Advertisement
E-Paper

অভিষেকের বাড়িতে কী ভাবে নোটিস? জানেন না মেয়র ববি, কুণাল বললেন, বিভ্রান্তিকর প্রচার করে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিস ঘিরে বিজেপি অপ্রচার করছে, এমনটাই অভিযোগ তুললেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১৭:৩১
TMC leaders Firhad Hakim and Kunal Ghosh defend MP Abhishek Banerjee for KMC notification issue

(বাঁ দিক থেকে) ফিরহাদ হাকিম, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতা পুরসভার একটি নোটিসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে রাজ্যে। সম্প্রতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। সেই নোটিস ঘিরে বিজেপি অপ্রচার করছে, এ বার এমনটাই অভিযোগ তুললেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (ববি) ও বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বুধবার বিধানসভায় সর্বভারতীয় তৃণমূলের পক্ষে কুণাল দাবি করেন, বিজেপি একটি নোটিস ফাঁস করে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে। সেই নোটিসকে সামনে রেখে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক, তথা সাংসদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ফিরহাদ দাবি করেন, অভিষেকের বাড়িতে পাঠানো নোটিসের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ বিষয়ে তিনি পুরোপুরিই অন্ধকারে।

কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরো থেকে এই নোটিসটি পাঠানো হয়েছে অভিষেকের বাড়িতে। সেই প্রসঙ্গে মেয়র ফিরহাদ বলেন, ‘‘কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ কাকে নোটিস পাঠাচ্ছে, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। বরো-৯ থেকে যখন নোটিসটি পাঠানো হয়েছে তখন তা পাঠানো হয়েছে এগ্‌জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মারফত। তাই এ ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত বরো চেয়ারপার্সনের জানার কথা নয়। এ বিষয়ে জানতে পারেন এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারেন একমাত্র পুর কমিশনার।’’ পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে মেয়র ফিরহাদের। যে কারণে এমন ঘটনা ঘটছে বলেই মনে করছে তৃণমূলের একাংশ। ঘটনাচক্রে, এই বরো-৯ থেকেই অভিষেকের বাড়িতে নোটিস যাওয়ার পর ইস্তফা দিয়েছেন চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাস। তাতে যদিও বিতর্ক থামেনি।

অন্য দিকে, তৃণমূলের একটি বিবৃতি পাঠ করে কুণাল বলেছেন, ‘‘কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যমের পোস্টে অভিষেকের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একাধিক সম্পত্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, অন্য কয়েক জন নেতাকেও এই বিতর্কের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’’ তাঁর আরও দাবি, সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং বিশ্বাসযোগ্যতাহীন। তৃণমূলের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে কেউ চাইলে সরাসরি উল্লিখিত ঠিকানায় গিয়ে বা নোটিসে থাকা নম্বরে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করতে পারেন। বিজেপির তরফে যে রাজনৈতিক বয়ান ছড়ানো হচ্ছে, তা যাচাই না-করে প্রচার করা উচিত নয় বলেও মত তৃণমূলের।

তৃণমূলের বক্তব্য, যাচাই না করে ‘মনগড়া’ বা ‘বিভ্রান্তিকর’ খবর প্রচার করা হলে তা জনমনে ভুল বার্তা তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই সংবাদমাধ্যমকে আরও সতর্ক হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও মিথ্যা প্রতিবেদন বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট সামনে এলে তা আইনি পথে মোকাবিলা করা হবে। প্রযোজ্য আইনের আওতায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দু’টি ঠিকানায় অবৈধ নির্মাণ হয়েছে, এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বার জোড়া নোটিস পাঠিয়েছে পুরসভা। প্রথম নোটিসটি পাঠানো হয়েছে অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। আর দ্বিতীয় নোটিসটি লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে গিয়েছে, যার পরিচিতি অভিষেকের সংস্থা হিসাবেই। দু’টি নোটিস পাঠিয়েছে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-র ৪০০(১) ধারায় ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে। ওই ধারায় বলা আছে, কোনও বাড়ি বা নির্মাণের প্ল্যান-বহির্ভূত অবৈধ অংশ ভাঙার বা কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারেন পুর কমিশনার। তবে ভাঙার আগে সংশ্লিষ্ট ওই সম্পতির মালিককে নোটিস পাঠাতে হবে পুরসভাকে। ওই আইনেই লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস এবং লতার নামে এ বার নোটিস পাঠানো হয়েছে।

ওই জোড়া নোটিসে দু’টি ঠিকানার কথা উল্লেখ করা হয়েছে— ভবানীপুর বিধানসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোড। নোটিসে বলা হয়েছে, ওই দুই ঠিকানায় যে নির্মাণ রয়েছে তাতে প্ল্যান-বহির্ভূত কিছু অংশ তৈরি করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে ওই অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলতে হবে। যদি ওই অবৈধ অংশ সম্পত্তির মালিক না-ভাঙেন, তবে তা পুরসভা কেন ভেঙে দেবে না, তার কারণ দর্শাতে হবে। সাত দিনের মধ্যে পুরসভাকে নোটিসের জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি সেই জবাব সন্তোষজনক না-হয় তবে পুরসভা সাত দিনের কম নোটিসে ওই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। আর এই কাজ করতে পুরসভার যা খরচ হবে, তা দিতে হবে ওই সম্পত্তির মালিককে।

শুধু তা-ই নয়, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বিল্ডিং প্ল্যান, অনুমোদিত নকশা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পুরসভাকে জমা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে খবর, দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে পুরসভার এই নোটিস নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অভিষেক। তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে নোটিস পাঠানো হোক বা তাঁর বাড়ি ভাঙা হোক— কোনও কিছুর সামনেই মাথা নত করবেন না। বিজেপির বিরুদ্ধে যে লড়াই তিনি করছেন, তাতে কোনও ছেদ পড়বে না বলেও জানিয়েছেন বৈঠকে। ঘটনাচক্রে, যে সম্পত্তিগুলি নিয়ে পুরসভার নোটিস পাঠিয়েছে, বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে একটি সম্পত্তির যৌথ মালিকানায় অভিষেকের সঙ্গে অংশীদারিত্ব রয়েছে তৃণমূলের এক লোকসভার সাংসদের। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিবৃতি দিয়ে তৃণমূলের তরফে ওই সাংসদের সঙ্গে অভিষেকের যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তি থাকার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠক করেও নেতারাও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।

FirhadHakim Kunal Ghosh Abhishek Banerjee KMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy