প্রচুর প্রোটিন ধারণের সূত্রে সে অত্যন্ত গুণবান। কিন্তু তার মধ্যে এত দিন দোষও ছিল একটা। বিষদোষ। খেসারির ডাল খেলে সেই বিষক্রিয়া হতো। সেই দোষ কাটিয়ে নতুন বিষমুক্ত বীজের সাহায্যে রাজ্যে আবার ওই ডালের চাষ শুরু হয়েছে।
খেসারির ডাল থেকে মানবশরীরে এক ধরনের বিষক্রিয়া হওয়ায় বাংলায় দীর্ঘদিন তার চাষ বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরীক্ষায় দেখা যায়, গলদ ছিল ডালের বীজেই। তাই ওই বীজ বদলে ‘বিষমুক্ত’ বীজের সন্ধানে ছিল কৃষি দফতর। কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু বলেন, ‘‘বিষমুক্ত বীজ খুঁজছিলাম। অবশেষে তা পাওয়া গিয়েছে।’’
কৃষি দফতর জানায়, জাতীয় বীজ নিগম থেকে পরীক্ষিত বীজ এনে তা মুর্শিদাবাদের ডাল গবেষণাগারে ফের পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, তা বিষমুক্ত। সেই বীজ বুনেই চাষ শুরু হয়েছে। দফতরের এক কর্তা জানান, খেসারির ডালে প্রোটিন প্রচুর। তাই বেশি করে তার চাষ হচ্ছে। জোর দেওয়া হচ্ছে মুগ, মসুর, কলাই, অড়হর ডাল চাষেও। ওই সব ডালেও প্রোটিনের মাত্রা যথেষ্ট।
বাংলার ডালের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার গুণমান ভাল হওয়ায় কেন্দ্র এ বার ‘কৃষি কর্মণ’ পুরস্কার দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে। এ বার বাড়তি দেড় লক্ষ হেক্টর জমিতে ডাল চাষ করা হচ্ছে। রাজ্যে ডাল উৎপাদনে এগিয়ে আছে মুর্শিদাবাদ। নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান, মালদহেও ডালের চাষ হচ্ছে। এই চাষে জল কম লাগে। তাই কৃষকেরা বেশি উৎসাহী। মুর্শিদাবাদ-নদিয়ায় ‘ইন্টারক্রপিং’ পদ্ধতিতে ডাল চাষ করে ভাল ফল মিলেছে। পাট চাষের সময় মাঠে মুগের বীজ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সময়ে মাঠে অল্প জল থাকে। আবাদের এই পদ্ধতিকেই বলে ‘ইন্টারক্রপিং’। আবার আমন ধান কাটার দিন পনেরো আগে মাঠে মুগ ডালের বীজ ছিটিয়ে দিলে গাছ দ্রুত বাড়ে। এটা পয়রা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতেও চাষ হচ্ছে। ‘‘মুখ্যমন্ত্রী চান, ডালের উৎপাদন বাড়িয়ে স্বনির্ভর হোক রাজ্য। সেই চেষ্টাই চলছে,’’ বলেন কৃষিমন্ত্রী।