বাঁশদ্রোণীর সিআইএসসিই বোর্ড অনুমোদিত স্কুলের সামনে বিক্ষোভরত ১৪ জন অভিভাবককে গ্রেফতার করা হল। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পরে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়।
এর পরেই অভিভাবকদের একাংশ পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাঁদের বক্তব্য, এক ছাত্র স্কুলেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হল। পরে সেখানেই মারা গেল। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওই শিশুটির বাবা অভিযোগ দায়ের করলেন, অথচ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থা নিতে পারল না পুলিশ! অথচ যাঁরা স্কুলের গাফিলতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন, তাঁদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে। অভিভাবকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এ ভাবে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে আন্দোলনকে থামানো যাবে না। তাঁদের দাবি, স্কুলের অধ্যক্ষ-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করতে হবে।
বাঁশদ্রোণীর ওই স্কুলটির তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া আয়ুষকুমার নাথ গত ১৩ মে স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সে কোমায় চলে যায়। গত ২৪ মে এসএসকেএম হাসপাতালে মারা যায় ছাত্রটি। তার বাবা আশিসকুমার নাথের অভিযোগ, স্কুল চলাকালীন তাঁর ছেলেকে টানা ছ’ঘণ্টা শাস্তি দেওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিল সে। এর মধ্যে ছুটির সময়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ১০ দিন কোমায় থাকার পরে গত রবিবার সকালে মৃত্যু হয় আয়ুষের। আশিস নেতাজিনগর থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্কুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভিত্তিহীন।
আশিস জানান, সে দিন ছুটির
পরে স্কুলের সিঁড়ি দিয়ে অসুস্থ আয়ুষ একা নামেনি। তার ব্যাগ এক জন ধরেছিল, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সেটা ধরা রয়েছে। এমনটাই পুলিশ দাবি করছে। অথচ সেই ফুটেজ তিনি
বা কোনও অভিভাবক এখনও দেখেননি। আশিসের আরও অভিযোগ, আয়ুষ সে দিন অসুস্থ হওয়ার পরে তাঁরা জানতে পারেন, ওর মাথায় টিউমার আছে। আশিস বলেন, “আয়ুষের টিউমারের কথা জানতাম না। কারণ, এ জন্য আয়ুষের কোনও অসুস্থতা ছিল না। তা হলে সে দিন স্কুলের সিঁড়ি থেকে পড়েই কি টিউমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ও কোমায় চলে গেল? আমরা দেখেছি, আয়ুষের মাথা ফুলে ছিল। এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। কিন্তু উত্তর পাচ্ছি না।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)