দিল্লির জামা মসজিদ এলাকা থেকে গ্রেফতার হলেন হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার খুনে মূল অভিযুক্ত হারুন খান এবং রোহিত হোসেন। হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দাদের হাতে বৃহস্পতিবার সকালে তাঁরা গ্রেফতার হন। হাওড়া পুলিশ জানিয়েছে, খুনের পর ওই দু’জন কলকাতা থেকে বিহার হয়ে দিল্লি পালিয়ে গিয়েছিলেন। ধৃতদের সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে। তারাই প্রোমোটারের খুনের তদন্ত করছে।
হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পিলখানায় প্রোমোটার সৌফিক খানের খুনের পর থেকে ফেরার ছিলেন হারুন এবং রোহিত। হাওড়া পুলিশ (উত্তর)-এর সুপার শেখ হবিবুল্লাহ জানিয়েছেন, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে খবর সংগ্রহ করে ওই দু’জনের খোঁজ চালাচ্ছিল হাওড়া সিটি পুলিশ। তাঁদের খুঁজতে প্রযুক্তির ব্যবহারও করা হচ্ছিল। জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে পালিয়ে বিহারে গিয়েছিলেন দু’জন। সেখান থেকে দিল্লি পালিয়ে যান। স্টেশনে বসানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এবং সূত্র মারফত খবর পেয়ে শেষপর্যন্ত দিল্লি থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
পিলখানাকাণ্ডে তিন জনকে গ্রেফতার করেছিল হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট। ধৃতদের নাম মহম্মদ বিলাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেন। কলকাতার বড়বাজার এলাকায় মুন্নার বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মুন্নার বক্তব্য ছিল, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে হত্যাকাণ্ডের পরে মূল অভিযুক্ত হারুন এবং রোহিত তাঁর কাছে ওই আগ্নেয়াস্ত্র এবং ম্যাগাজিন লুকিয়ে রাখার কথা বলে পালিয়ে যান।
আরও পড়ুন:
-
কেন অধরা অভিযুক্তেরা? পিলখানায় প্রোমোটার খুনের প্রতিবাদে গোলাবাড়ি থানা ঘেরাও করল বামেরা! উত্তেজনা
-
৫০ হাজার টাকার কুর্তি নিয়ে ‘গ্যাংস অফ পিলখানা’র অশান্তি, প্রোমোটার খুনের নেপথ্যের কারণ বার করল পুলিশ
-
কলকাতা পুলিশ এবং সিপিএমের ৪৫ মিনিটের স্নায়ুযুদ্ধ! শেষমেশ বিবাদী বাগে স্বাক্ষরিত হল ইন্দিরা এবং সেলিমের ‘ভদ্রলোকের চুক্তি’
এ বার মূল অভিযুক্ত রোহিত এবং হারুনকে গ্রেফতার করা হল। স্থানীয় বিজেপি নেতা উমেশ রাইয়ের দাবি ছিল, সৌফিক এবং হারুন, দু’জনেই খুব বন্ধু ছিলেন। সম্পর্কে চিড় ধরে কয়েক বছর আগে গোলাবাড়ি এলাকাতেই একটি গুলি চালানোর ঘটনায়। ওই মামলায় দু’জনেই একসঙ্গে জেল খাটেন। তার পর দু’জনের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়। জেল থেকে বেরিয়ে দু’জনে আলাদা আলাদা দল (গ্যাং) তৈরি করেন। বিরোধীদের দাবি, বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে এলাকায় নানা দুষ্কর্মের অভিযোগ ছিল সৌফিক এবং হারুন, দু’জনের বিরুদ্ধেই।