E-Paper

বিজেপি কর্মীকে খুনের মামলায় প্রাক্তন বিধায়ককে ‘খুনি’ স্লোগান

এ দিন প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন এবং প্রাক্তন ওসি শুভজিৎ ছাড়া সব অভিযুক্ত হাজির ছিলেন। ২০২২ সালে এক মহিলাকে যৌন হেনস্থা, মারধর, ভাঙচুরের অভিযোগে গত বুধবার স্বপনকে গ্রেফতার করেছে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৮:৫৬

— প্রতীকী চিত্র।

২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় নারকেলডাঙার বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে হত্যার মামলায় আগামী ২৩ জুন চার্জ গঠন হতে পারে বলে আদালত সূত্রের খবর। এই মামলায় প্রথমে বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক পরেশ পাল, দুই পুরপ্রতিনিধি স্বপন সমাদ্দার ও পাপিয়া ঘোষ, নারকেলডাঙা থানার তৎকালীন ওসি শুভজিৎ সেন-সহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করা হয়। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি ছিল কলকাতা নগর দায়রা আদালতের বিশেষ সিবিআই কোর্টে। শুনানি শেষে পরেশকে আদালত থেকে স্ট্রেচারে শুইয়ে বার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে ‘চোর’, ‘খুনি’ স্লোগান ওঠে।

এ দিন প্রাক্তন মেয়র পারিষদ স্বপন এবং প্রাক্তন ওসি শুভজিৎ ছাড়া সব অভিযুক্ত হাজির ছিলেন। ২০২২ সালে এক মহিলাকে যৌন হেনস্থা, মারধর, ভাঙচুরের অভিযোগে গত বুধবার স্বপনকে গ্রেফতার করেছে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। সেই মামলায় এ দিন তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে হাজির করা হয়। ফলে, অভিজিৎকে খুনের মামলায় স্বপন হাজির হতে পারেননি।

অন্য দিকে, শুভজিতের আইনজীবী জানান, তাঁর মক্কেল অসুস্থ থাকায় হাজির হতে পারেননি। বিচারক সন্তোষকুমার পাঠক মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন ২৩ জুন। নিহত অভিজিতের পরিবারের আইনজীবী শুভেন্দু সাহা বলেন, ‘‘২৩ জুন চার্জ গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্বপন এবং শুভজিৎ না থাকায় এ দিন চার্জ গঠন করা যায়নি। চার্জ গঠনের জন্য সব অভিযুক্তের হাজির থাকা প্রয়োজন।’’

এ দিন বিশেষ সিবিআই আদালতে হাজির ছিলেন পরেশ। গত শুনানিতে অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি বলে জানিয়েছিলেন পরেশের আইনজীবীরা। কিন্তু, তাঁরা প্রাক্তন বিধায়কের অসুস্থতা সংক্রান্ত নথি পেশ করতে না পারায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারক সন্তোষকুমার পাঠক জানিয়েছিলেন, আধ ঘণ্টার মধ্যে পরেশের অসুস্থতা সংক্রান্ত নথি আদালতে জমা দেওয়া না হলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে। এর পরেই পরেশের আইনজীবীরা সেই নথি জমা দেন।

এ দিন শুনানি শেষে পরেশকে স্ট্রেচারে শুইয়ে আদালত চত্বরে থাকা অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হয়। সেই সময়ে অভিজিতের দাদা তথা বিজেপি কর্মী বিশ্বজিৎ সরকার তাঁকে দেখে ‘চোর’, ‘খুনি’ বলে স্লোগান দেন। আদালত চত্বরে শুরু হয়ে যায় ধস্তাধস্তি। কোনও রকমে পরেশকে অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিশ্বজিতের দাবি, ‘‘পরেশ অসুস্থতার নাটক করছেন। ওঁর কিছুই হয়নি।’’

অন্য দিকে, যৌন হেনস্থা, মারধর, ভাঙচুরের মামলায় স্বপনকে এ দিন ১৭ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন শিয়ালদহের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুলতান মামুদ। স্বপনকে যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়ার আর্জি জানান তাঁর আইনজীবী। আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দেয়।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Post Poll Violence BJP Murder Case

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy