E-Paper

হাওড়া জেলা পরিষদে ভাঙন নিশ্চিত, অনাস্থার মুখে পদত্যাগের ইঙ্গিত

সভাধিপতি কাবেরী অবশ্য এ দিনই ইস্তফাপত্র লিখে জেলাশাসকের কাছে জমা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে জেলা পরিষদ দফতরে ডেকে নেন অজয়ই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৯:১২

— প্রতীকী চিত্র।

হাওড়া জেলা পরিষদের অধিকাংশ সদস্য তাঁদের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে রাজ্য সরকারকে যে চিঠি দিয়েছেন, সেই চিঠির প্রতিলিপি হাতে পেলেই তাঁরা ইস্তফা দেবেন বলে জানালেন পরিষদের সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতি। ফলে, হাওড়া জেলা পরিষদে ভাঙন কার্যত নিশ্চিত। বৃহস্পতিবার হাওড়া জেলা পরিষদের অফিসে বসে সভাধিপতি কাবেরী দাস ও সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের জানান, অনাস্থার চিঠি দেওয়ার আগে বিষয়টি জানালে তাঁরা আগেই পদত্যাগ করতেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন দু’জনেই।

বুধবার সকালে হাওড়া জেলা পরিষদের সদস্য তুষার ঘোষের নেতৃত্বে ৪২ জন সদস্যের মধ্যে ২৫ জনই জেলা সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের চিঠি রাজ্য সরকারের পঞ্চায়েত দফতরের প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্গত হাওড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে জমা দেন। এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ওই দিনই বিদ্রোহী সদস্যেরা সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতির বিরুদ্ধে লাগামহীন দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ করেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা উলুবেড়িয়ার বিধায়ক পুলক রায়কে ‘উলুবেড়িয়া সরকার’-এর তকমা দিয়ে তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই হাওড়া জেলা পরিষদ পরিচালিত হচ্ছিল বলে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করা হয়।

এ দিন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা হাওড়া জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি অজয় বলেন, ‘‘২০২৩ সালে বোর্ড গঠন হওয়ার পরে আজ যাঁরা আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, তাঁরা কোনও স্থায়ী সমিতির বৈঠকে একটিও অভিযোগ জানাননি। হঠাৎ সকলে মিলে চিঠি না দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মুখে অনাস্থা জানালেই আমরা ইস্তফা দিয়ে সরে যেতাম। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতি আর স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঁরা করছেন, তা আমরা মানতাম না। এখনও মানি না। তবে, চিঠি পেলে আমরা ইস্তফা দিয়ে দেব।’’

সভাধিপতি কাবেরী অবশ্য এ দিনই ইস্তফাপত্র লিখে জেলাশাসকের কাছে জমা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে জেলা পরিষদ দফতরে ডেকে নেন অজয়ই। সভাধিপতি পরে বলেন, ‘‘আমি গতকালই ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে বলা হয়, সরকারকে দেওয়া অনাস্থার চিঠি দেখার পরেই ইস্তফা দিতে। তাই আগামী কালের মধ্যে ওই চিঠি পেলে আমি ইস্তফা দিয়ে দেব।’’

এ দিনও জেলা সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি ইস্তফা না দেওয়ায় বিদ্রোহী সদস্যদের নেতৃত্ব দেওয়া তুষার ঘোষ বলেন, ‘‘আমাদের কাছে নির্দিষ্ট খবর আছে, গতকাল বিকেলের মধ্যে ওই চিঠি দু’জনের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। আসলে এত দিনের মৌরসিপাট্টা ছাড়তে ওঁদের কষ্ট হচ্ছে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mass resignation Howrah

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy