এনুমারেশন ফর্ম (গণনাপত্র) যথাযথ ভাবে পূরণ করেছেন। ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল। তাঁর বাবার নামও ছিল। কিন্তু তার পরেও এসআইআরে শুনানির জন্য হাজির হতে হয়েছে হুগলির দিলশাদ আনসারিকে। কেন? প্রশ্ন শুনে বিরক্তিপ্রকাশ করলেন। গম্ভীর হতে গিয়ে হেসেই ফেললেন সেই যুবক। তার পর ধীরে ধীরে বললেন, ‘‘জানতাম না তো আমার বাবার আরও দুই ছেলে আছে! এখন আমি যে আমার বাবার ছেলে, তারই প্রমাণ দিতে এলাম।’’
শনিবার হুগলির বাঁশবেড়িয়ার অনেক বাসিন্দা হাজির হয়েছিলেন শুনানিকেন্দ্রে। তাঁদেরই এক জন দিলশাদ আনসারি। বাঁশবেড়িয়ার সপ্তগ্রাম পঞ্চায়েতের ৮৭ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। দিলশাদ জানান, কয়েক পুরুষ ধরে তাঁদের বাঁশবেড়িয়াতে বাস। নিয়মিত ভোট দেন। এসআইআরের জন্য প্রয়োজনীয় গণনাপত্রও পূরণ করেছেন। তার পরেও শুনানির নোটিস পেয়েছেন। দিলশাদ বলেন, ‘‘জন্মের পর থেকে জানতাম আমরা চার ভাই। এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পরে জানতে পারলাম, আমরা ছয় ভাই!’’
দিলশাদ জানান, তাঁকে তলবের কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছে, তাঁর বাবার ছয় পুত্র। তিনি বলেন, ‘‘তলবের কারণ দেখে আমার নিজের হাসি পাচ্ছে। বলা হয়েছে, আমার বাবার নাকি ছয় সন্তান। আমাদের চার ভাই বাদে আরও দু’জন আমাদের বাবাকে তাঁদের বাবা বলে দাবি করেছেন। কী করি বলুন তো?’’
যুবকের অভিযোগ, তিনি যে বুথের ভোটার সেখানে মোট ভোটার সাড়ে আটশোর আশেপাশে। ৮০ শতাংশ ভোটারই শুনানির নোটিস পেয়েছেন। লাইনে তাঁর সামনে-পিছনে একই বুথের বাসিন্দাকে দেখে দিলশাদ বলেন, ‘‘এরা সব ভুয়ো ভোটার?’’ মোদী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ওই যুবক। কাজ ফেলে লাইন দিয়ে ‘বাবার ছেলে’ প্রমাণ দিতে গিয়ে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘২০১১ সাল থেকে মানুষ শুধু লাইনেই আছে। নোটবন্দির লাইন। কোভিডের লাইন। টিকা নেওয়ার লাইন। এ বার আমাকে প্রমাণ দিতে হবে আমি আমার বাবার ছেলে নাকি! তাতেও লাইন।’’
আরও পড়ুন:
শনিবার শুনানিকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন বয়স্করাও। সেই নিয়েও অভিযোগ অনেক। শুধু শুনানির জন্যই বিদেশ থেকে ফেরা মহম্মনদ সাবির খান বলেন, ‘‘ইমার্জেন্সি ছুটি নিয়ে সৌদি আরব থেকে বাড়ি এলাম। এসআইআরের শুনানিতে হাজির হতে হবে যে!’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘শুনানিতে ডাকা হচ্ছে এমন অনেককে যাঁরা এখন বিদেশে। আমি না-হয় চাকরি করি বলে ছুটি পেলাম। সৌদিতে এমন প্রচুর মানুষ রয়েছেন যাঁরা শ্রমিকের কাজ করেন। চট করে কাজ ছেড়়ে তাঁদের পক্ষে বাড়ি ফেরাও সম্ভব নয়। আবার সেটা হলে খরচ বহন করাও অনেকের পক্ষে অসম্ভব। তাঁদের নিয়ে সরকার কি কোনও ভাবনাচিন্তা করেছে? জানি না। আমাকে তো আসতেই হল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
২৩:৩৭
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি -
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা
-
জোকার ট্রাইবুনাল অফিসের কাজ প্রায় শেষ, শীঘ্রই শুরু হবে শুনানি, সম্পন্ন ১৯ প্রাক্তন বিচারপতির সহায়কদের প্রশিক্ষণ