স্টেশনের পাশে জঞ্জালের স্তূপ শহরকে দূষিত করছে
এই শহরেই ছোট থেকে বড় হয়েছি। স্বভাবতই নিজের শহরকে খুব ভালবাসি। জীবনযাত্রার মানের নিরিখে প্রতিদিন এগিয়ে চলেছে এ শহর। পেল্লাই আবাসন ধীরে ধীরে শহরকে ঢাকছে। আগের চেয়ে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। আর তাই পরিষেবার ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যাপারে খামতিটা ক্রমশ বড় আকার নিচ্ছে। খবরের কাগজে পড়েছি, বৈদ্যবাটির দীর্ঘাঙ্গিতে কঠিন বর্জ্য প্রতিস্থাপন প্রকল্প হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি সেই প্রকল্প চালু হয়, ততই মঙ্গল। কেননা, স্টেশনের পূর্বদিকে যে ভাবে জঞ্জালের পাহাড় জমে থাকে, তা এই শহরের নাগরিক হিসেবে আমাকে পীড়া দেয়। জঞ্জালের স্তূপ রোগ-জীবাণুর আঁতুর ঘর। অথচ সেই স্তূপের পাশেই বেঁচে থাকার তাগিদে বহু মানুষ বাস করেন। পুর কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এ দিকে নজর দিন। চাই শহর হোক আবর্জনামুক্ত, পরিচ্ছন্ন। স্টেশনের পাশ দিয়ে রেল লাইনের ধার ঘেঁষে কোন্নগরমুখী রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো নেই। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে রিষড়ার প্রধান জায়গা রবীন্দ্রভবন। রবীন্দ্রভবনের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার জরুরি। যাতে শহরের শিল্পীরা তো বটেই, বাইরের কলাকুশলীরাও স্বচ্ছন্দে অনুষ্ঠান করতে পারেন এখানে।
রূপম বসু, এন কে ব্যানার্জি স্ট্রিট।
শহরে সবুজায়নের দিকে নজর দিক প্রশাসন
‘আমার শহর’-এর মোড়কে যে সংবাদ আপনারা পরিবেশন করছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। রিষড়ার নাগরিক হিসেবে এই শহরের কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরতে চাই। শহরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল যেন একটু একটু করে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রুচিসম্মত সংস্কৃতির ঘাটতি লক্ষ্য করছি। কোনও অনুষ্ঠান হলে প্রচণ্ড জোরে সাউন্ড বক্সে চটুল গান বাজিয়ে আনন্দ করাটাই যেন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা উদ্যোগী হয়ে আরও বেশি করে সুষ্ঠ সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করুন, এটাই আবেদন। ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কমিউনিটি হলের সামনে প্রায়ই দেখি খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে রয়েছে। ওই স্থান যাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে সে দৃষ্টি দিক পুরসভা। স্টেশনের পাশে জঞ্জালের স্তূপ এই শহরের আর এক যন্ত্রণা। শহরে সবুজায়নের অভাব রয়েছে। কংক্রিটের রাস্তা করতে গিয়ে অনেক জায়গায় কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়ার মতো অনেক গাছ কাটা পড়েছে। বৃক্ষরোপণের দিকে একটু নজর দেওয়া জরুরি। শহরে যে ভাবে চুরি-ছিনতাই বাড়ছে তাতে আইন-শৃঙ্খলাও পরিস্থিতি আরও ভাল হওয়া দরকার। চাই, দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে পুলিশ-প্রশাসন আরও তৎপর হোক।
শুভায়ন মিত্র, টি সি মুখার্জি স্ট্রিট।
অবিলম্বে আন্ডারপাসের প্রয়োজন
প্রায় পাঁচ-ছয় লক্ষ মানুষের বাস এই শহরে। নানা ভাষা, নানা সংস্কৃতি একে অন্যের সঙ্গে মিশে গিয়েছে এই শহরে। হাওড়া-ব্যান্ডেল রেলপথ শহরের বুক চিরে চলে গিয়েছে। রিষড়ার পশ্চিমপাড়ে যাতায়াতের একমাত্র পথ রেল লাইনের লেভেল ক্রসিংয়ের মুখটি চরম অব্যবস্থাপূর্ণ। রেলগেট সংলগ্ন যাতায়াতের পথ ভীষণ সরু, ঘিঞ্জি। সবসময়েই গাড়িঘোড়া আর পথচলতি মানুষের ভিড়ে জট পাকিয়ে থাকে। এক বার রেল গেট পড়লে দুর্দশার সীমা থাকে না। অসংখ্য গাড়ির লাইন পড়ে যায়। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে লেভেল ক্রসিং পেরোতে পারেন তার ব্যবস্থা করা জরুরি। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আন্ডারপাস হওয়ার কথা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। সেটা যাতে দ্রুত করা যায় তার দাবি জানাচ্ছি। রিষড়া স্টেশনের পশ্চিম দিকে টিকিট কাউন্টার নেই। এ দিকে রেলের অনেকটা জমি রয়েছে। এখানে একটি টিকিট কাউন্টারের খুবই প্রয়োজন। ওভারব্রিজ বা অন্য পথ না থাকায় পশ্চিমপাড়ের মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে পূর্বদিকে টিকিট কাটতে যেতে হয়।
বেগম নুপুর আলি, মোড়পুকুর।
নিকাশি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হোক পুরসভা
‘আমার শহর’ প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ। এই চিঠির মাধ্যমে রিষড়ার কিছু বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। আমি যেখানে থাকি সেই বাগপাড়া আজও পিছিয়ে পড়া এলাকা বললেই চলে। একটু বৃষ্টিতেই জল জমে যায় এলাকায় সেই জল সরতে অনেক সময় লেগে যায়। বৃষ্টি হলেই রিকশার ভাড়া এক লাফে দ্বিগুণ হয়ে যায়। উপযুক্ত পরিকল্পনা করে রিষড়ার পশ্চিমপাড়ের নিকাশি ব্যবস্থা ঢেলে সাজা দরকার। শহরে সুস্থ সংস্কৃতির উপযুক্ত প্রেক্ষাপট তৈরি করা দরকার। শহরের পশ্চিমে কোনও প্রেক্ষাগৃহ আজ পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। রবীন্দ্রভবনেরও সংস্কার দরকার। আমাদের ওয়ার্ডে সরকারি জমি রয়েছে। সেখানে একটি মুক্তাঙ্গন যাতে তৈরি করা যায়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পরিষেবার ক্ষেত্রে দরকার সঠিক পরিকল্পনা। না হলে জনসংখ্যার বাড়তি চাপে অনেক সমস্যাই মারাত্মক হয়ে দেখা দেবে।
স্বপন দে, বাগপাড়া মেন রোড