শিক্ষা দুর্নীতির তদন্তে টাকা উদ্ধার এবং প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে প্রচারে এসেছিলেন তিনি। বন্ধু পার্থের সঙ্গেই হাজতবাস করতে হয়েছিল অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। তদন্তের পাশাপাশি পরবর্তী কালে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চাও কম হয়নি। শেষমেশ পার্থের মতোই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অর্পিতা। তবে, প্রকাশ্যে তাঁকে সে ভাবে দেখা যেত না। অবশেষে নীরবতা ভেঙে সমাজমাধ্যমে ফিরেছেন তিনি। যদিও তাঁর প্রোফাইলে পার্থের তেমন কোনও নামগন্ধ আর নেই।
পার্থ প্রসঙ্গ অবশ্য সমাজমাধ্যমে পিছু ছাড়েনি। নেট নাগরিকদের অনেকেরই মন্তব্য শালীনতা ও রুচির সীমা ছাড়িয়ে রীতিমতো হেনস্থার চেহারা নিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সমাজমাধ্যমে ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন অর্পিতা। নিজের নামের ইংরেজি বানানও বদলে নিয়েছেন। লিখেছেন, “জীবনে এমন অনেক সময় আসে, যখন সব কিছু থমকে যায় এবং গোটা দুনিয়া বদলে যায়।…”
২০২২ সালের জুলাই মাসে গ্রেফতার হওয়ার পরেই অর্পিতার পরিবারের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে এসেছিল। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তাঁর বৃদ্ধা মা। সমাজমাধ্যমে অর্পিতা জানিয়েছেন, তাঁর মা মারা গিয়েছেন। কিন্তু মায়ের স্মৃতি তাঁর জীবনের পাথেয় হয়ে থাকবে।
নিজের কথা বলতে গিয়েই অর্পিতা লিখেছেন, দুঃসময়েও অনেকে চুপচাপ তাঁর পাশে ছিলেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এও বলেছেন, এগিয়ে চলাই জীবনের দাবি এবং এগিয়ে চলা মানে অতীত ভুলে যাওয়া নয়। বিচার ব্যবস্থায় আস্থা রেখে জীবনকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই অর্পিতা বলেছেন, বর্তমানে পরিবার এবং নিজের ক্ষত সারিয়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
অনেকেই বলছেন, পরিবার ও নিজের কথা বলতে গিয়ে কি কোথাও একদা প্রভাবশালী বন্ধুকে সরিয়ে দিলেন অর্পিতা? প্রসঙ্গত, জামিনের পরে পার্থের সঙ্গে অর্পিতাকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি।
অনেকেই অবশ্য মনে করিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষা দুর্নীতিতে অর্পিতার বাড়ি থেকেই টাকা এবং গয়না উদ্ধার করেছিল ইডি। সেই সূত্র ধরেই পার্থকে গ্রেফতার করে তারা। পরে অবশ্য পার্থ বার বার দাবি করেছেন, ওই টাকা এবং গয়না তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়নি। তাই ওই টাকা কার, সেটা যাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনি বলতে পারবেন। আবার জামিন পাওয়ার পরে অর্পিতার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের সম্পর্কের কথাও খোলাখুলি স্বীকার করেছেন পার্থ। অর্পিতাও বন্ধুত্বের কথা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)