Advertisement
E-Paper

ডিভাইডারে ধাক্কা, বাস উল্টে মৃত ১

রেষারেষি, বাসের বেহাল দশা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ফের কেড়ে নিল আরও একটি প্রাণ। অভিযোগের কেন্দ্রে এ বার সরকারি বাসই। পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ বাইপাসে বাঘাযতীন সেতু থেকে তীব্র গতিতে নামার সময়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে ঘুরে গিয়ে কাত হয়ে যায় ভূতল পরিবহণের একটি বাস।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৬ ০১:০৯

রেষারেষি, বাসের বেহাল দশা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ফের কেড়ে নিল আরও একটি প্রাণ। অভিযোগের কেন্দ্রে এ বার সরকারি বাসই।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ বাইপাসে বাঘাযতীন সেতু থেকে তীব্র গতিতে নামার সময়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে ঘুরে গিয়ে কাত হয়ে যায় ভূতল পরিবহণের একটি বাস। ঘটনায় প্রাণ হারান কন্ডাক্টর বাপি খাটুয়া (৪০)। বাসের সাত যাত্রী হাসপাতালে ভর্তি। পুলিশ জানায়, রাস্তা আটকে কাত হয়ে পড়া বাসটি ক্রেন এনে সরাতে প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায়। তার জেরে ব্যস্ত সময়ে ব্যাপক যানজট হয় এলাকায়।

ভূতল পরিবহণ সূত্রে খবর, মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে বাসটি চালানো হচ্ছিল। সে ক্ষেত্রে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়া বাস কেন ভাড়া নেওয়া হল, সে প্রশ্নও উঠেছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি বেসরকারি স্কুলবাস ও স্কুলগাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ার পরে সরকারই অভিযোগ এনেছিল, সেগুলির ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না।

নিজেদের বাসের এই হাল নিয়ে কী বলছে সরকার? ভূতল পরিবহণ নিগমের এক কর্তা বলেন, ‘‘ঘটনাটি দুঃখজনক। বেসরকারি হাতে যে সব বাস রয়েছে, তাদের নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ আছে। আমরা ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। আশা করছি, কিছু দিনের মধ্যে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারব।’’

এ দিনের ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে পুলিশের সন্দেহ, বাসের গায়ের সঙ্গে চাকার সংযোগকারী অ্যাক্সেল-টি আগে থেকেই অকেজো ছিল। তা সঠিক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি। এ দিন সকালে পাটুলির দিক থেকে বাঘা যতীন সেতুতে উঠে নামার সময়ে অ্যাক্সেলটি ভেঙে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারেন চালক। বাসটির গতি এত বেশি ছিল যে, ধাক্কার অভিঘাতে তা একেবারে উল্টো দিকে ঘুরে কাত হয়ে পড়ে। গড়িয়া স্টেশন-বেলুড় রুটের বাসটির চালক পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে আশপাশের কয়েকটি গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন অনেকে। তাঁরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে বাসের ভিতর থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পুলিশ জানায়, বাসের জনা পনেরো যাত্রীর প্রত্যেকেরই কমবেশি আঘাত লেগেছে।

এ দিন হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে এক আহত যাত্রী অশোক মজুমদার বলেন, ‘‘ বেলেঘাটার একটা কারখানায় কাজ করি। পাটুলি থেকে উঠে চালকের পাশের আসনে বসেছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড আওয়াজ ও ঝাঁকুনি! তার পরে কিছু মনে নেই। হাসপাতালে জ্ঞান ফিরেছে।’’ চিকিৎসাধীন আর এক যাত্রী স্বপন সাঁতরা জানান, দক্ষিণেশ্বর যেতে সস্ত্রীক পাটুলি থেকে বাসে উঠেছিলেন তিনি। প্রচণ্ড গতিতে সেতু থেকে নামার পরে ঝাঁকুনিতে বাসের ভিতরের দিকের আসন থেকে ছিটকে পড়েন দু’জনেই। বাসের দরজা ভেঙে পড়ে তাঁ স্ত্রী আরতিদেবীর হাতের উপরে। মাথায় চোট লাগে স্বপনবাবুর।

Bus accident
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy