E-Paper

নতুন টার্মিনালের সম্প্রসারণে ভাঙা হবে বিমানবন্দরের পুরনো টার্মিনাল

২০১৩ সালে নতুন টার্মিনাল চালু হওয়ার পরে বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা এবং যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ক্রমাগত প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে কলকাতা বিমানবন্দরে গত ১২ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে উড়ানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ ০৯:২৩

— ফাইল চিত্র।

চলতি বছরের হজ যাত্রার পর্ব মিটলেই কলকাতা বিমানবন্দরের পুরনো টার্মিনাল ভেঙে ফেলার কাজে হাত দেবেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর জন্য সংস্থার সদর দফতর থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র মিলেছে বলে শনিবার জানিয়েছেন কলকাতা বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিক্রম সিংহ। যাত্রী-ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল সম্প্রসারণের জন্য গৃহীত পরিকল্পনার অঙ্গ হিসাবে এই কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া, বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের সম্প্রসারণের জন্য একটি মসজিদের অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়টি সংস্থার সদর দফতর এবং বিমান পরিবহণ মন্ত্রক দেখছে বলেও এ দিন জানিয়েছেন ডিরেক্টর।

বর্তমানে কলকাতা বিমানবন্দরের বাৎসরিক যাত্রী-ধারণ ক্ষমতা দু’কোটি ৬০ লক্ষ। অন্তর্দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক টার্মিনালের প্রস্থান (ডিপারচার) অংশে বেশ কিছু রদবদল করে বাড়তি পরিসর বার করার ফলে বাৎসরিক যাত্রী-ধারণ ক্ষমতা দু’কোটি ৬০ লক্ষ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দু’কোটি ৮০ লক্ষে পৌঁছেছে বলে সংস্থা সূত্রের খবর। পুরনো টার্মিনাল ভেঙে নতুন টার্মিনাল সম্প্রসারণ করা হলে যাত্রী-ধারণ ক্ষমতা বছরে চার কোটিতে গিয়ে ঠেকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৩ সালে নতুন টার্মিনাল চালু হওয়ার পরে বিমান ওঠানামার ব্যবস্থা এবং যাত্রী-স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ক্রমাগত প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে কলকাতা বিমানবন্দরে গত ১২ বছরে উল্লেখযোগ্য হারে উড়ানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের সুরক্ষা পরিকাঠামো মজবুত করতে আধুনিক অগ্নি-নির্বাপণ পরিকাঠামো ছাড়াও রানওয়ের ‘ইমার্জেন্সি অ্যাকসেস ওয়ে’ তৈরি করা হয়েছে। যাতে আপৎকালীন অবতরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা খুব কম সময়ের মধ্যে করা যায়। গত বছর বিমানবন্দরের মূল রানওয়ের দু’প্রান্তেই ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং প্রযুক্তি বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ট্যাক্সিওয়ে সম্প্রসারণের ফলে বিমানের ওড়ার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় কমেছে। আধুনিক এটিসি টাওয়ার চালু হওয়ার ফলে আকাশে বিমানের অপেক্ষার সময়ও কমেছে।

বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়েটি (সেকেন্ডারি) আরও ভাল ভাবে ব্যবহারের লক্ষ্যে সেটির এক প্রান্তের উপরের আবরণ সম্পূর্ণ তুলে ফেলে নতুন করে তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে রানওয়ের ঘর্ষণ-মাত্রা ঠিক থাকবে এবং সব রকম আবহাওয়াতেই ওই রানওয়ে ব্যবহার করা যাবে। মেরামতি কিংবা অন্য কোনওকারণে মূল রানওয়ে বন্ধ থাকলে প্রতিকূল আবহাওয়া দ্বিতীয় রানওয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে উঠবে না। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিমানবন্দরে কাউন্টারের সংখ্যা বাড়ানো ছাড়াও পুরনো সাইনেজ বদলে সেই জায়গায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের উপরে জোর দিচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

বিমানবন্দর সূত্রের খবর, ২০১৩-’১৪ সালে কলকাতা বিমানবন্দরে যেখানে বছরে ৯২ হাজার ২০০টি বিমান ওঠানামা করেছে, প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে সেই সংখ্যাই এখন এসে ঠেকেছে ১ লক্ষ ৪২ হাজার ২৬০-এ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Netaji Subhas Chandra Bose International Airport Kolkata Airport

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy