ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পর্যবেক্ষণ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময়সীমা প্রায় শেষের মুখে। শুনানির মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের শেষ দিন ৭ ফেব্রুয়ারি। এখনও অনেকের শুনানি বাকি। তিন দিনের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করা যাবে বলে আশাবাদী নির্বাচন কমিশন। তাদের মতে, শুনানির কাজ প্রায় শেষের পথে।
কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের ১০ থেকে ১৫ লক্ষ ভোটারের শুনানি এখনও বাকি রয়েছে। নতুন করে আর কাউকে শুনানির নোটিস ধরানোর প্রয়োজন নেই। যাঁদের তলব করার ছিল, তাঁদের তলব করা হয়ে গিয়েছে। কেবল নথি যাচাই বাকি ১০-১৫ লক্ষ জনের। তিন দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে মনে করছে কমিশন। সে ক্ষেত্রে এক-এক দিনে তিন থেকে পাঁচ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই করতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, দিনে এর চেয়েও বেশি সংখ্যক শুনানি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ফলে সময়ে শুনানির প্রক্রিয়া শেষ করা খুব একটা কঠিন হবে না।
আরও পড়ুন:
গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর শুনানি শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে ধীরগতিতে চলছিল প্রক্রিয়া। পরে আধিকারিকের সংখ্যা এবং শুনানিকেন্দ্র বৃদ্ধি পায়। ফলে দৈনিক শুনানির পরিমাণও বাড়ে। তা ছাড়া, শুরুর দিকে নথি নিয়ে কমিশনের অনেক কড়াকড়ি ছিল। পরে তা শিথিল হয়। গত কয়েক দিনে দৈনিক পাঁচ থেকে সাত লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়েছে এ রাজ্যে। ফলে কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে।
৭ তারিখ শনিবার শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করতে আরও সপ্তাহখানেক নেবে কমিশন। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা। তার পরেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণা করা হতে পারে।
এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা এবং চক্রান্ত করে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে মামলা করেন এবং বুধবার শুনানিতে নিজে সওয়ালও করেন। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। এই সংক্রান্ত শুনানির পর শীর্ষ আদালত কমিশনকে নোটিস জারি করেছে। নামের বানানে ছোটখাটো ভুলের কারণে কারও নাম যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না-যায়, তা দেখতে বলেছে আদালত। কমিশনের আধিকারিকদের আরও সংবেদনশীল হতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, বাংলা ভাষা বোঝেন, এমন আধিকারিকদের নামের তালিকা কমিশনকে দেবে রাজ্য সরকারকে। তাঁরা এসআইআর-এর কাজে যুক্ত হলে বানান সংক্রান্ত সমস্যা দূর হবে।