Advertisement
E-Paper

অরূপ-সুশান্তদের ইস্তফা নিয়ে অভিষেককে নিশানা কল্যাণের! নারদ মামলা নিয়ে কাকলিকেও কটাক্ষ, তৃণমূলে কাদা ছোড়াছুড়ি

অরূপ চক্রবর্তী এবং সুশান্ত ঘোষের পদত্যাগের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে কাকলির অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ২০:৪৭
(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তৃণমূলের অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ি বেড়েই চলেছে। দলের কাউন্সিলরদের বিভিন্ন পদ থেকে ইস্তফা নিয়ে এ বার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভার পদ থেকে দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর ইস্তফার জন্য অভিষেককেই দায়ী করেছেন তিনি। সেই সঙ্গে সদ্য দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকেও কটাক্ষ করেছেন কল্যাণ। নারদ মামলায় কাকলির যোগের প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কলকাতা পুরসভার ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ তৃণমূলের অন্যতম মুখপাত্র। বুধবার তিনি পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এ ছাড়া, ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ পুরসভার বরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দিয়েছেন। দু’জনে একসঙ্গেই পুরসভায় গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেন। অরূপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে গিয়েই কল্যাণ নিশানা করেছেন অভিষেককে। তাঁর কথায়, ‘‘অরূপকে নেতা করেছেন কে? অভিষেক। তাই উনিই দায়ী এ সবের জন্য। অভিষেক যাঁদের নেতা করেছেন, তাঁরাই এখন ওঁর বিরুদ্ধে বলছেন।’’ অরূপকে নিশানা করে কল্যাণ আরও বলেন, ‘‘অরূপের কী যোগ্যতা আছে যে, ও সারা রাজ্যের নেতা হবে? গোটা রাজ্যে বক্তৃতা করে বেড়িয়েছে। আজ কেন যাচ্ছে না?’’

সুশান্তের ইস্তফা নিয়ে কল্যাণ নির্দিষ্ট করে কিছু না বললেও তাঁর সঙ্গে অভিষেকের ঘনিষ্ঠতার কথা তৃণমূলের অন্দরে অনেকেই জানেন। গত জানুয়ারি মাসে নন্দীগ্রামের দু’টি ব্লকে দু’টি সেবাশ্রয় শিবির হয়েছিল অভিষেকের উদ্যোগে। একটি ব্লকের দায়িত্বে ছিলেন এই সুশান্ত। অন্যটিতে যিনি দায়িত্বে ছিলেন, সেই ঋজু দত্ত ফলঘোষণার পরের দিন থেকেই দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও আইপ্যাককে নিয়ে তোপ দাগা শুরু করেছিলেন সমাজমাধ্যমে। বাধ্য হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে হয়। তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, সেই ঋজুও অভিষেক-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

কল্যাণের এই বক্তব্য নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অরূপও। কল্যাণের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা ভোটে টিকিট পাওয়া নিয়ে তিনি পাল্টা কটাক্ষ করেছেন। অরূপের কথায়, ‘‘কল্যাণদার প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। উনি দুর্দিনের নেতা। আমার না হয় কোনও যোগ্যতা নেই। কিন্তু উত্তরপাড়ায় শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় টিকিট পেলেন কোন যোগ্যতায়? এই প্রশ্ন তো আমি তুলিনি। হুগলির নেতা সুবীর মুখোপাধ্যায় এই প্রশ্ন তুলেছেন। যিনি কল্যাণদার মানসপুত্র হিসাবে পরিচিত। তা হলে কি নিজের পুত্রের জন্য মানসপুত্রকে বলি দিতে হল?’’

বারাসতের সাংসদ কাকলি গত কয়েক দিন ধরেই ‘বেসুরো’ ছিলেন। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। বুধবার সেই কাকলি তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। কারণ হিসাবে আরজি কর-কাণ্ড এবং আইপ্যাক সংক্রান্ত অসন্তোষের উল্লেখ করেছেন। শীর্ষ নেতৃত্বকে দেওয়া চিঠিতে নাম না-করে কল্যাণকে নিশানা করেছেন তিনি। লিখেছেন, ‘‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য এক জন অশিক্ষিত, অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা সহানুভূতি পাওয়া যায় না, (তখন) সে পদে থাকার মানে হয় না।’’

কাকলির এই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে কল্যাণ বলেছেন, ‘‘২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমি সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদে ছিলাম। মাঝখানে কয়েক মাস ওই দায়িত্বে ছিলাম না। ওঁর (কাকলির) আবার কিসের এত কথা? নারদে তো আমি পাঁচ লক্ষ টাকা নিইনি। উনি নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিন্ডিকেট শব্দের জন্মদাত্রী কে? সকলে জানেন। সেই সিন্ডিকেটের জন্মস্থান রাজারহাট।’’

তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাককেও ফের নিশানা করেছেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, ‘‘দলে পর্যবেক্ষক ব্যবস্থা তুলে দিয়েই সর্বনাশ করেছে আইপ্যাক। আমরা তো কংগ্রেস থেকে তৈরি দল। সব দলে পর্যবেক্ষক ব্যবস্থা আছে। যা নেতৃত্বের সঙ্গে কর্মীদের আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে। সেই ব্যবস্থাই তুলে দেওয়া হল। এটা কার মস্তিষ্কপ্রসূত?’’ ইঙ্গিতে এ প্রশ্নেও অভিষেককে নিশানা করতে চেয়েছেন কল্যাণ।

Abhisek Banerjee Kalyan Banerjee TMC Aparup Chakraborty Kakoli Ghosh Dastidar Sushanta Ghosh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy