Advertisement
E-Paper

বিধানসভার পর লোকসভাতেও ভাঙছে তৃণমূল? জল্পনার মধ্যেই এ বার মমতার ‘ব্যর্থতাকে’ দুষে পোস্ট করলেন সাংসদ কাকলি

গত ২ জুন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা। সেখান থেকে নাম না-করে কাকলির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন তিনি। এ বার সমাজমাধ্যমে মুখ খুললেন বারাসতের সাংসদ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৩:২২
(বাঁ দিকে) তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভায় পরিষদীয় দলে তৃণমূলের ভাঙন স্পষ্ট হয়েছে। এ বার কি লোকসভার পালা? লোকসভায় তাদের সংসদীয় দলও কি ভেঙে যেতে চলেছে? গত কয়েক দিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই জল্পনা জোরদার হয়েছে। তার মধ্যেই লোকসভার সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যর্থতাকে দুষে মুখ খুললেন। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করলেন, পূর্বতন সরকারের নীতির বিরুদ্ধেই ভোটবাক্সে রায় দিয়েছেন মানুষ। সেটাই ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির কারণ।

গত ২ জুন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা। সেখান থেকে নাম না-করে কাকলির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন তিনি। দাবি, বিধানসভা ভোটে কাকলির পুত্রকে টিকিট দেওয়া হয়নি বলেই তিনি বেসুরো মন্তব্য করছেন। শুক্রবার কাকলি সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘‘রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসা চার বারের সাংসদ, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, তিনি নিজের কথা ভাবেন বলে মনে হয়? এটা আসলে নীতি এবং সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে মানুষের রায়।’’ মনে করা হচ্ছে, মমতাকেই জবাব দিলেন বারাসতের সাংসদ। স্কটিশ কবি চার্লস ম্যাকায়ের কবিতার কয়েক লাইনও পোস্ট করেছেন কাকলি। যার সারবত্তা— কর্তব্যের সংগ্রামে জড়িয়ে পড়লে না চাইতেও অনেক শত্রু তৈরি হয়ে যায়। যদি শোনা যায়, কারও কোনও শত্রু নেই, তবে বুঝতে হবে তিনি কাজ করছেন না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনও যোগ আলাদা করে পোস্টে উল্লেখ করেননি কাকলি।

কাকলি দীর্ঘ চার দশক ধরে রাজনীতির পথে মমতার সঙ্গী। ছাত্র রাজনীতির সময় থেকে মমতার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। কিছু দিন আগে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেন মমতা। তাঁর জায়গায় আনা হয় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। পদ হারানোর পরের দিনই সমাজমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন কাকলি। লিখেছিলেন, ‘‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’’

বিতর্ক থেমে থাকেনি। এর পর নদিয়ার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেন কাকলি। তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। কাকলিকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেয় অমিত শাহের মন্ত্রক। বিজেপির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা জল্পনা দানা বেঁধেছে। এর মধ্যেই বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দেন তৃণমূলের ৫৯ জন বিধায়ক। মমতা বিরোধী দলনেতা করেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। সেই সিদ্ধান্ত দলের বিধায়কদের একাংশই মানতে চাননি। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা বর্তমানে অভিষেক। কিন্তু তাঁকেও অনেকে মানতে চাইছেন না। বিধানসভার ধাঁচে সেখানেও কোনও পরিবর্তন হবে কি না, যদি হয়, তাতে কাকলির ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঋতব্রতকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিশেষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বলেছেন, ‘‘সাংসদদের প্রত্যেকের সঙ্গেই আমার ভাল সম্পর্ক। কিন্তু গত সাত দিন কারও সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি।’’

Kakoli Ghosh Dastidar Mamata Banerjee TMC Lok Sabha
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy