নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ তুলে এ বার বিধানসভা চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভ করলেন তৃণমূলের বিধায়কেরা। ভোট-পরবর্তী অশান্তির পাশাপাশি হকার উচ্ছেদ এবং নির্মাণ ভাঙতে বুলডোজ়ার ব্যবহারের বিরোধিতায় সুর চড়ান তাঁরা। বুধবার বিধানসভায় বিআর অম্বেডকরের মূর্তির পাদদেশে দলের অর্ধেকেরও কম বিধায়ককে নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই অবস্থান কর্মসূচি।
রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকে বিভিন্ন জেলায় অশান্তির অভিযোগ তুলছে তৃণমূল। তাদের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে তাদের কর্মীদের উপর ‘হামলা’ হচ্ছে। এ সবের প্রতিবাদেই বুধবার তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অবস্থান বিক্ষোভ করেন তৃণমূল বিধায়কেরা। এক ঘণ্টার এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের ৩৬ জন বিধায়ক।
উল্লেখ্য, এ বারের নির্বাচনে তৃণমূলের ৮০ জন প্রার্থী জিতে বিধানসভায় গিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের সকলকে বুধবার দেখা গেল না বিক্ষোভ কর্মসূচিতে। যদিও এ বিষয়ে শোভনদেবের ব্যাখ্যা, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এলাকায় এলাকায় দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ হচ্ছে। তাঁদের অনেকেই আইনি জাঁতাকলে আটকে গিয়েছেন। ওই দলীয় কর্মীদের পাশে থাকার জন্যই বিধায়কদের অনেকে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আসতে পারেননি বলে জানান শোভনদেব। অনুপস্থিত ওই বিধায়কেরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে না-থাকতে পারার কথা তাঁকে জানিয়েও দিয়েছিলেন বলে জানান তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা।
আরও পড়ুন:
শোভনদেব আরও বলেন, “সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের রুজি রোজগার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তার প্রতিবাদে আন্দোলনে বসলাম।” পরিস্থিতি বদল না-হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তৃণমূল। অম্বেডকর মূর্তির পাদদেশে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির একটি ভিডিয়োও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছে রাজ্যের বিরোধী দল। সেখানে তারা লিখেছে, ‘এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকা উচ্ছেদে ‘বুলডোজ়ার নীতি’ প্রয়োগ করছে। গরিব মানুষের পেটের ভাত কেড়ে নেওয়ার এই স্বৈরাচারী পদক্ষেপ এবং জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বিধানসভার বাইরে ও ভিতরে একযোগে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কেরা।’
তৃণমূল ওই পোস্টে আরও লিখেছে, ‘বাংলার মাটি সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের মাটি। এখানে বুলডোজ়ার চালিয়ে সাধারণ মানুষের রুজি-রুটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’ উল্লেখ্য, নির্বাচনে ধরাশায়ী হওয়ার পরে ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে জেলায় জেলায় প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে তৃণমূল। হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বালিগঞ্জ, হাওড়া এবং শিয়ালদহে বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকেছে তারা।