ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি এ বার আমেরিকার নিশানায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করে দিতে চলেছেন। হরমুজ় প্রণালী খুলে না দিলে ইরানে নতুন করে অভিযান শুরু করবে আমেরিকা। তার নিশানায় থাকবে দেশটির ছোট-বড় সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর জন্য তেহরানকে সময়ও বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প।
রবিবার সকালে (ভারতীয় সময়) সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ় প্রণালী পুরোপুরি, কোনও হুমকি ছাড়া খুলে না দেয়, আমেরিকা তাদের ফের আঘাত করবে এবং বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র নিশ্চিহ্ন করে দেবে। আঘাত শুরু হবে ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে দিয়ে।’’ এই পোস্টের মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তাতে মৃত্যু হয়েছিল সে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। তার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরান। বাণিজ্যের প্রধান জলপথ হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দেয়। নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে ছাড় দিলেও এতে সারা বিশ্বের বাণিজ্য প্রভাবিত হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ়ের পশ্চিম প্রান্তে আটকে ছিল। পরে তা হরমুজ় পেরোনোর অনুমতি পেয়েছে। কিছু দিন আগে তেহরান ঘোষণা করেছিল, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল ছাড়া হরমুজ় আর কারও জন্য বন্ধ নয়। একমাত্র এই দুই দেশের জাহাজ প্রণালী পেরোনোর চেষ্টা করলে ইরান বাধা দেবে। তবে এখনও সেখান দিয়ে পণ্য পরিবহণ স্বাভাবিক হয়নি। জাপান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সেই প্রণালী খুলতেই ইরানের উপর নতুন করে চাপ বাড়ালেন ট্রাম্প।
শনিবারই অবশ্য ইরানে অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জানিয়েছিলেন, যে সমস্ত লক্ষ্য নিয়ে ইরানে হামলা চালানো শুরু হয়েছিল, সেগুলি সম্পূর্ণ হয়েছে। তবে হরমুজ় প্রণালী যারা ব্যবহার করে, তাকে রক্ষার জন্যেও সেই সমস্ত দেশকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ট্রাম্প। দাবি করেন, আমেরিকা ওই জলপথ ব্যবহারই করে না। তার এক দিনের মধ্যেই হরমুজ় দিয়ে ইরানকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিলেন তিনি। ট্রাম্পের হুমকির পাল্টা দিয়েছে তেহরান। ইরানি সেনার তরফে বলা হয়েছে, যদি সে দেশের কোনও জ্বালানি বা বিদ্যুতের পরিকাঠামোয় আঘাত করা হয়, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত আমেরিকার সমস্ত পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।