এসআইআর প্রক্রিয়ায় এ দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এক যুবক তাঁকে মারধর এবং জুতোপেটা করেছেন বলে অভিযোগ বিমলি টুডু হাঁসদা নামে ডানকুনির এক মহিলা বিএলও-র। তাঁর খেদ, দু’সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত আব্দুর রহিম গাজির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া দূর, এফআইআর-এর প্রতিলিপিও দিচ্ছিল না পুলিশ। এ ব্যাপারে সোমবার ডানকুনি থানায় যান আদিবাসী সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগনা মহলের লোকজন। বিমলি জানান, এ দিন থানা থেকে এফআইআর-এর প্রতিলিপি দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দাবি, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণে আব্দুরের সঙ্গে প্রতিবেশী বিমলির অশান্তি হয়। এর মধ্যে এসআইআর-এর কোনও যোগ নেই। বিমলি ডানকুনির ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর বুথের বিএলও। আব্দুর ৫ নম্বর বুথের ভোটার। অর্থাৎ, ওই যুবক বিমলির আওতাধীন এলাকার ভোটারও নন।
বিমলির অবশ্য অভিযোগ, আব্দুরের ভুয়ো নাগরিকত্ব ধরে ফেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়ায় ১৯ ডিসেম্বর তিনি হামলা করেন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত কোনও ব্যাপার নেই। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এই আদিবাসী মহিলা বলেন, ‘‘পুলিশের উপরে আস্থা রাখছি। আশা করি, বিচার পাব।’’
ভারত জাকাত মাঝি পারগনা মহলের তরফে বিপুল হাঁসদা বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তি বিমলিকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। অভিযোগ দায়েরের পরেও হুমকি দেওয়া হয়। ২৫ ডিসেম্বর ফের বিমলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। নির্বাচন কমিশনের কাজে নিযুক্ত আদিবাসী মহিলাকে মারধর, জুতোপেটা করা হলেও পুলিশ-প্রশাসন চুপ! দোষীকে দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।’’ তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আজ, মঙ্গলবার বিডিও কার্যালয়ে যাবেন।
এ দিনও চেষ্টা করে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। প্রতিবেশীরা জানান, তিনি ভাড়া থাকেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। ডানকুনির পুরপ্রধান হাসিনা শবনমের বক্তব্য, ‘‘নির্বাচন কমিশন তদন্ত করুক। ভারতীয় নথি থাকলে ওই যুবক ভারতে থাকবেন, না হলে নয়।’’ এরপরেই তিনি যোগ করেন, ‘‘উনি (বিমলি) পারিবারিক রাগ থেকে এ সব করছেন।’’ ডানকুনির বিজেপি নেতা সুকান্ত মাঝির পাল্টা প্রতিক্রিয়া, ‘‘‘বাংলাদেশিকে বাঁচাতে তৃণমূল উঠেপড়ে লেগেছে। পুলিশ কেন তাঁকে হেফাজতে নিয়ে নথি যাচাই করছে না! বাংলাদেশি না হলেও আদিবাসী মহিলাকে জুতোপেটার মতো অভিযোগ পেয়েও পুলিশ হাত গুটিয়ে থাকবে?’’
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে।’’ অভিযুক্ত যুবক বাংলাদেশি কি না, এই প্রশ্নে চণ্ডীতলা ২ ব্লকের এক কর্তার বক্তব্য, ‘‘আমাদের কাছে এমন কোনও অভিযোগ নেই।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)