কোরবানি ইদের আগে পশুজবাই সংক্রান্ত শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের নির্দেশিকা ঘিরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ‘অস্থিরতা’ তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী থেকে আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। এ বার হাই কোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। তার মধ্যে একটি মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান।
রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়কের আবেদন, গত ১৩ মে রাজ্যের জারি করা নির্দেশিকায় কিছু ছাড় দেওয়া হোক। ওই সংক্রান্ত আরও কিছু মামলা হয়েছে। বুধবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, একই বিষয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেগুলোর একসঙ্গে শুনানি হবে।
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার পশুহত্যা সংক্রান্ত আইন কার্যকর করেছে। ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী কয়েকটি নিয়ম বলবৎ করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না। ১৪ বছর বয়স হয়নি, এমন গবাদি পশুকে জবাই করা যাবে না। তা ছাড়াও মাংস কাটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা পশ্চিমবঙ্গের প্রাণিসম্পদ দফতরের লিখিত অনুমতি প্রয়োজন। এর ফলে ইদে গরুজবাই নিয়ে ‘অনিশ্চয়তা’ তৈরি হয়েছে বলে দাবি। তৃণমূল বিধায়কের বক্তব্য, শুধুমাত্র উৎসবের জন্য সরকারি নির্দেশিকায় কিছুটা ছাড় দেওয়া হোক। ওই মামলায় আখরুজ্জামানের সঙ্গে হাই কোর্টে ছিলেন তৃণমূলের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য গরু জবাই নিয়ে একটা বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বকরি ইদ মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ধর্মীয় কারণে গুরুত্বপূর্ণ। ওই আইনের ১২ নম্বর ধারায় একটা ছাড় রয়েছে। ওই ধারাকে সামনে রেখে আমরা ছাড় চাইছি।’’ মহুয়ার বক্তব্য, ‘‘এই উৎসবের জন্য গরু বাদ দিলে মোষ অথবা, বলদ কোরবানির অনুমতি দেওয়া হোক।’’
পাশাপাশিই, গরুজবাই বন্ধ হলে হিন্দুরাও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন মহুয়া। তিনি জানান, রাজ্যের ওই নির্দেশিকার ফলে রাজ্যের গরিব মানুষের অনেক আর্থিক ক্ষতি হবে। শুধু মুসলিমরাই নন, অনেক হিন্দু ব্যবসায়ী যাঁরা গরু লালনপালন করেন কোরবানিতে বিক্রির জন্য, সরকারের হঠাৎ সিদ্ধান্তের ফলে তাঁরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। মহুয়া বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার গরুজবাই নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তার প্রেক্ষিতে আমরা আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী একটি বিশেষ ছাড়ের আবেদন জানিয়েছি। মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বকরি ইদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। আইনের ওই ধারাতেই ছাড়ের অনুমতি দেওয়া আছে। আমরা আর্জি জানিয়েছি, উৎসবের দিনগুলিতে গরুকে বাদ দিয়ে অন্তত মোষ বা বলদ কোরবানির ক্ষেত্রে যেন এ বারের মতো অনুমতি দেওয়া হয়।’’
আরও পড়ুন:
মামলার মূল আবেদনকারী তথা তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান কোরবানির ধর্মীয় আবেগের ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘কোরবানি মুসলমান ধর্মের একটি পবিত্র রীতি। ধর্মে বলা আছে, নিজের প্রিয় পোষ্যকে সুস্থ-সবল ভাবে লালন-পালন করে, তার প্রতি ভালবাসা তৈরি হওয়ার পর তাকে আল্লার উদ্দেশে উৎসর্গ করতে হয়। বহু মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে এই জন্য পশু প্রতিপালন করছেন। কিন্তু ১৩ মে-র এই সরকারি নির্দেশিকার ফলে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন।’’
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন জানিয়েছে, ২১ মে এই বিষয়ের শুনানি হবে।