কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছর দরপত্র ডেকে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। আর তা নিয়েই বিবাদ। ‘নিজেদের লোক’ ছাড়া অন্য কাউকে দরপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না বলেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘ভয় দেখানো’র অভিযোগও করছেন কেউ কেউ। আর তা নিয়েই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গন্ডগোল বাধতে দেখা গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের কাছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই। এত দিন ছাত্র সংসদই বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজো করত। এ বার পুজোর আয়োজনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দরপত্র ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। যাতে গন্ডগোল না হয়। আলপনা আঁকা থেকে ভোগ, এ বার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবেরই দায়িত্ব ই-দরপত্রের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। এই দরপত্র নিয়েই তৃণমূলের ছাত্র সংসদ ও অন্য পক্ষের বিবাদ বাধে বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ই-দরপত্র ছাড়া হয়েছিল দু’দফায়। সরস্বতী পুজোয় ছাত্রছাত্রীদের খাওয়ানোর কথা— গোবিন্দ ভোগ চালের খিচুড়ি, আলুর দম, বেগুনি, পাঁপড় ভাজা, আমসত্ত্ব ও খেজুরের চাটনি, নলেন গুড়ের একটি রসগোল্লা। তার আয়োজন করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি ই-দরপত্র ডেকেছিলেন। কলেজ স্ট্রিট-সহ পাঁচটি ক্যাম্পাসে সরস্বতী পুজোর মণ্ডপ তৈরি, সাজসজ্জা, আলপনা দেওয়ার রং-তুলি জোগানোর জন্যও আলাদা দরপত্র ডাকা হয়। তা নিয়েই বচসা। যখন বৈধ ছাত্র সংসদ ছিল, তখন কর্তৃপক্ষ পুজো করার জন্য অর্থ দিতেন সেই সংসদের পদাধিকারীদের। এ বার কারও হাতে টাকা না-দিয়ে পাঁচটি ক্যাম্পাসের সরস্বতী পুজো আয়োজনে রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাসের স্বাক্ষরিত দু’টি ই-দরপত্র প্রকাশ করা হয়েছে।