রাতের দূরপাল্লার ট্রেনে কোলের শিশুটিকে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখে খোদ রেলমন্ত্রীকেই টুইটকে জানিয়েছিলেন অসহায় বাবা। ফলও পেয়েছেন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই।
বুধবার রাত পৌনে ৯টা নাগাদ ডাউন অঙ্গদ এক্সপ্রেস ট্রেনটি আসানসোলে থামতেই ওই কামরায় ওঠে পড়েনে রেলের চিকিৎসকদের একটি দল। মেডিক্যাল পরীক্ষার করার পরে শিশুটির অবস্থা দেখে চিকিৎসকেরা সিদ্ধান্ত নেন, তাকে এখনই হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। অসহায় পিতাকে চিকিৎসকেরা বুঝিয়ে অসুস্থ শিশু সহ পরিবারটিকে চিকিৎসকেরা ট্রেন থেকে নামিয়ে নেন আসানসোলে। স্টেশনে আগে থেকেই এনে রাখা হয়েছিল অ্যাম্বুল্যান্সও। তাতে চাপিয়েই তিন জনকে নিয়ে তাঁরা রওনা দেন আসানসোল রেল হাসপাতালে। শুরু হয় চিকিৎসা। আপাতত শিশুটি অনেকটাই বিপন্মুক্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা।
আসানসোল হাসপাতাল সূত্রের খবর, ওই পরিবারটি কিউল থেকে যশোবন্তপুর যাচ্ছিল। পথে দু’বছরের শিশুটি ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়। সঙ্গে বমি। পেটের গোলমাল ও বারবার বমি করায় কিছু ক্ষণের মধ্যেই শিশুটির শরীর থেকে অনেক বেশি পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়। তাতেই ডিহাইড্রেশন শুরু হয়েছিল। শিশুটিকে ট্রেনে উঠে যিনি পরীক্ষা করেছিলেন, সেই চিকিৎসক এস গরাই বলেন, ‘‘শিশুটির ডিহাইড্রেশন এতটাটাই বেশি হয়েছিল যে, হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয়। সময় মতো হাসপাতালে না নিয়ে এলে আরও বিপদ হতে পারত।’’
কী করে খবর পেল আসানসোলের চিকিৎসকেরা?
রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর অ্যাকাউন্টে বাবার ওই আর্তি দেখে মন্ত্রী সচিবালয়কে বিষয়টি শুরুত্ব দিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন। সচিবালয়ের কর্তারা ট্রেনটি তখন কোথায় রয়েছে, কন্ট্রোল থেকে তার খবর নিয়ে তাঁরা পূর্ব রেলকে ঘটনার কথা জানান। পূর্ব রেলের কর্তারা আসানসোলের ডিআরএমকে ঘটনাটি জানান। ডিআরএম জানান আসানসোল রেলওয়ে হাসপাতালে।