E-Paper

প্রশাসনের ‘রোষে’ পড়লে কি ফের বদলি, আতঙ্ক পুলিশে

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে কলকাতা পুলিশের ১৫০ জন কর্মীকে ডেপুটেশনে রাজ্য পুলিশে পাঠানো হয়েছিল। বদলির সেই তালিকায় একাধিক সহকারী নগরপাল এবং ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক ছিলেন।

চন্দন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৭:১৮
লালবাজার।

লালবাজার। —ফাইল চিত্র।

বদলির চাকরিতেই বদলির ভয়! ১৫ বছর পরে রাজ্যে পালাবদল হতেই প্রশাসনের বিভিন্ন অংশের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের নিচুতলাতেও এখন বদলির আতঙ্ক। ২০১৬ সালের মতো প্রশাসনের ‘রোষে’ পড়ে ডেপুটেশনে রাজ্য পুলিশে বদলি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটের আগে যাঁদের বিভিন্ন থানার দায়িত্বে আনা হয়েছিল, তাঁদেরও নতুন প্রশাসন আর রাখবে কিনা— তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে পুলিশকর্মীদের মধ্যে।

সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরে কলকাতা পুলিশের ১৫০ জন কর্মীকে ডেপুটেশনে রাজ্য পুলিশে পাঠানো হয়েছিল। বদলির সেই তালিকায় একাধিক সহকারী নগরপাল এবং ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক ছিলেন। তাঁদের কাউকে সুন্দরবনে, কাউকে বা জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বদলি করে পাঠানো হয়। তাঁদের অধিকাংশকেই এখনও কলকাতা পুলিশে ফেরত আনা হয়নি। অনেকে এখনও ডেপুটেশনে রাজ্য পুলিশে কাজ করছেন, অনেকে আবার রাজ্য পুলিশ থেকেই অবসর নিয়েছেন।

বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গত শনিবার শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হয়েছে সোমবার। এ দিন বিকেলে রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশের কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাত পর্যন্ত বদলির কোনও নির্দেশ না এলেও আতঙ্ক ছাড়ছে না কলকাতা পুলিশের নিচুতলার কর্মীদের একাংশকে।

জানা গিয়েছে, বাম আমলে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশের দু’টি সংগঠন ছিল। যদিও তৃণমূল সরকারে আসার পরে সেই সংগঠনগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। যা নিয়ে মামলা এখনও চলছে। তৃণমূল সরকারের আমলে গঠিত হয় ‘পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড’। কলকাতা পুলিশের কর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের নেতৃত্বে গোটা রাজ্যে ওয়েলফেয়ার বোর্ডের নামে কমিটি গঠন করা হয়। যদিও ওয়েলফেয়ার বোর্ডের কর্তা হিসেবে শান্তনুর একাধিক বক্তব্যে আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনের আগে শান্তনুকে হাজিরার নোটিস দেয় ইডি। ইডি সূত্রের খবর, বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর সঙ্গে সম্পর্কিত মামলার সূত্রেই তাঁকে তলব করা হয়েছিল। যদিও হাজিরা দেননি শান্তনু। দিনকয়েক আগেই ওই পুলিশকর্তার নামে ‘লুক-আউট’ নোটিস জারি হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

শান্তনু-সহ পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ডের একাংশের প্রত্যক্ষ তৃণমূল-ঘনিষ্ঠতা নিয়ে এর আগে একাধিক বার প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের অনেকে তৃণমূলের ‘ক্যাডার’ হিসেবে কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সরকার বদল হতেই ওয়েলফেয়ার বোর্ডের পুলিশকর্মীদের মধ্যে বদলির আতঙ্ক সব থেকে বেশি ছড়িয়েছে। পালাবদলের পরে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই ওয়েলফেয়ার বোর্ডের নাম করে ডিউটিতে ফাঁকি না দেওয়ার নির্দেশ আসায় তা নিচুতলায় আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে। অনেকে আবার ‘জল মেপে রং বদলাতে’ এক সময়ের বিরুদ্ধ মহলে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ওয়েলফেয়ার বোর্ডের ঘনিষ্ঠ, কলকাতা পুলিশের এক কর্মীর কথায়, ‘‘নতুন সরকার ওয়েলফেয়ার বোর্ডের ঘনিষ্ঠদের কী ভাবে দেখবে, তা নিয়ে চিন্তা তো একটা রয়েছেই। কোনও নির্দেশ এলে সে ক্ষেত্রে তো কিছুই করার থাকবে না।’’ যদিও কলকাতা পুলিশের ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত পুলিশকর্মীরা এ নিয়ে এখনও মুখ খুলতে নারাজ। প্রশ্ন করলেই অধিকাংশ ‘কিছু বলার নেই’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

এ বছর নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই কলকাতা পুলিশের একাধিক থানার দায়িত্বপ্রাপ্তকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। প্রায় ৪০ জন আধিকারিককে অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) করে বিভিন্ন থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়। নির্বাচন মেটার পরে নতুন সরকার তাঁদের সেই দায়িত্বে রাখবে কিনা, তা নিয়েও আশঙ্কা কাজ করছে একাংশের মধ্যে। সব মিলিয়ে বিজেপি সরকার পুলিশি ব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন করে, এখন সে দিকেই তাকিয়ে গোটা বাহিনী।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal government West Bengal Politics West Bengal Administration

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy