Advertisement
E-Paper

অগ্নিমন্দিরে প্রবেশের শুনানি সরাসরি সম্প্রচারের নির্দেশ আদালতে

কারা প্রকৃত ‘পার্সি জ়োরাস্ট্রিয়ান’, মামলার শুনানিতে প্রকৃত ‘পার্সি জ়োরাস্ট্রিয়ান’-এর কী ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটা শুধু তরুণ প্রজন্মের জ্ঞাতব্য নয়, প্রবীণদেরও তা জানা প্রয়োজন। 

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০৫:৫৬
ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বা একক বেঞ্চে আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছিল। হাইকোর্টেরই ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার নির্দেশ দিল, পার্সি সম্প্রদায়ের উপাসনা গৃহে প্রবেশের অধিকার সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি (সওয়াল-জবাব) বৈদ্যুতিন মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে।

এই অনুমতির সঙ্গে সঙ্গে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি কৌশিক চন্দের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, কোন পদ্ধতিতে ওই সম্প্রচার হবে, সেটা ঠিক করবেন হাইকোর্টের ‘অরিজিনাল সাইড’-এর রেজিস্ট্রার। সম্প্রচারের খরচ বহন করবে কলকাতার ‘পার্সি জ়োরাস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’। শুধু কলকাতা হাইকোর্ট নয়, দেশের কোনও হাইকোর্টে এই ধরনের নির্দেশ কখনও দেওয়া হয়েছে কি না, তা মনে করতে পারছেন না প্রবীণ আইনজীবীরাও।

কলকাতার পার্সি জ়োরাস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের কৌঁসুলি ফিরোজ এডুলজি জানান, ডায়মন্ড হারবার রোডের বাসিন্দা এক পার্সি মহিলা এক অ-পার্সি পুরুষকে বিয়ে করেন। মহিলার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। পার্সিদের পরম্পরা অনুযায়ী পার্সি কোনও পুরুষ যদি কোনও অ-পার্সি মহিলাকে বিয়ে করেন, তা হলে তাঁদের সন্তানেরা উপাসনা গৃহ ‘ফায়ার টেম্পল’ বা অগ্নিমন্দিরে ঢুকতে পারবেন। কিন্তু কোনও পার্সি মহিলা অ-পার্সি পুরুষকে বিয়ে করলে তাঁদের সন্তানেরা অগ্নিমন্দিরে ঢুকতে পারবেন না। উপাসনা গৃহে তাঁর ছেলেমেয়েকে ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ডায়মন্ড হারবার রোডের ওই পার্সি মহিলা।

আরও পড়ুন: মিছিলের অনুমতি নেই, ক্ষোভ ঐশীর

এডুলজি জানান, বিচারপতি সৌমেন সেনের এজলাসে শুনানি চলাকালীন জ়োরাস্ট্রিয়ান সমিতি একটি আবেদনে জানায়, মামলার বিষয়বস্তুর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। পার্সি সম্প্রদায়ের লোকজন আছেন সারা দেশে, বিশ্ব জুড়ে। মামলার বিষয়বস্তুর সঙ্গে তাঁরা ওতপ্রোত ভাবে যুক্ত। কিন্তু তাঁদের পক্ষে সব শুনানিতে হাইকোর্টে হাজির থাকা সম্ভব নয়। তাই শুনানির ভিডিয়োগ্রাফি করার এবং তা সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি দেওয়া হোক। বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা কী সওয়াল করছেন, বিচারপতির সঙ্গে আইনজীবীদের কী ধরনের কথোপকথন হচ্ছে— সবই সরাসরি সম্প্রচারিত হলে পরে কেউ শুনানির বিকৃত ব্যাখ্যা করতে পারবেন না।

ওই আবেদনে আরও বলা হয়, পার্সি সম্প্রদায়ের তরুণ প্রজন্মের কাছে এই মামলার বিষয়বস্তুর একটি শিক্ষামূলক দিকও রয়েছে। কারা প্রকৃত ‘পার্সি জ়োরাস্ট্রিয়ান’, মামলার শুনানিতে প্রকৃত ‘পার্সি জ়োরাস্ট্রিয়ান’-এর কী ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, সেটা শুধু তরুণ প্রজন্মের জ্ঞাতব্য নয়, প্রবীণদেরও তা জানা প্রয়োজন।

পার্সি জ়োরাস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে বিচারপতি সেন শুনানির সরাসরি সম্প্রচারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। বিচারপতি সেনের রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল মামলা করা হয়। ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি সম্প্রচারের অনুমতি দেওয়ায় আপিল মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেল। মূল মামলাটি একক বেঞ্চেই রয়েছে এবং সেটির শুনানি সম্প্রচারে বাধা থাকছে না।

Calcutta High Court Parsi Fire Temple
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy