E-Paper

ভিন্‌ রাজ্যের নেতার ‘ক্লাসে’ পদ্ম-কর্মীরা

হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপি সভাপতি দেবাশীষ সামন্তের দাবি, প্রায় ৮০০ বুথ রয়েছে ‘এ’ স্তরে। ‘বি’ স্তরে প্রায় ২০০, ‘সি’ স্তরে প্রায় ৪০০ বুথ রয়েছে।

সুব্রত জানা

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৭
নেতৃত্বের নির্দেশ মতো বিজেপি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ।

নেতৃত্বের নির্দেশ মতো বিজেপি কর্মীদের বাড়ি বাড়ি জনসংযোগ। ফাইল চিত্র।

শিয়রে ভোট। তৃণমূলের মতো দলের সঙ্গে টক্কর দিতে দলের নিচুতলার কর্মীদের রীতিমতো ‘শিখিয়ে-পড়িয়ে’ নির্বাচনের ময়দানে নামাতে চাইছে বিজেপি। এ জন্য ভিন্‌ রাজ্য থেকে বিজেপি নেতারা বাংলায় আসছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন বিধায়ক, সাংসদ-সহ অন্যান্য নেতারা। গ্রামীণ হাওড়ায় খাতা-কলম নিয়ে দলীয় কর্মীরা তাঁদের কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

উলুবেড়িয়া লোকসভার সাতটি বিধানসভা নিয়ে বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ সাংগঠনিক জেলা। মোট বুথ ১৮৬৩টি। পদ্ম-নেতারা জানাচ্ছেন, প্রশিক্ষণ-পর্বে বুথগুলিকে এ, বি, সি, ডি— এই চার স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা, ’২১-এর বিধানসভা এবং ’২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে যে বুথে তিন বারই বিজেপি এগিয়ে, সেই বুথ থাকছে ‘এ’ স্তরে। ওই তিন নির্বাচনের মধ্যে যে সব বুথে তারা দু’টি ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে, সেগুলি ‘বি’ স্তরে। তিনটির মধ্যে একটি নির্বাচনে যে বুথে তারা এগিয়ে, সেগুলি ‘সি’ স্তরে। যে বুথে তিনটি নির্বাচনের একটিতেও ‘লিড’ নেই, সেগুলি ‘ডি’।

হাওড়া গ্রামীণ জেলা বিজেপি সভাপতি দেবাশীষ সামন্তের দাবি, প্রায় ৮০০ বুথ রয়েছে ‘এ’ স্তরে। ‘বি’ স্তরে প্রায় ২০০, ‘সি’ স্তরে প্রায় ৪০০ বুথ রয়েছে। বাকি ‘ডি’ স্তরে, যেগুলি মূলত সংখ্যালঘু প্রধান বুথ। গ্রামীণ জেলা বিজেপির এক নেতা বলেন, ‘‘১৫০০-র বেশি বুথ কমিটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। বাকি বুথেও কমিটি তৈরির চেষ্টা চলছে। হিন্দু প্রধান এলাকায় সর্বত্র বুথ কমিটি হয়ে গিয়েছে। সেখানে দলীয় কর্মীরা নির্বাচনের কাজে নেমে পড়েছেন। সংখ্যালঘু প্রধান বুথে দলের সংখ্যালঘু মোর্চাকে কাজে লাগিয়ে কমিটি তৈরির চেষ্টা চলছে।’’

গেরুয়া শিবিরের খবর, ভিন্‌ রাজ্য থেকে হাওড়া গ্রামীণে সাত জন নেতা এসেছেন। তাঁদের কেউ প্রাক্তন বিধায়ক, কেউ প্রাক্তন বা বর্তমান সাংসদ, কেউ দলের পদাধিকারী। প্রত্যেক বিধানসভার দায়িত্বে এক জন। প্রশিক্ষণ শিবিরে কর্মীদের যেতে হচ্ছে খাতা-কলম নিয়ে। নেতাদের নির্দেশ, পরিসংখ্যান বা নানা কৌশল লিখে রাখতে হচ্ছে। সেই অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, পরের শিবিরে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কর্মীদের বাড়ি বাড়ি জনসংযোগের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে বোঝানো, বিজেপির প্রতি উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি মানুষের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করতেওবলা হচ্ছে।

বিজেপির এই কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল। হাওড়া গ্রামীণ জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা শ্যামপুরের বিধায়ক কালীপদ মণ্ডলের প্রতিক্রিয়া, ‘‘যে ছাত্র শুধুমাত্র পরীক্ষার সময় কয়েক দিন পড়াশোনা করে, তাদের যেমন রেজ়াল্ট হয়, বিজেপিরও তাই হবে। তৃণমূল সারা বছর মানুষের পাশে থাকে। তাই মানুষ তৃণমূলকেই ভোট দেবে। বিজেপি যথারীতি ব্যর্থ হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy