Advertisement
E-Paper

চার দশকের আনুগত্যের পুরস্কার পেলাম! কালীঘাটের বৈঠকের পর মুখ খুললেন কাকলি, পদ হারিয়ে হতাশ তৃণমূল সাংসদ

তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে বৃহস্পতিবার কালীঘাটে একটি বৈঠক করেন মমতা। সেখানেই কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকে ফের মুখ্যসচেতক করার কথা জানান। তার পর সকালে মুখ খুললেন কাকলি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ মে ২০২৬ ১০:৫০
(বাঁ দিকে) তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার পরেই কাকলি সমাজমাধ্যমে মুখ খুললেন। তাঁর পোস্টে অনুযোগ এবং হতাশার সুর রয়েছে। চার দশকের আনুগত্যের এই ‘পুরস্কার’ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন কাকলি।

তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে বৃহস্পতিবার কালীঘাটে একটি বৈঠক করেন মমতা। সেখানেই কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকে ফের মুখ্যসচেতক করার কথা জানান। কাকলি সকালের পোস্টে লিখেছেন, ‘‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’’ উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে মমতা যখন ছাত্র পরিষদের নেত্রী, তখন একইসঙ্গে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনে যুক্ত ছিলেন কাকলিও। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতেন, মমতা ছিলেন যোগমায়া দেবী কলেজে। সেই সময়েই কাকলির সঙ্গে মমতার পরিচয় হয়েছিল। পোস্টে সে কথা জানিয়েছেন বারাসতের সাংসদ। এর পর ১৯৮৪ সালে মমতা যাদবপুর থেকে প্রথম ভোটে লড়েন এবং সিপিএম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাস্ত করেন। দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতির পথে মমতার সঙ্গে রয়েছেন কাকলি।

গত ব‌ছর অগস্টে কল্যাণ আচমকাই সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তখন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে প্রকাশ্যে তাঁর তরজা চলছিল। মমতা তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করে নেন এবং কাকলিকে ওই পদে নিয়োগ করেন। এর আগে কাকলি দীর্ঘ দিন ধরে লোকসভায় তৃণমূলের উপদলনেতা পদে ছিলেন। কল্যাণ সরে যাওয়ায় তাঁকে মুখ্যসচেতক করার পর উপদলনেতা করা হয়েছিল শতাব্দী রায়কে। এখন কল্যাণ ফের পুরনো পদে ফিরেছেন। শতাব্দী উপদলনেতা রয়েছেন। ফলে সংসদীয় দলে কাকলির আর কোনও পদ রইল না। তৃণমূলের অনেকের মতে, সেই কারণেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়েছে তৃণমূল। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তার পর থেকে দলের অন্দরের কোন্দলগুলি একে একে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিধানসভায় বিধায়ক হিসাবে শপথ নেওয়ার পর বৃহস্পতিবারই কুণাল ঘোষ সমাজমাধ্যমে মুখ খোলেন। জানান, তাপস রায়, সজল ঘোষদের মতো নেতাদের তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তাই দলের ‘আত্মবিশ্লেষণ’ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। দলবিরোধী মন্তব্য করার জন্য একাধিক মুখপাত্রকেও সাসপেন্ড করতে হয়েছে তৃণমূলকে। এই পরিস্থিতিতে কালীঘাটের বৈঠক থেকে দলের দুর্দিনে সাংসদদের ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকার বার্তা দিয়েছেন মমতা। তবে তার পরের দিনই কাকলির পোস্টে অনুযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেল। বারাসতে কাকলির কেন্দ্রে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিতেই বিজেপি জিতেছে। একই ভাবে কল্যাণের কেন্দ্র শ্রীরামপুরেও তৃণমূল পরাজিত ৫-২ ব্যবধানে। ফলে বিধানসভা ভোটের ফলাফল মুখ্যসচেতক পদে রদবদলের সূচক হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। কী কারণে কল্যাণকে পুরনো পদে ফেরানো হল এবং কাকলিকে সরিয়ে দেওয়া হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Kakoli Ghosh Dastidar TMC TMC internal conflict BJP Mamata Banerjee Kalyan Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy