E-Paper

অবাধে জলাজমি ভরাট হাওড়ায়, ভয়ে মুখে কুলুপ পঞ্চায়েত-প্রধানেরও

হাওড়ার ডোমজুড় ব্লকের খাঁ পাড়া ও কবরপাড়ার পিছন দিকে কয়েক একর জায়গা জুড়ে রয়েছে জলাজমি ও পুকুর। বর্ষারসময়ে দু’টি জলাশয়ই ডুবে থাকে জমা জলে। যে কারণে কখনও অতিবৃষ্টি হলেও ওই এলাকাগুলি ডুবে যায় না।

দেবাশিস দাশ

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৭
বেআইনি: বাঁকড়ার এই জলাজমি মাটি ফেলে বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে। মঙ্গলবার, হাওড়ায়।

বেআইনি: বাঁকড়ার এই জলাজমি মাটি ফেলে বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে। মঙ্গলবার, হাওড়ায়। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার।

হাওড়া শহর লাগোয়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বাঁকড়ায় জলাজমি বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকার এক ও দুই নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের খাঁ পাড়াএবং কবরপাড়ার দু’টি জলাজমি ছিল বর্ষার অতিরিক্ত জল ধরে রাখার অন্যতম দুই প্রধান জলাধার। অভিযোগ, সেই দু’টি জলাশয়ের উপরে এ বার নজর পড়েছে জমি মাফিয়াদের। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, কেএমডিএ-র উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নাম করে লরি লরি মাটি ফেলে বুজিয়ে ফেলা হচ্ছেএকরের পর একর জলাজমি ও পুকুর। এর ফলে আগামী বর্ষায় গোটা এলাকা ভাসবে জেনেও জমিমাফিয়াদের ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না তাঁরা। অভিযোগ, বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে যে, নিজের এলাকার ক্ষতি হচ্ছে জেনেও জমি মাফিয়াদের ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানেরাও।

হাওড়ার ডোমজুড় ব্লকের খাঁ পাড়া ও কবরপাড়ার পিছন দিকে কয়েক একর জায়গা জুড়ে রয়েছে জলাজমি ও পুকুর। বর্ষারসময়ে দু’টি জলাশয়ই ডুবে থাকে জমা জলে। যে কারণে কখনও অতিবৃষ্টি হলেও ওই এলাকাগুলি ডুবে যায় না। কিন্তু সম্প্রতি কচুরিপানায় ভর্তি ওই দু’টি জলাজমি মাটি ফেলে ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। তারআগে ওই জলাজমির ধারের কয়েকটি বস্তির বাসিন্দাদের কার্যত জোর করে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই সঙ্গে এলাকায় রটিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ওই জায়গায় কেএমডিএ-র আবাসন প্রকল্প হবে। এর পরেই দিনেদুপুরে রীতিমতো জেসিবি এনে ভরাটের কাজ শুরু করে দেন এলাকার কয়েক জন জমিমাফিয়া। এই ‌পরিস্থিতিতে বর্ষাকালে এলাকার অবস্থা কী হবে, তাভেবেই প্রমাদ গুনছেন খাঁ পাড়া ও কবরপাড়ার লোকজন। এলাকার বাসিন্দা রহিম মোল্লা বললেন, ‘‘প্রশাসনের চোখের সামনেই একরের পর একর জলাজমি, পুকুর, খাল বুজিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আগামী দিনে আমাদের এলাকাজলে ভাসবে। আসলে নেতা ও পুলিশের একাংশকে টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করে বাসিন্দাদের সর্বনাশ করা হচ্ছে।’’

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু এই দু’টি জলা নয়, বাঁকড়া এক ও দুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার আরও বেশ কিছু জলা বুজিয়ে ফেলেবহুতল তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসন সব জেনেও নীরব দর্শক মাত্র। তবে, ওই সমস্ত জলা বুজিয়েআবাসন তৈরির প্রকল্প যে কেএমডিএ-র নয়, তা স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন কেএমডিএ-র হাওড়ার দায়িত্বে থাকা পদস্থ কর্তারা। এমনই এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘শুনেছি, কলকাতার কোনও সংস্থা ওই জমি কিনে ভরাটের কাজ করছে। এর সঙ্গে কেএমডিএ-র কোনও যোগ নেই। সরকারি কাজ এ ভাবে হয় না।’’

ওই সব জলাজমি এবং পুকুরগুলি মাটি ফেলে বুজিয়ে দেওয়ার ফলেতাঁর এলাকা যে আগামী বর্ষায় ভাসবে, তা মেনে নিয়েই বাঁকড়া এক নম্বরগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আক্তার হোসেন মোল্লা বলেন, ‘‘জলাজমিতে মাটি ফেলে যে ভাবে জমি উঁচু করা হচ্ছে, তাতে আমাদের পঞ্চায়েত এলাকাগুলি বর্ষার সময়ে জলে ভাসবে। কিন্তু আমার কিছু করার নেই। আমি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ কোনও ব্যবস্থা নেননি।’’

জলাজমি ভরাট করা যেখানে আইনত নিষিদ্ধ, সেখানে হাওড়া শহর লাগায়ো এলাকায় কী ভাবেদিনেদুপুরে জলাজমি ভরাটের কাজ চলছে, এই প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। এ বিষয়ে হাওড়া জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘‘জলাজমি ভরাটের কোনও অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Howrah Panchayat

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy