E-Paper

জীর্ণ ভবন নিয়ে চিন্তা দুই শহরে

উত্তরপাড়ার জয়কৃষ্ণ লাইব্রেরি ছাড়িয়ে ক্রাউন গেটের দিকে যেতে ডান দিকে অল্প দূরত্বের মধ্যে পর পর তিনটি কার্যত ভেঙে পড়া প্রাচীন বাড়ি রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ০৭:৪০
বিপজ্জনক বাড়ি। উত্তরপাড়ার জে কে স্ট্রিটে।

বিপজ্জনক বাড়ি। উত্তরপাড়ার জে কে স্ট্রিটে। ছবি: গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে অনেকের মৃত্যুর জেরে হুগলির কোন্নগর, উত্তরপাড়ার মতো শহরে পুরনো ভবন সংরক্ষণ বা বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে। তারাতলা-কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে কড়া পদক্ষেপ করবে কি না, উঠছে সেই প্রশ্ন।

গঙ্গাপারের এই দুই শহরে প্রচুর পুরনো বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে পুরাতত্ত্বের নিরিখে কিছু বাড়ির ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। এ সব ভবন সংরক্ষণযোগ্য বলে মনে করেন অনেকে। এর মধ্যে কিছু ভবন রাজ্য বা কেন্দ্রীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত হলেও, সব হয়নি। অনেক বাড়ি রয়েছে জীর্ণ অবস্থায়, শরিকি বিবাদ বা মামলার কারণে যেগুলির কোনও গতি হয়নি। শহরে পুরনো বাড়ি ভেঙে আবাসন নির্মাণের বাড়বাড়ন্ত হলেও ওই সব বাড়ির ক্ষেত্রে প্রোমোটারও দূরে থাকছেন মামলার কারণে। ঝড়বৃষ্টি হলেই বিপজ্জনক এই সব ভবন চিন্তার ভাঁজ ফেলে শহরবাসীর কপালে।

উত্তরপাড়ার জয়কৃষ্ণ লাইব্রেরি ছাড়িয়ে ক্রাউন গেটের দিকে যেতে ডান দিকে অল্প দূরত্বের মধ্যে পর পর তিনটি কার্যত ভেঙে পড়া প্রাচীন বাড়ি রয়েছে। মাস কয়েক আগে প্রবল ঝড়বৃষ্টিতে লাইব্রেরি ঘেঁষা একটি পুরনো বাড়ির উপরে গজিয়ে ওঠা একটি বড় বটগাছ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে জিটি রোডে পড়ে। বেশি রাতের সেই ঘটনায় রাস্তায় মানুষজন না থাকায় প্রাণহানি হয়নি। দিনের অন্য সময়ে হলে বড় বিপত্তি ঘটতে পারত বলে অনেকের ধারণা।

ক্রাউন গেটের অদূরে রাজকৃষ্ণ স্ট্রিটে একটি পুরনো বাড়ি নিয়ে শরিকি ঝামেলা রয়েছে। বৃষ্টিতে তার দেওয়াল খসে রাস্তায় পড়ে পথচলতি মানুষ জখমও হয়েছেন বলে অভিযোগ। এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, ‘‘বড় ঘটনা ঘটেনি বলেই পুর কর্তৃপক্ষ, পূর্ত দফতর, প্রশাসনের নজর নেই। মানুষের প্রাণ গেলে ওঁরা ছুটে আসবেন। বাড়ি বিপজ্জনক বলে পুরসভা একটা নোটিস পর্যন্ত ঝোলায়নি।’’

উত্তরপাড়ার পুরপ্রধান দিলীপ যাদবের বক্তব্য মেলেনি। পুর পারিষদ (পূর্ত) ইন্দ্রজিৎ ঘোষ অবশ্য বলেন, "একটা সময় ভাঙা বাড়ি নিয়ে পুরসভার তরফে নোটিস দেওয়া হত মালিকদের। কিন্তু বহু সময় শরিকদের বিবাদে মামলা থাকে। তবে, নির্দিষ্ট কেউ অভিযোগ করলে নোটিস দেওয়া যেতে পারে।"

গৌরী সিনেমা হলের উল্টো দিকে, জিটি রোডের পাশে উত্তরপাড়া হাসপাতালের পেল্লায় পুরনো বর্হিবিভাগ ভবন ভগ্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। উত্তরপাড়ার দিক থেকে কোন্নগরে ঢুকতেই ডান দিকে জিটি রোডের ধারে একটি বন্ধ কারখানার উঁচু পাঁচিল। সেই পাঁচিলের যা হাল, যে কোনও সময় ভেঙে জিটি রোডে গাড়ি বা মানুষের উপরে পড়ার আশঙ্কা। আরও কিছুটা এগিয়ে জিটি রোডের পাশেই ভাষা শহিদের ভগ্নপ্রায় বাড়ি। পাশে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাগানবাড়ি রক্ষিত হলেও ওই বাড়িটি নিয়ে কারও হুঁশ নেই বলে শহরবাসীর একাংশের খেদ।

কোন্নগরের পুরপ্রধান স্বপন দাস বলেন, ‘‘পুরনো বাড়ি নিয়ে কোনও অভিযোগ পেলেই আমরা পুরসভার বাস্তুকারদের দিয়ে তদন্ত করাই। তার পরে বাড়ির মালিকদের নোটিস ধরানো হয়। তাঁদের পাওয়া না গেলে বিপজ্জনক বোর্ড ঝোলানো হয়। তবে ভাষা শহিদের পরিবার আগ্রহী নন ওই বাড়ি সংস্কার নিয়ে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Howrah

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy