E-Paper

জোড়া ধাক্কায় হুগলিতে কমল চন্দ্রমুখীর চাষ

মূলত হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে চন্দ্রমুখীর চাষ হয়। বিচ্ছিন্ন ভাবে পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েকটি ব্লকেও হচ্ছে।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় 

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১৩
বিক্রি না হওয়া আলুর ঠাঁই হিমঘরের বাইরে। তারকেশ্বরে।

বিক্রি না হওয়া আলুর ঠাঁই হিমঘরের বাইরে। তারকেশ্বরে। নিজস্ব চিত্র ।

চন্দ্রমুখী প্রজাতির আলুর চাষ কমেছে হুগলিতে।

গত মরসুমে এই আলুতে দাম মেলেনি। তার পরে আলুবীজের দাম চড়েছে। জোড়া ধাক্কাতেই এ বার চন্দ্রমুখীর চাষ কম বলে চাষি থেকে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য। তাঁরা জানাচ্ছেন, বীজের দামের ছেঁকায় বহু চাষি নিজের ঘরে খাওয়ার জন্য হিমঘরে রাখা আলুই বীজ হিসাবে জমিতে বসিয়েছেন। চন্দ্রমুখীর চাষ এ বার কম হওয়ার কথা মানছেন জেলার কৃষিকর্তারা। তবে, তাঁদের দাবি, এর কারণ অন্য।

মূলত হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানে চন্দ্রমুখীর চাষ হয়। বিচ্ছিন্ন ভাবে পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েকটি ব্লকেও হচ্ছে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জ্যোতি আলু খাওয়ার চলন থাকলেও গুণমানে চন্দ্রমুখীর ভাল কদর রয়েছে। জ্যোতি আলুর চেয়ে দামও বেশি। হুগলির পুরশুড়া, তারকেশ্বর, ধনেখালি, হরিপাল, সিঙ্গুর ছাড়াও বর্তমানে জাঙ্গিপাড়া ব্লকেওচন্দ্রমুখীর চাষ হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর-সহ কয়েকটি ব্লকে এই আলুর ফলন হয়।

চাষিদের একাংশের বক্তব্য, ভাল দামের আশায় তাঁরা চন্দ্রমুখী আলু শেষ পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু, আশা পূরণ হয়নি। অবিক্রিত চন্দ্রমুখী আলু হুগলির অনেক হিমঘরের বাইরেই পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি, এ বার চন্দ্রমুখীর বীজআলুর দাম পড়েছে প্যাকেটপিছু (৫০ কেজি) ৩৭০০ থেকে ৪০০০ টাকা করে। গত বারে তা ছিল ২৫০০-২৮০০ টাকা। অনেক আলুচাষি মনে করছেন, বর্ধিত দামে আলুবীজ কিনলে চাষের খরচ বাড়বে। বিক্রির অনিশ্চয়তা থাকায় সেই খরচ করতে তাঁরা সাহস পাচ্ছেন না।

ধনেখালির আলুচাষি কাশীনাথ পাত্র বলেন, ‘‘বীজ এবং সার মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে চন্দ্রমুখী চাষের খরচ যে জায়গায় উঠেছে, তা বহন করা সাধারণ চাষিদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।’’ জেলা কৃষি দফতরের কাছে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও অভিজ্ঞ চাষিরা জানাচ্ছেন, হুগলিতে প্রতি মরসুমে ২৫ থেকে ৩০ হাজার একর জমিতে চন্দ্রমুখীর চাষ হয়। এ বার তার চেয়ে কম হবে বলেই তাঁরা মনে করছেন। আলুচাষি সংগঠনের কর্তা স্বপন সামন্তের অবশ্য বক্তব্য, ‘‘হুগলিতে চন্দ্রমুখী আলুর চাষ এ বারে কিছুটা কম হয়েছে, এটা ঘটনা।কিন্তু আমাদের কাছে খবর, বর্ধমানে চাষ কিছুটা বাড়বে। মোটের উপরে রাজ্যে চন্দ্রমুখীর চাষের জমির পরিমাণ ঠিকই থাকবে।’’

হুগলিতে এ বারে চন্দ্রমুখী আলুর চাষের পরিমাণ কিছুটা কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার কৃষি অধিকর্তা মৃত্যুঞ্জয় মুর্দ্রান্য। এ ব্যাপারে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘চন্দ্রমুখী আলু পুরনো প্রজাতির। হিমাঙ্গিনীর মতো নতুন প্রজাতির উচ্চ ফলনশীল বীজবাজারে এসে যাওয়ার চাষিরা এখন সে দিকেই ঝুঁকছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Hooghly

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy