E-Paper

শোকে স্মৃতি হারিয়ে অন্ধকারে পাড়ি, অবশেষে আলোয় ফিরছেন ঊষা

গত মে মাসে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার রাস্তা থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে স্মৃতিভ্রষ্ট ঊষাকে। সুদূর প্রয়াগরাজের গন্সিয়ারি গ্রাম থেকে ঊষার হাবড়ায় পৌঁছে যাওয়ার কাহিনি শুনতে কলকাতায় আসছেন তাঁর পরিবারের লোকজন।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৯:১৮
ঊষা দেবী।

ঊষা দেবী। —ফাইল চিত্র।

অদ্ভুত এক ঘটনাচক্র।

লাইন পারাপার করতে গিয়ে বাবা ট্রেনে কাটা পড়েছিলেন। চোখের সামনে দেখা সেই বীভৎস ঘটনা কিশোরীকে তাড়া করে বেড়িয়েছিল অনেক বছর। চার মাস আগে আবারও একই জায়গায় একই রকম দুর্ঘটনা। সেই কিশোরী তখন দুই সন্তানের মা। স্বামী ও বাচ্চাদের নিয়ে সেই একই রেললাইন ধরে চলার সময়ে একই জায়গায় চার মাস আগে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় স্বামীর। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের মেয়ে ঊষা চৌরাসিয়া এই আঘাত মেনে নিতে পারেননি। মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত হন।

গত মে মাসে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার রাস্তা থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে স্মৃতিভ্রষ্ট ঊষাকে। সুদূর প্রয়াগরাজের গন্সিয়ারি গ্রাম থেকে ঊষার হাবড়ায় পৌঁছে যাওয়ার কাহিনি শুনতে কলকাতায় আসছেন তাঁর পরিবারের লোকজন। আপাতত পশ্চিমবঙ্গ রেডিয়ো ক্লাবের সঙ্গে তাঁরা যোগাযোগে রয়েছেন। কারণ, ওই সংগঠনই ঊষার খোঁজ দিয়েছে তাঁর পরিজনেদের। সম্পাদক অম্বরীশ নাগের কথায়, ‘‘ঊষা শুধু ভিডিয়ো কলে দুই ছেলেকে চিনতে পেরেছেন। তাঁকে দেখে খুশি পরিজনেরাও। তবে ঊষা কী ভাবে সেখানে পৌঁছলেন, তা বলতে পারেননি। ঊষার কথা বলার ধরন বুঝে আমাদের নেটওয়ার্ক থেকে ওর পরিবারের খোঁজ মেলে।’’

পরিবার সূত্রের খবর, ঊষার বিয়ে হয়েছিল প্রতাপগড়ে। নয়ডায় ঊষার শ্বশুরের পানের দোকান আছে। সেই দোকানেই বসতেন ঊষার স্বামী অনিল চৌরাসিয়া। ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে অনিল স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। গন্সিয়ারি স্টেশনের কাছাকাছি একটি রেলগেটের কাছে লাইন পেরোনোর সময়ে ঊষার চোখের সামনেই ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় তাঁর। বছর পনেরো আগে একই জায়গায় ঊষার বাবারও মৃত্যু হয় বলে জেনেছে রেডিয়ো ক্লাব।

ঊষার খবর পেয়ে কলকাতায় আসছেন তাঁর ভগিনীপতি প্রেমপ্রকাশ চৌরাসিয়া। তিনি জানান, ঊষার বাবারও একই রেলগেটে বছর পনেরো আগে দুর্ঘটনা ঘটে। ঊষার মন থেকে সেই শোক মুছে যায়নি। তার মধ্যেই একই ধরনের দুর্ঘটনায় ঊষার স্বামীর মৃত্যু হয়। সাঙ্ঘাতিক মুষড়ে পড়েন ঊষা। কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে এক দিন বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। ঊষার মতো তাঁর মা দুলারি দেবীও নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিলেন স্বামীর মৃত্যুর পরে। দুলারিকে আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রেডিয়ো ক্লাব জানাচ্ছে, হাবড়ার পুলিশ স্থানীয় একটি হোমে ঊষাকে ভর্তি করে তাদের খবর দিয়েছিল। অম্বরীশ জানান, কোনও ভাবেই ঊষা তাঁর এখানে এসে পৌঁছনোর গল্প বলতে পারেননি।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mentally Ill WB Radio club

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy