E-Paper

অতীত ভুলে ঘরের মাঠেই নির্বিঘ্নে ভোট আবাসিকদের

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা ও লাগোয়া অঞ্চলের ৪১টি আবাসনে বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৬
আবাসনেই বুথ।

আবাসনেই বুথ। নিজস্ব চিত্র ।

ভোটের দিন হুমকির মুখে বা হেনস্থা হওয়ার আশঙ্কায় বুথমুখো হতে ভয় পেতেন এ শহরের বহু বহুতলের বাসিন্দারা। অনেক সময়ে ভোট দিতে বেরিয়েও হেনস্থার মুখে পড়ে তাঁদের ভোটদানের আগেই বাড়ি ফিরে আসতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এ বার সেসব অতীত। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তমতো শহরের একাধিক আবাসন চত্বরে বুথ তৈরি হওয়ায় নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন ওইসব বহুতলের বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অনেকেই সাফ বলছেন, ‘‘নিরাপদে ভোটটা এই প্রথম দিলাম।’’

এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতা ও লাগোয়া অঞ্চলের ৪১টি আবাসনে বুথ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বুধবার সেইসব আবাসন চত্বরের মধ্যে ভোট দিয়ে বাসিন্দারা সাফ বলছেন, ‘‘এত দিন ধরে আবাসনের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে আতঙ্ক হত। ভোট দেওয়া আটকাতে আবাসনে চড়াও হওয়ার হুমকিও শুনেছি। এ বার আবাসন চত্বরেই বুথ করায় নির্বাচন কমিশনকে অনেক ধন্যবাদ।’’

কলকাতা (উত্তর) এলাকার এন্টালি বিধানসভার ‘সিলভার স্প্রিং’ আবাসনে এ বার বুথ করেছিল কমিশন। সেখানকার বাসিন্দা অশোক বেদ এ দিন সেখানে ভোট দিয়ে বললেন, ‘‘অতীতে আমাদের আবাসনের বাইরে ধাপা এলাকায় গলির মধ্যে দিয়ে ভোট দিতে যেতে হত। অনেকেই ভয়ে ওখানে ভোট দিতে যেতেন না। এ বারই প্রথম নিরাপদে ভোট দিলাম।’’ একই আবাসনের বাসিন্দা, বছর পঁচানব্বইয়ের গোবর্ধন নোপানিও গিয়েছিলেন ওই বুথে। ভোট দিয়ে বললেন, ‘‘ভোটদান গণতান্ত্রিক অধিকার। এত সুন্দর ভোট জীবনে এই প্রথম দিলাম মনে হয়।’’ বেহালা (পূর্ব) বিধানসভা কেন্দ্রের ডায়মন্ড সিটি সাউথ কমপ্লেক্সের বাসিন্দা প্রগতি সেনগুপ্ত স্বামীর চাকরি সূত্রে বর্তমানে গুজরাতের বদোদরায় থাকেন। ভোট দিতে মঙ্গলবার রাতেই শহরে ফিরেছেন। দিন দুয়েকের মধ্যে ফিরবেন কর্মস্থলে। প্রগতির মতো ভিন্‌ রাজ্যে থাকা, শহরের আবাসনের বাসিন্দাদের অনেকেই এ বার ভোট দিতে শহরে ফিরেছেন। প্রগতির কথায়, ‘‘এ বার আমাদের আবাসনের মধ্যেই বুথ হওয়ায় অনেক কষ্টে দুটো ফ্লাইট পাল্টে কলকাতায় এসেছি।’’

বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের ‘লেক ডিস্ট্রিক্ট’ আবাসনের বুথে এ দিন সকাল থেকেই ভোট দিতে লম্বা লাইন। সেখানকার বাসিন্দা প্রশান্তকুমার ঘোষ, পবিত্র চট্টোপাধ্যায়েরা রাখঢাক না করেই জানালেন, এত দিন বাইরে গিয়ে ভোট দিতে নিরাপদ বোধ করতেন না। তবে এ বারের পরিস্থিতি আলাদা, তাই নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কসবার মঞ্জুলিকা হাউজিং সোসাইটির এক আবাসিক আবার বলছেন, ‘‘শাসকদলের হুমকির কারণে অনেক বছর ভোট দিইনি। ভোটের দিন বাড়ির বাইরে বেরোতেই সাহস হত না। এ বার নিজেদের আবাসনে বুথ হওয়ায় শান্তিতে ভোট দিলাম।’’

এ দিন সাতসকালে এন্টালির ‘অ্যাক্টিভ একরস’ আবাসন চত্বরের বুথেও আবাসিকদের লম্বা লাইন চোখে পড়ল। ওই আবাসনে ভোটারের সংখ্যা প্রায় দু’হাজার। আসিফ শাহ নামে এক আবাসিকের কথায়, ‘‘আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি।’’ সেখানে দায়িত্বে থাকা বিএলও জানালেন, একটাই ইভিএম মেশিন থাকায় একটু দেরি হচ্ছে। সেখানকার একাধিক আবাসিক জানালেন, অতীতে বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সাহস হত না অনেকেরই। কিন্তু এ বার সেই আবহাওয়ার বদল হয়েছে। কসবার ‘আরবানা’ বা বেহালা (পূর্ব) কেন্দ্রের ‘সাউথ সিটি গার্ডেন’-এর বুথের বাইরেও ছিল কার্যতউৎসবের মেজাজ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Residential area

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy