তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিল অমিত শাহের মন্ত্রক। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে কাকলিকে ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে খবর। সংবাদসংস্থা এএনআই সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানিয়েছে। কিছু দিন আগেই লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে পদ হারিয়েছিলেন কাকলি। মুখ্যসচেতক পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে সেখানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এর পরের দিনই সমাজমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন বারাসতের সাংসদ। এ বার তিনি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেলেন।
সূত্রের খবর, কাকলির নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করে দেখেছিলেন গোয়েন্দারা। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর মূল্যায়নের রিপোর্ট জমা পড়েছিল শাহের মন্ত্রকের কাছে। তার পরেই কাকলির নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। সিআইএসএফ আধিকারিকেরা কাকলির নিরাপত্তায় নিযুক্ত রয়েছেন। ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা প্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে সাধারণত সর্বক্ষণ কেন্দ্রের সশস্ত্র জওয়ানেরা থাকেন। ১৯ মে থেকেই এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কার্যকর হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত বৃহস্পতিবার তৃণমূলের সাংসদদের নিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বৈঠক করেছিলেন। সেখানেই লোকসভার সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে কাকলিকে সরিয়ে কল্যাণকে নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন মমতা। শুক্রবার এ বিষয়ে সমাজমাধ্যমে মুখ খোলেন কাকলি। লেখেন, ‘‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪-তে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’’ উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে মমতা যখন ছাত্র পরিষদের নেত্রী, তখন একইসঙ্গে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনে যুক্ত ছিলেন কাকলিও। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র রাজনীতি করতেন, মমতা ছিলেন যোগমায়া দেবী কলেজে। সেই সময়েই কাকলির সঙ্গে মমতার পরিচয় হয়েছিল। এর পর ১৯৮৪ সালে মমতা যাদবপুর থেকে প্রথম ভোটে লড়েন এবং সিপিএম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাস্ত করেন। দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতির পথে মমতার সঙ্গে রয়েছেন কাকলি। পোস্টে সেই ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন বারাসতের সাংসদ। তিনি যে হতাশ, তা এই দু’লাইন থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে কল্যাণই ছিলেন। গত অগস্টে আচমকা তিনি এই পদ থেকে ইস্তফা দেন। সেই সময় কাকলিকে মুখ্যসচেতক করেছিলেন মমতা। কাকলি নিজে দীর্ঘ দিন লোকসভায় তৃণমূলের উপদলনেতা পদে ছিলেন। মুখ্যসচেতক হওয়ায় সেই পদে বসানো হয় শতাব্দী রায়কে। কল্যাণকে আবার পুরনো পদে ফেরানোয় কাকলির কাছে আর কোনও পদ ছিল ন। সেই কারণেই তিনি ক্ষোভ এবং হতাশা উগরে দিয়েছেন বলে অনেকে মনে করেছিলেন। কিন্তু এই ঘটনাপরম্পরায় কাকলির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। তৃণমূলের অন্দরেই তৈরি হয়েছে জল্পনা। কাকলি নিজে বা বিজেপির কেউ এ বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। তবে একান্ত আলোচনায় অনেকে বলছেন, সমাজমাধ্যমে মুখ খোলা এবং হতাশা প্রকাশের ‘পুরস্কার’ পেলেন কাকলি।