E-Paper

শীতলখুচি: শাস্তির পথ চেয়ে নিহতদের পরিবার

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের শীতলখুচির জোড়পাটকির গ্রামের স্কুলের বুথে গুলি চালিয়েছিল সিআইএসএফ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৯
গত বিধানসভা ভোটে এই বুথেই সিআইএসএফের গুলিতে নিহত হন ৪ জন। নিজস্ব চিত্র

গত বিধানসভা ভোটে এই বুথেই সিআইএসএফের গুলিতে নিহত হন ৪ জন। নিজস্ব চিত্র

পাঁচ বছর হতে চলল। শোক বয়ে বেড়াচ্ছে কোচবিহারের দু’টি গ্রাম। কোনও সন্ধ্যায় গ্রামের শহিদ বেদির সামনে দাঁড়িয়ে হার মানছে চোখের জল। কখনও সেই স্কুল পেরোতে গিয়ে পা সরছে না পরিজনের।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহারের শীতলখুচির জোড়পাটকির গ্রামের স্কুলের বুথে গুলি চালিয়েছিল সিআইএসএফ। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে নিহত হন চার যুবক। ওই দিনই কিছুটা দূরে পাঠানটুলি গ্রামে দুষ্কৃতীদের গুলিতে নিহত হন ১৮ বছরের আনন্দ বর্মণ। ফের বিধানসভা ভোটের দোরগোড়ায় রাজ্য। যদিও দোষীদের শাস্তির পথ চেয়ে অপেক্ষা শেষ হয়নি নিহত ওই পাঁচ জনের পরিবারের।

২০২১ সালের ১০ এপ্রিল। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জোড়পাটকি গ্রামের আমতলি মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুলি চালায় সিআইএসএফ। চার যুবক হামিদুল মিয়াঁ, মনিরুজ্জামান মিয়াঁ, সামিউল হক এবং নুর আলম হোসেনের মৃত্যু হয়। গ্রামবাসী অভিযোগ তোলেন, নিরীহ মানুষের উপরে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাল্টা সিআইএসএফ দাবি করে, ভোট লুট চলছিল। বাধা দিতে গেলে আক্রমণ হয়। বাধ্য হয়েই গুলি চালাতে হয়েছে। পরে নিহতদের পরিজনের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি সাহায্য ও পরিবারপিছু এক জনকে চাকরিও দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু চার তরতাজা যুবকের মৃত্যুর ক্ষতি পূরণ করবে কে? নিহত মনিরুজ্জামানের কাকা ইদ্রিস আলির প্রশ্ন, “আর কবে বিচার পাব?”

পাঠানটুলির আনন্দ বর্মণের মৃত্যুর তদন্তভার দেওয়া হয় সিবিআইকে। ওই ঘটনায় কয়েক জন গ্রেফতারও হয়েছে। মূল অভিযুক্তদের অন্যতম মিঠুন মিয়াঁকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তবে এক জন এখনও অধরা। আনন্দের দাদা গোবিন্দ বর্মণ বলেন, “প্রত্যেকে গ্রেফতার না হলে এ বার নির্বাচনেও মানুষ ভয় পাবে। ভোট দেওয়ার অধিকার তো সবার আছে। তা রক্ষা করা হোক।”

সিআইএসএফের গুলি চালানোর ঘটনার তদন্ত করছে সিআইডি। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত জওয়ানেরা জামিন পেয়েছেন। জোরপাটকি শহিদ স্মৃতি রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আলিজার রহমান বলেন, “অভিযুক্তদের শাস্তি হয়নি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলাও এগোচ্ছে না। সামনে ভোট। স্বাভাবিক ভাবেই সবার মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Cooch Behar Sitalkuchi

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy