকারই মুখোপাধ্যায়-বাড়িতে ঢুকে তাঁরা থ! দোতলার একটি ঘরের মেঝেয় পড়ে রয়েছে পরিবারের বড় ছেলে জয় মুখোপাধ্যায়ের (৩৫) পচাগলা দেহ।

তাপস ঘোষ

শেষ আপডেট: ২৮ অগস্ট ২০১৬ ০৩:০১

দুর্গন্ধ ছড়িয়েছিল গোটা পাড়ায়। শনিবার মাঝদুপুরে সাহাগঞ্জের টায়ারবাগানে সেই দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে বেরিয়েছিলেন পাড়ার কয়েক জন। সেখানকারই মুখোপাধ্যায়-বাড়িতে ঢুকে তাঁরা থ! দোতলার একটি ঘরের মেঝেয় পড়ে রয়েছে পরিবারের বড় ছেলে জয় মুখোপাধ্যায়ের (৩৫) পচাগলা দেহ। তার পাশে খাটে দিব্যি শুয়ে ভাই সৌরীশ!

সাহাগঞ্জের এই ঘটনায় অনেকেই গত বছরে কলকাতার তিন নম্বর রবিনসন স্ট্রিটের ছায়া দেখছেন। যদিও সেখানে প্রায় মাস দুয়েক ধরে দিদি এবং পোষ্যদের কঙ্কাল নিয়ে দিন কাটাতেন মধ্যবয়সী পার্থ দে। এ ক্ষেত্রে তেমনটা হওয়ার আগেই পচা গন্ধ প্রতিবেশীদের নাকে এসে লাগল। এ দিন তাঁরাই পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে ওই ঘর থেকে দেহটি উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য নিয়ে যায়। ঘরের দরজা-জানলা খোলাই ছিল।

হুগলি জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগে ওই যুবক মারা যান বলে মনে হচ্ছে। মৃত্যুর কারণ ময়না-তদন্তের রিপোর্ট এলে পরিষ্কার হবে। তবে, মৃতের পরিবারের সকলের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা রয়েছে। মৃতের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’’ ওই পাড়ার লোকজনেরও দাবি, মুখোপাধ্যায় পরিবারের চার সদস্যই মানসিক ভাবে অসুস্থ।

Advertisement

এ দিন সৌরীশ বা তাঁর মা স্বাতীদেবীর কাছে জয়ের মৃত্যু নিয়ে কোনও প্রশ্নেরই উত্তর মেলেনি। তাঁরা শুধু ফ্যালফ্যাল করে চেয়েছিলেন। শুধু জয়ের বাবা, ডানলপ কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মী নারায়ণ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পুলিশ আসার পরেই জানলাম বড় ছেলে মারা গিয়েছে। আমার মতো ছেলেরও হাঁপানি ছিল। সে জন্য মারা গেল কি না, জানি না। আমি ছেলেদের ঘরে তেমন যেতাম না। তাই জানতে পারিনি ঠিক কী হয়েছে।’’

স্থানীয় সূত্রে খবর, জয়ের মতো সৌরীশও কোনও কাজ করেন না। অবসর নেওয়ার ক’বছর পরেই বাড়ির একতলা ভাড়া দিয়ে দেন নারায়ণবাবু। গত বছর জুনে তাঁর মেয়ে আত্মঘাতী হন। পাড়াতেও তাঁরা বিশেষ মিশতেন না। ক’মাস আগে ভাড়াটের কাছে বাড়ি বিক্রি করে নিজেরাই ভাড়াটে হয়ে যান নারায়ণবাবুরা।

বাড়ির বর্তমান মালিক শ্যামলী চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ওঁদের পরিবারের সকলে মানসিক রোগী। চিকিৎসা না হওয়ায় অসুখ বেড়ে গিয়েছে। আমরা বাড়ির পিছন দিকে থাকি। তাই বুঝতে পারিনি জয় মারা গিয়েছে। আমাদের কিছুই জানানো হয়নি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy