মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরে তাঁর দেহ মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। গত বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে ভাঙড়ের কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স থানার তাড়দহের নস্করাইট এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। মৃত প্রৌঢ়ার নাম মণিকা মণ্ডল (৬২)। আপাতত তাঁর ছেলে বাপন মণ্ডলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, স্থানীয় বাসিন্দা মদন মণ্ডলের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেমেয়ের মধ্যে বড় বাপন। ছোট থেকেই তাঁর মানসিক সমস্যা রয়েছে। সেই কারণে মণিকা ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। বাপনের ভাই ও বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাপনের ভাই তাঁর বাবা ও পরিবার-সহ আলাদা থাকেন। দিনমজুর বাপন অসুস্থ মাকে নিয়ে থাকতেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন কাজ থেকে বাড়ি ফিরে বাপন দেখেন, মা পুকুর ঘাটে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। চেষ্টা করেও মায়ের জ্ঞান না ফেরায় কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ির গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে মায়ের দেহ পুঁতে দেন বাপন।
এ দিকে, প্রতিবেশীরা তাঁর মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। তখনই বাপন জানান, মা মারা যাওয়ায় মাটিতে দেহ পুঁতে দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ ওঠে, বাপনই মাকে খুন করে দেহ পুঁতে দিয়েছেন। পুলিশ গিয়ে বাপনকে আটক করে। ময়না তদন্তের জন্য মাটির নীচ থেকে দেহ তোলার অনুমতি পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পুলিশ। সেই রিপোর্ট পেলেই নিশ্চিত করে বলা যাবে, কী ভাবে প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কেউ লিখিত অভিযোগ না করায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)